প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৪ ২২:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৪ ০১:২৮ এএম
কোচ জাবি আলোনসো
বায়ার লেভারকুসেনের স্বপ্নিল অজেয় পথচলা থামিয়ে দিল আতালান্তা। ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা অপরাজিত থাকার ‘ফিফটি’ হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছে ক্লাবটি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! ৫২তম ম্যাচে এসে হজম করতে হলো হারের তেতো স্বাদ।
ইউরোপা লিগের ফাইনালে বুধবার রাতে কোচ আলোনসোর লেভারকুসেনকে ৩-০ গোলে ধসিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আতালান্তা। এ জয়ে ইতালিয়ান ক্লাবটির ছয় দশকের শিরোপা খরা কেটেছে। তবে ভেঙে গেছে লেভারকুসেনের অপরাজেয় থেকে ‘ট্রেবল’ জয়ের ইতিহাস গড়ার অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন।
লেভারকুসেন বুন্দেসলিগার শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখেই। নিজেদের ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার লিগ শিরোপা জয়ের ইতিহাস রচনা করেছে ক্লাবটি। দলটির সামনে এখন কেবল জার্মান কাপ জয়ের সুযোগ।
কিন্তু ট্রেবল জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করার কষ্টটা কোচ আলোনসোর ভেতরটা যেন কুরে কুরে খাচ্ছে, ‘৫২তম ম্যাচে এসে পরাজয়টা স্বাভাবিক কিছু নয়। স্বাভাবিক ব্যাপার হলো, মৌসুমের শুরুর দিকেই হেরে যাওয়া। অথচ সেই পরাজয়টি এলো এমন এক ম্যাচে, এটিই কষ্ট দিচ্ছে। আমরা এই মৌসুম যা অর্জন করেছি, তা ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ এবং তা নিয়ে খুবই গর্বিত হওয়া উচিত আমাদের। তবে আজকের রাতটি যন্ত্রণাময়।’
পুরো মৌসুমজুড়ে লেভারকুসেনের যে ফুটবলাররা দ্যুতি ছড়ালেন। সেই তারাই ফাইনালে এসে খেই হারিয়ে ফেললেন। মৌসুমের আলোচিত কোচ আলোনসোর রণকৌশল ঠিক যেন পাত্তাই পেল না আতালান্তার কোচ জান পিয়েরো গাসপেরিনির পরিকল্পনার কাছে।
নিজের সেই ব্যর্থতার দায় অকপটে স্বীকার করে নিলেন এ স্প্যানিশ ফুটবল গুরু, ‘মানসিকতার কারণে এই পরাজয় নয়, ব্যাপারটি ফুটবলীয়। এ রকম হয়েই থাকে, এটা ফুটবল। আজকের দিনটি আমাদের ছিল না। ওরা আমাদের চেয়ে ভালো ছিল আজকে। আজকে বড় একটি সুযোগ ছিল আমাদের জন্য। কিন্তু সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। আমরা নিজেদের সেরা পর্যায়ে ছিলাম না।’
লেভারকুসেনের সামনে এখন জার্মান কাপের শিরোপা জয়ের হাতছানি। শনিবার রাতের ফাইনালে প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল কাইসারস্লটার্ন। কিন্তু ইউরোপা লিগের ফাইনালের হারের ধকল কাটিয়ে আরেকটি ফাইনাল জয় করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ও কষ্টসাধ্য।
কোচ আলোনসো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ‘আমরা শিখব। আমরা এখান থেকে শিখব, কারণ ফাইনালে এ রকম হার, এসব ম্যাচকে ভোলা যায় না। আমাদের জন্য এটা একটা পরীক্ষা যে, আমরা কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাব, শনিবার আরেকটি বড় ফাইনাল আমাদের অপেক্ষায়। আজকের হার থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং এই পরাজয়ের বেদনা কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য হবে চ্যালেঞ্জিং। চেষ্টা করে দেখা যাক, শনিবারের ফাইনালের জন্য আমাদের মানসিকতায় বড় প্রভাব পড়ে কি না।’