কাউন্টডাউন : টি-২০ বিশ্বকাপ
আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৪ ১৬:১১ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৪ ১৬:৪৩ পিএম
শুরুতে চারটি দেশের নাম বলা যাক—নেপাল, আফগানিস্তান, চেক রিপাবলিক ও মালয়েশিয়া। এদের মধ্যে ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত নাম আফগানিস্তান। নেপালে এক সন্দ্বিপ লামিচানে আলোচনায়। মালয়েশিয়া ও চেক রিপাবলিকেও যে ক্রিকেট হয়, তা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ক্রিকেটপ্রেমীদের। অথচ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিং রেকর্ডবুকে জ্বল জ্বল করছে এই দলগুলো। তাদের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পেছনে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ব্যাটিংয়ের সেরা একশ ইনিংসেও নেই বাংলাদেশ!
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস নেপালের। গত বছর রোহিত পাউডেলের ১৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৩১৪ রান তোলে রেকর্ডধারীরা। জবাবে ৪১ রানে ধসে পড়ে মঙ্গোলিয়া। এই ফরম্যাটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আফগানিস্তানের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২৭৮ রান করে দলটি। চেক রিপাবলিকের সমপরিমাণ রান তুরস্কের বিপক্ষে। দশ রান কম মালয়েশিয়ার। পঞ্চম স্থানটি অবশ্য ইংল্যান্ডের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৬৭ রান তোলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পথচলা শুরু। যাত্রাটা ১৯ বছরের। এরই মধ্যে টাইগাররা খেলেছে ১৬৭ ম্যাচ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূল সুরে গান গাইতে পারছে না টাইগাররা। এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের একশ ইনিংসেও নেই বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে লাল-সবুজ দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২১৫ রান। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এসেছিল এই স্কোর। দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ২০১১। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বৈশ্বিক আসরেও বাংলাদেশের অবস্থান নড়বড়ে। ২০০৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টি-টোয়েন্টির ৮টি সংস্করণেই অংশ নিয়েছে টাইগাররা। অথচ দলীয় সংগ্রহকারীদের তালিকায় তাদের অবস্থান ৫৭। ২০২১ বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ১৮১ রান তুলেছিল তারা। অষ্টম সংস্করণের আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮০। ষষ্ঠ আসরে ওমানের বিপক্ষে তারা এই রান তোলে। বলা বাহুল্য আজ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুশ রানের নাগাল পায়নি বাংলাদেশ।
আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দোরগোড়ায়। আলোচনায় দল পর্যালোচনা, দলীয় ও ব্যক্তিগত ইনিংস। পরিসংখ্যান বলছে, ইনিংসের মতোই সিংহভাগ জায়গায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির তালিকায় অন্য খেলোয়াড়দের ধারেকাছে নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অংশগ্রহণকারী ২০ দলের অধিনায়কদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটে ১৯তম বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।
এত দিন টি-টোয়েন্টিতে পৌনে দুশ রান যথেষ্ট মনে করা হলেও আধুনিক টি-টোয়েন্টি সাক্ষ্য দিচ্ছে এই রান মোটেও নিরাপদ নয়। বিশেষত, বর্তমানে টি-টোয়েন্টি হয়ে উঠেছে বোলারদের জন্য অলিখিত মরণফাঁদ। এখানে রাজত্ব ব্যাটারদের। দর্শক টানতে এবং খেলাটি আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ফ্ল্যাট উইকেট এবং সীমানা ছোট করে আনা হয়। সেটার সুফল পাচ্ছে ব্যাটাররা, বড় হচ্ছে ইনিংস। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ৮টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে, স্থান-কাল-ভেন্যু পরিবর্তনের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বেড়েছে ব্যাটারদের আগ্রাসী মনোভাব। অথচ প্রতিবারই একই গ্রাফে (১৫০-১৮০ রান) আটকা বাংলাদেশের স্কোর। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং যে মোটেও আশা জাগানিয়া নয়, তা বলাই বাহুল্য।