ফেড কাপ ফাইনাল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ২১:১১ পিএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৪ ২২:১২ পিএম
হারের পর হতাশ মোহামেডানের ফুটবলাররা। ছবি : আ. ই. আলীম
শুরুর সাবধানী ফুটবলের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। চাপ ধরে রেখে বসুন্ধরা কিংসের জালে জড়ায় বল, খেলায় প্রথমে লিড নেয় সাদা-কালোরা। কিন্তু অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে বাজিমাত করে অস্কার ব্রুজোনের দল। জিতে নেয় ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। স্বাধীনতা কাপ, লিগ কাপ, এরপর ফেডারেশন কাপের ট্রফি জিতে শেখ রাসেলের পর দেশের দ্বিতীয় দল হিসেবে কিংস জেতে ঘরোয়া ট্রেবল। তীরে এসে তরী ডোবার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রতিযোগিতার ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান।
ময়মনসিংহের রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে বুধবার (২২ মে) রোমাঞ্চকর ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় কিংস। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমানুয়েল সানডের গোলে লিড নেয় মোহামেডান। পিছিয়ে পড়ার পর কিংসকে সমতায় ফেরান মিগেল ফিগেইরা দামাশেনো। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার জাহিদ হোসেন।

বলের নিয়ন্ত্রণে শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার করে কিংস। নিজেদের রক্ষণ জমাট রেখে সুযোগ সন্ধানী মোহামেডান দিয়েছে পাল্টা জবাব। খেলায় প্রথম ভালো আক্রমণের দেখা মেলে ২৫ মিনিটের মাথায়। কিংসের রাকিব হোসেনের দারুণ থ্রু বলে দোরিয়েলতন গোমেস নাসিমেন্তো টোকা দিয়েছিলেন, তবে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক হোসেন সুজন কোনোমতো পা দিয়ে আটকান বল। কিংসের আক্রমণ সামলে গুছিয়ে ওঠে মোহামেডান। দারুণ সুযোগও তৈরি করে সাদা-কালোরা। ৪১ মিনিটে সুলেমানে দিয়াবাতেকে বল বাড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এমানুয়েল সানডে। অধিনায়কের ফিরতি পাসে তার নেওয়া শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বেরিয়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। খানিক বাদে দিয়াবাতের শট আটকান কিংসের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পরও ছন্দ ধরে রাখে মোহামেডান। মূলত শাহরিয়ার ইমন বদলি হিসেবে নামায় ঘুরে যায় ম্যাচের প্রেক্ষাপট। একপেশে আক্রমণে কিংসের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে তোলে সাদা-কালোরা। সেটির ফল মেলে ৬২তম মিনিটে। কয়েকজনকে কাটিয়ে বাম পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন এমানুয়েল সানডে। ১-০ গোলে লিড নেয় মোহামেডান। ৫ মিনিট পর সমতায় ফিরতে পারত কিংস। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করেন বোবুরবেক। ৭৭ মিনিটে দোরিয়েলতনের শট কোনোমতো দুই পায়ে আটকে কিংসকে হতাশা উপহার দেন সুজন। ৮২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দিয়াবাতের শট শ্রাবণ আটকে দিলে মোহামেডানের লিড দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়। এরপর ৮৬ মিনিটে দামাশেনোর একক প্রচেষ্টার গোলে ম্যাচে ফেরে কিংস। পরে ১০৪ মিনিটে রবিনিয়োর দূরপাল্লার শট আঙুলের টোকায় কর্নার করে দেন সুজন। সেই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় কিংস। কর্নারে লাফিয়ে উঠে বল গ্লাভসে নিলেও জমাতে পারেননি সুজন। মাটিতে পড়ে যান তিনি, সামনে থাকা কিংসের জাহিদ আলতো টোকায় জালে বল জড়িয়ে দেন। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কিংস। এই গোল নিয়েই উত্তাপ ছড়ায়।

ফাউলের দাবি এবং তা না মানায় মোহামেডানের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে যান। রিপ্লেতে দেখা যায়, সুজন লাফিয়ে ওঠার সময় বোবুরবেক ও দিয়াবাতেও কিছুটা লাফিয়ে উঠেছিলেন, সে সময় কিংস ডিফেন্ডারের পুশ ছিল দিয়াবাতের পিঠে। কিন্তু মোহামেডানের ফাউলের আবেদন আমলে নেননি রেফারি জসীম আখতার। এদিন তার আরও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলে মোহামেডান। ম্যাচ শেষে আলফাজ আহমেদ বলেছেন, ‘‘প্রথম হলুদ কার্ড পাওয়ার পরে তিনটা ফাউল করেছে (বিশ্বনাথ), তাও কার্ড দেয়নি। তাহলে আপনি কীভাবে খেলবেন? এত সাপোর্ট করলে কি খেলা যায়?’ গোলরক্ষক সুজনের দাবি বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ বোবুরবেকের ধাক্কা, ‘রেফারি শুরুতে ফাউলের বাঁশি বাজাতে গেছে, যেই দেখছে গোল, তখন দুই সেকেন্ড পর গোলের বাঁশি বাজিয়ে দিয়েছে। তাদেরই জিজ্ঞেস করেন (নিয়ম)…. গোলকিপারের গায়ে হালকা টাচ লাগলেই ফাউল, আমার নাকি কারও টাচই লাগে নাই। টাচ না লাগলে আমি পড়ে গেলাম কীভাবে?’