প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ২০:২০ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৪ ২০:৩৪ পিএম
কার্ল-হেইঞ্জ স্নেলিঙ্গার। সংগৃহীত ছবি
জার্মানিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গাড়ির ব্র্যান্ড ‘ভক্সওয়াগন’। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার সুঠাম দেহের অধিকারী এক জার্মান ফুটবলারের ডাকনামও ছিল সেটা। যিনি খেলতেন ডিফেন্ডিং পজিশনে। লেফটব্যাক, ফুলব্যাক, সেন্টারব্যাক, সুইপার, এমনকি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডেও তার জুড়ি মেলা ভার। কড়া ট্যাকলে নজর কাড়তেন। খুব কমই পারফরম্যান্স ওঠানামা করত। তাই লোকে আদর করে তাকে ডাকত ভক্সওয়াগন নামে।
জার্মান ফুটবলের সেই ভক্সওয়াগনের পথচলা থামল মঙ্গলবার (২১ মে) মিলানের একটি হাসপাতালে। ৮৫ বছর বয়সে মারা গেছেন জার্মানির হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলা কার্ল-হেইঞ্জ স্নেলিঙ্গার। তার মেয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সহায়ক প্রতিষ্ঠান এসআইডিকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
নিজের সেরা সময়ে পরিপূর্ণ লেফটব্যাকদের একজন ছিলেন স্নেলিঙ্গার। ইতালির জিয়াচিন্টো ফাচেত্তি, ব্রাজিলের নিল্টন স্যান্টোস ও আর্জেন্টিনার সিলভিও মারজোলিনির সঙ্গে তার তুলনা হতো। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা সাবেক এই লেফটব্যাকের মৃত্যুতে সামাজিকমাধ্যম ‘এক্স’-এ শোক জানিয়ে তার সাবেক ক্লাব এসি মিলান লিখেছে, ‘কার্ল-হেইঞ্জ স্নেলিঙ্গার, মিলানের হয়ে ইতালি, ইউরোপ ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আজতেকা স্টেডিয়ামে জিয়ান্নি রিভেরার সঙ্গে শতাব্দীর সেরা ম্যাচে মূল ভূমিকায় ছিলেন কার্লেতো দেল পারন (স্নেলিঙ্গার)। কার্ল ছিল অবিস্মরণীয়, অবিস্মরণীয়। মিলান ও মিলানের সমর্থকদের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
মিলানের জার্সিতে ৩৩৪ ম্যাচ খেলার পর ১৯৭৪ সালে জার্মানিতে ফিরে যান স্নেলিঙ্গার। সেখানে টেনিস বরুসিয়া বার্লিনে এক মৌসুম খেলে অবসর নেন। ইতালিতে ‘কার্লো এল বায়োন্দো’ (কার্ল দ্য ব্লন্ড) নামে পরিচিত ছিলেন স্নেলিঙ্গার। ক্যারিয়ার শেষ করে ইতালিতেই বসবাস করতেন তিনি। গত মার্চে নিজের ৮৫তম জন্মদিনে জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএকে বলেছিলেন, ‘জার্মানিতে নিজেকে ভিনদেশি মনে হয়, ইতালিতেও।’
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে মিলানের হয়ে ইউরোপিয়ান কাপজয়ী স্নেলিঙ্গার ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৪-২ গোলে হেরেছিল তার দল তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি। খেলেছেন এর আগে দুটি (১৯৫৮, ১৯৬২) এবং পরে আরও একটি বিশ্বকাপেও (১৯৭০)। জার্মানির হয়ে খেলা তার ৪৭ ম্যাচের ১৭টিই বিশ্বকাপে। জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের একমাত্র গোলটি করেছেন ৭০ বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক এক ম্যাচে।