প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪ ২০:১০ পিএম
আজ কাবাডি ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা —ছবি: আ. ই. আলীম
ক্রিকেট থেকে বিদায়ের আগে
জড়িয়েছেন রাজনীতিতে। সফল হয়েছেন। টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছেন এমপি। জাতীয় সংসদের হুইপ
তিনি। দায়িত্বে আছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েও। ব্যস্ততায় ক্রিকেটের সঙ্গে বেড়েছে
দূরত্ব। তবে ক্রীড়ার সঙ্গেই আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।
সোমবার অলিম্পিক ভবনে কাবাডি ফেডারেশনের
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেম ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি।
আগামী ২৬ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে অলিম্পিক
ও ক্রিকেট নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। মাশরাফির মতে,
ক্রিকেট বিশ্বকাপের চেয়ে অলিম্পিক বড়। বলেছেন, ‘আমরা যদি অলিম্পিকে একটা পদক জিততে
পারি, সেটি হবে বড় ঘটনা। ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জেতার চেয়েও অলিম্পিকে একটা পদক জয় বড় ব্যাপার।’
কাবাডি ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনের
পর দ্বিতীয় দফায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মাশরাফি। সেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং
ক্রিকেটীয় ভাবনা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন। বলেছেন, ‘কাবাডি ফেডারেশন ডাকে, আমি
আসি। আমি যেকোনো খেলাতেই যাব। অন্য খেলারও গুরুত্ব আছে। আমি সব খেলার পক্ষে। আপনারাই
(গণমাধ্যম) ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দেন, এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। আমার মতে সব খেলাকেই
সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাশা
নিয়ে মাশরাফি জানান, ‘নেপাল-নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারার চিন্তা করলে তো কঠিন। দক্ষিণ
আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার একটা... দুইটাই নয় কেন? দুই দলকেই হারানোর চিন্তা করা যেতে পারে।’
অষ্টম টি-২০ বিশ্বকাপে ভালো
ক্রিকেট খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের পর বড় ম্যাচ জয়ের রেকর্ড
নেই। তারপরও দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসুক এই প্রত্যাশা মাশরাফির, ‘বাংলাদেশ কতদূর যাবে বলতে
পারব না। অবশ্যই চাইব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরুক। তবে বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে হবে। ওখানে কেমন
খেলছে, উইকেট-কন্ডিশন কেমন, দল কেমন, কেমন ফর্মে আছে। প্রথম রাউন্ড পার করলে একটা ধারণা
হবে।’
এ সময় সাবেক দুই সতীর্থ সাকিব
আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রসঙ্গে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেছেন, ‘সাকিবকে নিয়ে আলাদা
করে বলার কিছু নেই। তার কাছে সেরা পারফরম্যান্স আশা করব। রিয়াদ তো খেলছেই, ফিরে আসার
কী আছে! রিয়াদ আগেও এমনই খেলত।’
ক্রিকেট ও ফুটবল বাদে দেশের
অন্য খেলোয়াড়দের আর্থিক অবস্থা দুর্বল। অন্য ফেডারেশনগুলোও খেলোয়াড়দের সেভাবে আর্থিক
সহায়তা করতে পারে না। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা রাখতে পৃষ্ঠপোষকদের ভূমিকা অনেক। এ
ইস্যুতে মাশরাফি বলেছেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড চলে স্পন্সরে। অন্য খেলাতে স্পন্সররা এগিয়ে
আসছে না। সবার এগিয়ে আসা উচিত। ফেডারেশনগুলোকেও স্পন্সর খুঁজতে হবে। দেশের খেলাধুলার
উন্নতিতে অবশ্যই তৃতীয় একটা পক্ষের প্রয়োজন। স্পন্সররা হচ্ছে সেই তৃতীয় পক্ষ। তাদের
এগিয়ে আসা উচিত।’