লেভারকুসেন টু নেভারলুজেন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪ ০৯:৫৯ এএম
শিরোপা জিততে খাবি খাওয়া লেভারকুসেন এবার তিনটি ট্রফি জেতার সামনে
হুট করে আকাশ-পাতাল বদলে গেল বায়ার লেভারকুসেন। এক বছর আগেও যে দলটি হারতে হারতে তিক্ত হয়ে পড়েছিল, সেই দলই অপরাজিত থাকা ডালভাত বানিয়ে বসেছে। গত মৌসুমে একের পর এক ম্যাচ হেরে লেভারকুসেন যখন খাদের কিনারে, আপত্কালীন কোচ হয়ে তখন আসেন জাবি আলোনসো। এসেই চমক, তলানির দিকে থাকা দল লিগ শেষে থামে ছয় নম্বর স্থানে। এবার তো রূপকথাই রচনা করে বসেছেন জাবি। তার জাদুকাঠির ছোঁয়াতে বদলে গেছে গোটা ক্লাব। শিরোপা জিততে খাবি খাওয়া লেভারকুসেন এখন স্বপ্ন দেখছে ট্রেবল শিরোপার।
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বুন্দেসলিগা জিতেছে লেভারকুসেন। তাও ক্লাবটির ইতিহাসের ১২০ বছরে প্রথমবার। যেনতেনভাবে নয়, মোটা দাগে দাপট দেখিয়ে। ম্যাচের শেষ সময়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে এসেছে বহু জয় কিংবা সমতা। বুন্দেসলিগায় সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সব মিলিয়ে তাই কোনো ম্যাচে হারেনি লেভারকুসেন। তা হোক লিগের, ইউরোপায় কিংবা জার্মান কাপে— কোথাও হারের তিক্ত স্বাদ পায়নি জাবির দল। প্রতিপক্ষের ওপর স্রেফ ছড়ি ঘুরিয়ে বুন্দেসলিগার ৩৬ ম্যাচের ৩৪টিতেই জিতেছে। তাতেই থেমেছে বায়ার্ন মিউনিখের একক আধিপত্য। জাবির শিষ্যদের সামনে আরও দুটি শিরোপার হাতছানি— জার্মান কাপ ও ইউরোপা লিগ। ক্লেইসারস্লটার্মের বিপক্ষে ২৬ মে জার্মান মুকুট দখলের লড়াই, এর আগে ইউরোপের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে আটালান্টার বিপক্ষে ২৩ মে নামবে জাবির শিষ্যরা। এই দুই ফাইনালেও জয়যাত্রা অব্যাহত থাকলে আরেকটি ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে। তবে হারে তিক্ত হওয়া দলটি এভাবে কীভাবে বদলে গেল— বড় কোনো খেলোয়াড় তো দলে আসেনি, তাহলে?
লেভারকুসেনের রক্ষণের তারকা জোনাথন টাহ্ তাদের বসকে টেনেছেন উত্তরে। টাহ্ মনে করেন, দলের বাকি সবার তো বটে পুরো বিশ্বের মত থাকবে আলোনসোর কোর্টে। আলোনসোর হাত ধরে এমন সাফল্য কীভাবে এসেছে, টাহ্-এর মতে, ‘আলোনসো দুর্দান্ত একজন কোচ। ট্যাকটিক্যালি এবং ব্যক্তি— দুই দিক থেকেই। এ কারণেই আমরা এতটা সফল।’
লিগ শিরোপা পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছিল লেভারকুসেন। রবিবার রাতে অগসবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল শিরোপা নিয়ে উদযাপনে মাতার। সেই ম্যাচে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে জাবির শিষ্যরা, ধরে রেখেছে বুন্দেসলিগায় অপরাজিত যাত্রা। কমপক্ষে ৩০টি ম্যাচের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের চতুর্থ ক্লাব হিসেবে অপরাজিত থাকল লেভারকুসেন। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লেভারকুসেন অপরাজিত ৫১টি ম্যাচ। ইউরোপের প্রথম সারির কোনো লিগে এমন নজির নেই।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে অন্তত ৩০ ম্যাচের মৌসুমে অপরাজিত থাকার (ইনভিনসিবল) চতুর্থ ঘটনা এটি। একবিংশ শতাব্দীতে তৃতীয়। খেলার জগতে ‘ইনভিনসিবল’ শব্দটা বললে সবার আগে মনে পড়ে আর্সেন ওয়েঙ্গারের সেই কিংবদন্তি আর্সেনাল দলের কথা। ২০০৩-০৪ মৌসুমে ৩৮ ম্যাচের প্রিমিয়ার লিগে কোনো ম্যাচ না হেরে শিরোপা জিতেছিল আর্সেনাল।
একবিংশ শতাব্দীতে শীর্ষ পাঁচ লিগে অপরাজিত থেকে লিগ জেতার রেকর্ড ছিল আর একটিই। ২০১১-১২ মৌসুমে সেই কীর্তি গড়েছিল জুভেন্টাস। এবার ইনভিনসিবল লেভারকুসেনের সামনে ট্রেবলের হাতছানি। জাবি আলোনসো তো বাজি ধরেই বসে আছেন, ‘এখনও সবকিছু পাওয়া হয়ে যায়নি। দেখব, কত দূর যেতে পারি।’ সেরাদের সেই শেষটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে না খুব বেশি।