প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪ ২১:২০ পিএম
শিরোপা জিততে পারলে মুস্তাফিজ বড় খেলোয়াড় হতে পারবেন... সংগৃহীত ছবি
মুস্তাফিজুর রহমানের সরল স্বীকারোক্তি, ‘বড় ট্রফি জিততে না পারলে, বড় খেলোয়াড় হব কীভাবে!’ বাংলাদেশ দল সেই অর্থে এখনও বড় ট্রফি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতেনি। দেশের জার্সিতে প্রায় এক দশক কাটিয়ে দেওয়া মুস্তাফিজের আক্ষেপ সেখানেই। ক্যামেরার সামনে লাজুক হাসিতে ফিজ পরক্ষণে প্রত্যয় শুনিয়েছেন, ‘আগের চেয়ে ভালো করতে চাই।’ বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন ঘুরছে কাটার মাস্টারের মাথায়।
অভিষেক থেকেই চমক, মুস্তাফিজকে নিয়ে সেই থেকেই আলোচনার শুরু। সমালোচনাও কম হয়নি। তবে ফিজ ফিরেছেন সহজাত রূপেই। দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটের জার্সিই গায়ে চড়িয়েছেন। হয়েছেন দলের অন্যতম বোলার। বোলিংয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছেন অনেক দিন ধরেই। খেলেছেন আইপিএলসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে নামও কুড়িয়েছেন। কিন্তু আক্ষেপ ঘোচাতে পারেননি। কেননা দেশের জার্সিতে সেই অর্থে বড় কোনো অর্জন নেই তার ঝুলিতে। দেশের হয়ে এবার একটা কিছু করতে উন্মুখ হয়ে আছেন ২৮ বছর বয়সি এই বাঁহাতি পেসার। ফিজ নিজের পছন্দের ফরম্যাটকেই তাই বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের রবিবার প্রকাশ করা এক ভিডিওতে মুস্তাফিজ দৃপ্ত কণ্ঠে যা বলেছেন তার সারমর্ম, ‘চাপের মধ্যেই দেখা যাবে আসল ফিজকে।’
বিসিবির ‘দ্য রেড গ্রিন স্টোরি’তে ফিজ শুনিয়েছেন বেড়ে ওঠা, বোলিং অ্যাকশন এবং নিজের নাম বদল নিয়েও। কুড়ি কুড়ির ম্যাচগুলোই বেশি উপভোগ করেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার, কারণটা ঠিক বেশি চাপ বলেই। তার ভাষায়, ‘দেশের হয়ে খেলা সবসময় গৌরবের বিষয়। দেশের পতাকা যেখানে থাকে, সেখানে যে কারোরই খেলতে পারা ভালো লাগবেই। দেশের হয়ে খেলা সবসময়ই উপভোগ করি। আরও ভালো লাগার বিষয় হলো টি-টোয়েন্টি। কারণ এই ফরম্যাটটা খুবই চাপেরÑ এই কারণে ভালো লাগে আমার। আর এই চাপটা আমি অনেক উপভোগ করি।’ বিশ্বসেরাদের মঞ্চ আইপিএলেও দেখা গেছে সবচেয়ে চাপের সময়েই মুস্তাফিজকে ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক। ডেথ ওভার মানেই যেন ফিজের হাতে বল।
জাতীয় দলের হয়ে এখন অবধি ১৫ টেস্টে ৩১, ১০৪ ওয়ানডেতে ১৬৪ ও ৯৩ টি-টোয়েন্টিতে ১১০ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। মারকাটারি ফরম্যাটে বোলিং করেছেন ৭.৫৭ ইকোনমিতে। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছিলেন অবশ্য। বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ট্রফিও জিতেছেন, তবে লাল-সবুজের জার্সিতে সেই ট্রফি জয়ের সৌভাগ্য তার হয়নি। আর মুস্তাফিজের আক্ষেপটাও সেখানেই। তবে নিজের ভেতরে ভালো করার প্রণোদনা ঠিকই অনুভব করেন এই কাটার মাস্টার। নিজের ব্যাখ্যায় সেটিই শুনিয়েছেন ফিজ, ‘যখন কেউ বড় ট্রফি বা টুর্নামেন্টে জেতে, তাকেই বড় প্লেয়ার বলা হয়। সেই আক্ষেপ তো সব সময়ই রয়ে গেছে। ভালো করার শেষ নেই, চেষ্টা করব পেছনে (অতীতে) যা করছি, তার চেয়েও যেন আরও ভালো করতে পারি। আমরা কোনো বিষয়ে আটকে গেলে সাকিব ভাই-রিয়াদ ভাইদের কাছ থেকে জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
মুস্তাফিজ নামটা আসলেই এখন সামনে আসে আইপিএল। জমজমাট ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে নিয়মিত খেলে আসছেন ফিজ। রাখছেন নিজের ও দেশের মান। টাইগার পেসার কথা দিয়েছেন, বড় আসরে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাকি সবার সাথে শেয়ার করবেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদদের সঙ্গে টাইগার বোলিং বিভাগে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে ভূমিকা রাখতে হবে ফিজকেও। সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন কথা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিয়েছেন মুস্তাফিজ।
দ্য গ্রিন রেড স্টোরিতে সবশেষে নিজের সম্পর্কে বলেছেন টাইগার পেসার, বোলিং স্টাইল, অভিজ্ঞতা এবং শুরুর গল্পও সাবলীলভাবে শোনান। সংক্ষিপ্ত ‘ফিজ’ নামটা কীভাবে এলো সেটাও জানান মুস্তাফিজ, ‘আমাদের যে বোর্ডটা আছে ফিল্ডিং সেশন বা বোলিং সেশনে সবার নাম থাকে যেখানে, সেখানে আমার নাম পুরোটা লিখলে অনেক বড় হয়ে যায়। এজন্য দেখি ফিজ দিয়ে (লেখা), প্রথম দিন বুঝিনি যে এটা কে। পরে বলছে এটা তুমি। তারপর আমি আইপিএলে খেলতে গেছিলাম ২০১৬-তে, ওখানেও ফিজটা পপুলার হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে চলছে...।’
২০১৫ সালে হুট করেই দলে আসা মুস্তাফিজও এগিয়ে চলে দেশের জার্সিতে এক-দুই ম্যাচ করে দুইশ ছাড়িয়ে গেছেন। দেশে এবং দেশের বাইরে বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। এবার বড় খেলোয়াড় হওয়ার আক্ষেপ মেটানোর মিশন মুস্তাফিজের।