দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৪ ২০:০৮ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৪ ২০:২০ পিএম
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আগেভাগেই দল ঘোষণা করে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। সবকিছু ঠিকই ছিল, কিন্তু ঝামেলা বাঁধে তারপরই। দলে অন্তত দুজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারকে রাখার নিয়ম সিএসএ বোর্ডের। যদিও ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঘোষিত দলে কেবল একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদা। আরেকজন আছেন লুঙ্গি এনগিডি। তবে কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে না পড়লে তাকে রিজার্ভ খেলোয়াড় হিসেবেই থাকতে হবে। দলে অন্তত দুজন কৃষ্ণাঙ্গ না থাকায় এখন বিপাকে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড। এবার এই নিয়মের ধার ধারেনি দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ড। যা নিয়ে সম্প্রতি নির্বাচকদের সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী ফিকিল এমবালুলা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আইসিসির সাবেক সভাপতি রে মালি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে সাদা-কালো সংঘাত নতুন নয়। দীর্ঘসময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে শ্বেতাঙ্গদের দাপট ছিল একচেটিয়া। যোগ্য হলেও জাতীয় দলে মিলত না কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারদের ভাগ্য। বর্ণবৈষম্যের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন নির্বাসিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল দেখে দেশটির ক্রিকেট সমর্থকদের একাংশের প্রশ্ন—দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কী আবার সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যাচ্ছে? দেশটির ক্রিকেটে অলিখিত নিয়ম হচ্ছে- প্রথম একাদশে অন্তত দুজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার রাখতে হয়। এ ছাড়া চারজন মিশ্র বর্ণ ও পাঁচজন শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেটার নিয়ে দল সাজানোর নিয়ম। সেই নিয়ম মোতাবেক বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেজা হেনড্রিকস, কেশব মহারাজ, বিজর্ন ফরচুন, তাবরাইজ শামসি ও ওর্টনেইল বার্টম্যানকে রেখেছে সিএসএ। তবে সব ম্যাচেই এভাবে প্রথম একাদশ তৈরির বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো ম্যাচে বা প্রতিযোগিতায় মানা না গেলে পরবর্তী সময় এই ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পদক্ষেপ করতে হয়। মৌসুম শেষে ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের ২-৪-৫ অনুপাত হিসেব করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে সিএসএ বিষয়টিকে লিখিত নিয়মের আওতায় নিয়ে আসে।
বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে ক্ষুব্ধ এমবালুলা বলেছেন, ‘মনে হয় আমরা আবার পেছনের দিকে হাঁটতে শুরু করেছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ঘোষিত দলটি সব মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করছে না।’
সমালোচনা করেছেন মালিও, ‘বিশ্বকাপের দল গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি। শুধু ক্রিকেটের ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি। বুঝতে পারছি না দলে কেন একজনের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার নেই।’ তাদের সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের কোচ রব ওয়াল্টার, ‘সময় পাল্টেছে। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটা চ্যাম্পিয়ন দল তৈরি করা। যে দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে গর্বিত করবে। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সেরা দল বেছে নিতে হয়েছে। যে দলের সম্ভাবনা বেশি, তেমন দলই নির্বাচন করা হয়েছে।’