প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ২৩:২২ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৪ ২৩:২৮ পিএম
সুনীল ছেত্রী
বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন সুনীল ছেত্রী। আগামী ৬ জুন কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কুয়েতের বিপক্ষে ভারতের অধিনায়ক মাঠে নামবেন শেষবার। আজ বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় ছেত্রী মন খারাপ করা এই ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ভারতীয় অধিনায়কের।
ভাইচুং ভুটিয়ার বিদায়ের পর ছেত্রীই হয়ে ওঠেন ভারতীয় ফুটবলের পোস্টারবয়। ফুটবলকে তার না বলা মানে একটি অধ্যায়ের শেষ! বিশ্বের বর্তমান সক্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের মালিক ছেত্রী। ১৫০ ম্যাচ খেলে তার গোল এখন ৯৪টি।
তার আগে রয়েছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ী লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর ১৮০ ম্যাচে করেছেন ১০৬ গোল। ২০৫ ম্যাচে খেলে ১২৮ গোল পেয়ে সবার ওপরে রয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারে ভারতের ৬ বারের বর্ষসেরা ফুটবলার ছেত্রী ২০১১ সালে অর্জুনা অ্যাওয়ার্ড ও ২০১৯ সালে অর্জন করেন মর্যাদার পদ্মশ্রী। ভারতের জার্সিতে ২০০৮ সালে জেতেন এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ।
২০১১ ও ২০১৫ সালে ছেত্রী ছিনিয়ে নেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্ব। তার সঙ্গে ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১২ সালে নেহরু কাপ এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে জেতেন শিরোপা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেত্রী বলেন, ‘আমি (আগে) কখনও ভাবিনি যে দেশের হয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলেছি। এরকম-ওরকম করেছি, সেটা ভালো হোক বা মন্দ। কিন্তু এখন আমি ভেবেছি। মাস দুয়েক ধরে আমি সেটাই ভেবে চলেছি। বিষয়টা খুব অদ্ভুত ছিল। এই ম্যাচটা যে আমার শেষ ম্যাচ হবে, সেই সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম বলেই আমি সম্ভবত বিষয়টা নিয়ে ভাবছিলাম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি যখন নিজেকে বলি যে এটাই আমার শেষ ম্যাচ হবে, তখন আমার সব স্মৃতি মনে পড়ছিল। কী অদ্ভুত ছিল বিষয়টা। এই ম্যাচটার কথা ভাবছিলাম। এই কোচের কথা ভাবছিলাম, ওই কোচের কথা ভাবছিলাম। এই টিমটার কথা ভাবছিলাম, ওই কথা ভাবছিলাম। এই মাঠের কথা ভাবছিলাম, ওই মাঠের কথা ভাবছিলাম।’
নিজের অভিষেক স্মৃতি স্মরণ করে আবেগতাড়িত ছেত্রী বলেন, ‘একটা দিন জীবনে কখনও ভুলতে পারব না। যেদিন দেশের জার্সি গায়ে প্রথমবার ভারতের হয়ে খেলতে নেমেছিলাম, অবিশ্বাস্য অনুভূতি। তবে তার আগেরদিন সকালে জাতীয় দলে আমার প্রথম কোচ সুখী স্যার (সুখবিন্দর সিংহ) এসে আমাকে জানিয়েছিলেন, প্রথম একাদশে আমি রয়েছি। বলে বোঝাতে পারব না সেই অনুভূতি কেমন ছিল। জার্সি প্রথম হাতে পাওয়ার পর তাতে কিছুটা সুগন্ধি ছড়িয়ে দিয়েছিলাম, জানি না কেন। সেদিন যা যা হয়েছিল, সকাল থেকে মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে কথাবার্তা, আমার মাঠে নামা এবং অভিষেক ম্যাচেই গোল, তারপর ৮০ মিনিটে গোল হজম করা, জাতীয় দলে আমার যাত্রা শুরুর প্রথম দিনের এই ঘটনাগুলো কখনই ভুলতে পারব না।’