কাউন্টডাউন : টি ২০ বিশ্বকাপ
আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ১৬:২৯ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৪ ১৬:৫৫ পিএম
বিশ্বকাপ আসে, যায়। লিপিবদ্ধ
হয় অজস্র রেকর্ড-গল্প। ১৬শ শতাব্দীতে মাঠে গড়ানো ক্রিকেট ধারে-ভারে-ঐতিহ্যে এখন বিশ্বের
অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। ব্যাট-বলের ক্রিকেট আরও চিত্তাকর্ষক করে তুলতে বদলে ফেলা হয়েছে
এর ফরম্যাট। যার আধুনিকতম সংস্করণ টি-টোয়েন্টি। আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে
পর্দা উঠছে কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপ। প্রায় দুই যুগের মেলবন্ধনের অপেক্ষায় নবম আসর।
২০ জাতির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
যতই ঘনিয়ে, আলোচনায়Ñ দল, খেলোয়াড়, পরিসংখ্যান। কথা হচ্ছে সম্ভাবনা-শক্তিমত্তা নিয়েও।
পর্যালোচনা-আলোচনা-সমালোচনার মাঝে চোখ এড়ায়নি ক্রিকেটারদের বয়সের ব্যাপারটি। নবম সংস্করণে
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বয়স্ক খেলোয়াড়কে দেখা যাবে। ঝড় তোলার অপেক্ষায় তরুণরাও। নবম সংস্করণে
সবচেয়ে কমবয়সি খেলোয়াড় গুলশান জা। নেপালের এই অলরাউন্ডারের বয়স ১৮ বছর ৮৯ দিন। সবচেয়ে
বেশি বয়সি ক্রিকেটার উগান্ডার ফ্রাঙ্ক এনসুবুগা। ৪৩ বছর ২৬২ দিন এই অলরাউন্ডারের। দুজনের
বয়সের পার্থক্য ২৫ বছর। দুই যুগকে এক সুঁতোয় বেঁধেছে এবারের বিশ্বকাপ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০২২
সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিষেক হয় গুলশানের। এখন পর্যন্ত ২৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। বোলিংয়ের
পাশাপাশি তিনি ব্যাট হাতেও সিদ্ধহস্ত। নেপালের তারুণ্যনির্ভর দলটিতে তার প্রভাবও ব্যাপক।
অভিষেকের পর থেকেই দলের নিয়মিত সদস্য গুলশান। ২৩ ইনিংসে তার ঝুলিতে ১৯ উইকেট। ব্যাট
হাতে করেছেন ৩৬২ রান। আছে ব্যক্তিগত অর্ধশতক। বৈশ্বিক ইভেন্টে এটি গুলশানের প্রথম যাত্রা।
আর ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া অভিজ্ঞ এনসুবুগা ১৯৯৭ সাল থেকে খেলছেন উগান্ডার হয়ে। মাঠে
নেমেছেন ৫৪ টি-টোয়েন্টিতে। ডানহাতি ব্যাটিংয়ে ৯.৮৭ গড়ে ১৫৮ রান করেছেন। আসন্ন বিশ্বকাপের
জন্য এখন পর্যন্ত ঘোষিত সব দল (পাকিস্তান বাদে) মিলিয়ে এনসুবুগাই সবচেয়ে বেশি বয়সি
ক্রিকেটার। তিনি পেছনে ফেলেছেন ওমানের মোহাম্মদ নাদিম ও নাসিম খুশিকে। তাদের উভয়েরই
বয়স ৪১ বছর।
গুলশান এবং এনসুবুগায়ের বয়সের
ব্যবধান দুই যুগের বেশি। এমনকি উগান্ডা অলরাউন্ডারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকেও গুলশানের
বয়স কম। প্রায় ২৫ বছর জাতীয় দলকে সার্ভিস দিচ্ছেন এনসুবুগাই। সাক্ষী দলের অসংখ্য উত্থান-পতনের।
ক্যারিয়ারের পড়ন্তকালে তার দল সুযোগ পেয়েছে বৈশ্বিক ইভেন্টে। নানা বাধা-বিপত্তি মাড়িয়ে
উগান্ডা যাচ্ছে মার্কিন ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপে। বিশ্বকাপে এনসুবুগাই হতে পারেন উগান্ডার
বাজির ঘোড়া। এমনটা হতেই পারে! কারণ এনসুবুগাই নিজেই একটি রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি সবচেয়ে
বেশি বয়সি ক্রিকেটার যে তিনিই। বিশ্বকাপ খেলার আগেই যার নাম সবার মুখে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড
ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রিত ফরম্যাটে তাকে আলাদা করে বিশ্ব চিনছে, এর চেয়ে বেশি পাওয়া
কি হতে পারে এনসুবুগাইয়ের!
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
এনসুবুগাই অর্থাৎ বেশি বয়সি ক্রিকেটারদের পাল্লাই ভারি। অধিনায়কদের তালিকায় ১২ জনের
বয়স ৩০-এর ওপরে। পাঁচজনের বয়স ২৫-৩০-এর মধ্যে। সবচেয়ে বেশি বয়সি অধিনায়ক কানাডার সাদ
বিন জাফর। ৩৭ বছর ১৮৮ দিন বয়স তার। আর কম বয়সি অধিনায়ক অবশ্য গুলশানদের। নেপালের অধিনায়ক
রহিড পাউডেলের বয়স ২১ বছর ২৫৬ দিন। বাংলাদেশের অধিনায়কের নাজমুল হোসেন শান্তর বয়স ২৫
বছর। লাল-সবুজ দলের সবচেয়ে বেশি বয়স মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের বয়স
৩৮ বছর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স সাকিব আল হাসানের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে
বেশি উইকেট সংগ্রাহকের বয়স ৩৭।