কাউন্টডাউন: টি ২০ বিশ্বকাপ
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ১৭:৩০ পিএম
আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ট্রাভিস হেড। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়, আর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা ফর্মে ফেরেন- এ যেন অজি ক্রিকেটেরই পরম্পরা। বিশ্বকাপের দামামা বেজে উঠলেই জ্বলে ওঠেন ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল দলটির খেলোয়াড়রা। এর ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক। তার আগে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছেন অজিরা। প্রতিপক্ষ দলগুলোকে বার্তা দিচ্ছেন- আমরা তৈরি।
আইপিএলে প্রায় সব মৌসুমেই বিদেশিদের কোটায় আধিপত্য অস্ট্রেলিয়ানদের। এবারও একঝাঁক অভিজ্ঞ আর তরুণ অজি ক্রিকেটার মাঠ মাতাচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে। দলের জয়ে অবদান রাখার পাশাপাশি যারা মূলত সারছেন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির। তাদের মধ্যে অন্যতম ট্রাভিস হেড। ভারতের ওয়ানডে বিশ্বকাপের নায়ক যেন দিনকে দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নিজেকে। আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতকে তুলোধুনো করা হেড এখন মনোযোগী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হচ্ছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের এই ব্যাটার।

চলতি আইপিএলে ১১ ম্যাচ খেলে ৫৩ দশমিক ৩০ গড়ে হেড করেছেন ৫৩৩ রান। তার ওপরে আছেন কেবল রুতুরাজ গাইকোয়াড ও বিরাট কোহলি। একটা জায়গায় আবার এগিয়ে ৩০ বছর বয়সি হেড। ২০১ দশমিক ৮৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি-গাইকোয়াডকে। চারশ ঊধ্ব রান সংগাহকদের তালিকায় স্ট্রাইকরেটের দিক থেকে সবার ওপরে হেড। তারপরই আছেন মার্কাস স্টয়নিস। তবে লখনৌ সুপার জায়ান্টসে ওপরের দিকে ব্যাট করার সুযোগ পান না এই অলরাউন্ডার। যখনই সুযোগ পেয়েছেন প্রমাণ করেছেন নিজেকে। ১২ ইনিংসে ৩৫ দশমিক ৫০ গড়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৫৫ রান; সঙ্গে দেড়শ ছাড়ানো স্ট্রাইকরেট। গত ২৩ এপ্রিল চেন্নাই সুপার কিংসের বেঁধে দেওয়া ২১১ রানের লক্ষ্যে প্রায় একাই জিতিয়েছেন দলকে। মুস্তাফিজুর রহমান, মাতিশা পাথিরানা ও রবিন্দ্র জাদেজাদের বিপক্ষে খেলেছেন ৬৩ বলে অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংস। এ ছাড়া কার্যকরী বোলিংয়ে দলকে প্রায় নিয়মিতই ব্রেক থ্রু এনে দিচ্ছেন অজিদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা এই অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন টিম ডেভিড। শর্টার ফরম্যাটের ক্রিকেটে বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবেই যার পরিচিতি। তার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবার ছন্দে নেই। তবে মন্দ করছেন না ডেভিড। ১৩ ইনিংসে দেড়শ ছাড়ানো স্ট্রাইকরেটে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৪১ রান। ফর্মে আছেন এই সময়ের অন্যতম আলোচিত ব্যাটার জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক। মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে আলো ছড়িয়ে যার সুযোগ মেলে দিল্লি ক্যাপিটালসে। দলটির হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই সব আলো টেনে নেন নিজের দিকে। লখনৌর বিপক্ষে সেদিন খেলেন ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। আসরে এরপর আরও তিন ম্যাচে দেখা পেয়েছেন ফিফটির। সব মিলিয়ে ৭ ইনিংসে ৪৪ দশমিক ১৪ গড়ে ম্যাকগার্কের উইলো থেকে এসেছে ৩০৯ রান। ব্যাটিং স্ট্রাইকরেট চোখ কপালে ওঠার মতোÑ ২৩৫ দশমিক ৮৭! যদিও এমন পারফরম্যান্সের পরও তার সুযোগ মেলেনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। তবে কারও বদলি হিসেবে সুযোগ মিললে তিনি যে প্রস্তুত, সেই বার্তা দিয়ে রেখেছেন এই তরুণ পাওয়ার হিটার।