কাউন্টডাউন: টি ২০ বিশ্বকাপ
নাজমুল হক তপন
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ০৮:৪৭ এএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ১১:২৫ এএম
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দল; ফাইল ছবি
উপমহাদেশের জয়বার্তা দিয়েই শুরু হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে ফাইনালে ওঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। ক্রিকেটের কোনো বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হয় এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০০৯ সালে পরের আসরে শিরোপার মহাদ্বৈরথে নামে উপমহাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম দুই প্রধান পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। মনে করা হচ্ছিল, ছোট সংস্করণের এই ক্রিকেটে রাজত্ব করবে উপমহাদেশের দলগুলো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ অঞ্চলের দলগুলোর গ্রাফটা ক্রম নিম্নমুখী। সর্বশেষ তিনটি আসরে শিরোপার নাগাল পায়নি উপমহাদেশের কোনো দল।
গত এক দশক চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই জনপদ। উপমহাদেশের সর্বশেষ দল হিসেবে ২০১৪ সালে শিরোপা জেতে শ্রীলঙ্কা। এরপর থেকেই যেন পেছনে হাঁটছে এই অঞ্চলের দেশগুলো। শিরোপা জয় তো দূরের ব্যাপার, ফাইনালে উঠতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে। ২০১৬ ও ২০২১ সালের টুর্নামেন্টে ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি উপমহাদেশের কোনো দল। ২০১৬ সালে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজে স্বাগতিক ভারতের। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারে ভারত। ২০২১ সালে আরব আমিরাতে আয়োজিত বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালের দর্শক বনে যায় উপমহাদেশের দলগুলো। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় দুই প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
সর্বশেষ ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত বিশ্বকাপে উপমহাদেশের গর্ব ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা জাগায় আনপ্রেডিক্টেবল বিবেচিত পাকিস্তান। সিডনিতে সেমির লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটর বড় ব্যবধানে হারায় বাবর আজমের দল। কিন্তু শিরোপার লড়াইয়ে সেই পাকিস্তানকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ক্রিকেটের তীর্থস্থান মেলবোর্নের ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৮ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান। সহজ টার্গেটে এক ওভার হাতে রেখে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। তারা জেতে ৫ উইকেটের ব্যবধানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সাত বছরের পাঁচ আসরের মধ্যে তিনবার শিরোপা এসেছে উপমহাদেশে। এর প্রতিবারই হয়েছে অল সাবকন্টিনেন্ট ফাইনাল। আর এর পরের অর্থাৎ সর্বশেষ দশ বছরে শিরোপার স্পর্শ পায়নি উপমহাদেশের কোনো দল। আরও একটা বিষয় খুবই ভয়াবহ। ফাইনালে এ অঞ্চলের বাইরের কোনো দলকে এখন পর্যন্ত হারাতে পারেনি উপমহাদেশের কোনো দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদাভাবে বলার মতো কোনো অর্জন নেই বাংলাদেশের। যদিও প্রথম আসর থেকেই নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করছে টাইগাররা। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল টাইগাররা। এই আসরে এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের কোনো প্রতিষ্ঠিত দলের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের একমাত্র বড় জয়। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে মূলপর্বের চারটি ম্যাচেই হারের লজ্জায় ডুবেছিল টাইগাররা।
এবারের আসর উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য গৌরব ফেরানোর চ্যালেঞ্জ।