প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
মিরপুরের ইনডোরে উদীয়মান লেগস্পিনারদের নিয়ে বিশেষ ক্যাম্পে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ; ছবি: বিসিবি
ঘরের মাঠে চলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশ টানা চার ম্যাচ জেতায় শেষ ম্যাচের আগে অনুশীলনে নামেনি। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফের সদস্যরা এই সময়টা টিম হোটেলে বিশ্রামেই কাটান। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন টাইগার স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি আজ শনিবার দুপুরে আচমকা হাজির হন মিরপুর স্টেডিয়ামে। এরপর বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধীনে দেশজুড়ে খুঁজে পাওয়া উদীয়মান লেগ স্পিনারদের নিয়ে ইনডোরে তিন ঘণ্টার বিশেষ ক্যাম্প করেন ৫৩ বছর বয়সি এই কোচ।
আসন্ন জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্বে এসেছেন মুশতাক। বাংলাদেশে এসেই পাকিস্তানি এই কিংবদন্তি বলেছিলেন, এদেশের লেগ স্পিনারদের দক্ষ করে তুলতে কাজ করবেন তিনি। স্থানীয় কোচদের সঙ্গে কাজ করে লেগ স্পিনার, রহস্য স্পিনার ও বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার বের করে আনায় ভূমিকা রাখতে চান তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই লেগ স্পিনারদের ঝুনা বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন পাকিস্তানের এই লেগ স্পিন গ্রেট।
বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে লেগ স্পিনারদেরই দাপট চলছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো এদিক থেকে বেশ এগিয়ে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বোধহয় কেবলই বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে একজন মানসম্পন্ন লেগ স্পিনারের অপেক্ষায় টিম ম্যানেজমেন্ট। সাম্প্রতিক সময়ে রিশাদ হোসেনকে দিয়ে সেই আক্ষেপ পূরণের চেষ্টা করা হলেও এই লেগি বল হাতে প্রভাব রাখতে পারছেন না সেভাবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের চার ম্যাচের একাদশে থাকলেও সাকল্যে ৫ উইকেট শিকার করেছেন এই স্পিনার। সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
গেম ডেভেলপমেন্টের পাকিস্তানি স্পিন কোচ শাহিদ মাহমুদের তত্ত্বাবধানে দেশজুড়ে স্পিনার হান্ট করে বিসিবি। ৬৪ জেলা থেকে প্রাথমিকভাবে ৮০ স্পিনার বাছাই করা হয়। এরপর মিরপুরে ট্রায়াল নিয়ে এই ৮০ জন থেকে ২০ জনকে বাছাই করা হয়। সেখান থেকে ১৬ জনকে নিয়ে মুশতাকের সান্নিধ্যে ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়।
ক্যাম্পে বাংলাদেশের তরুণ লেগিদের নিয়ে মুশতাক বলেন, ‘তোমাদের মেধা কাজে লাগাতে হবে। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। মন থেকে পরিশ্রম করো।’ পরিচয়পর্ব শেষে তরুণদের নেটে বল করানো হয়। হাতে ধরে তরুণদের টিপস দিচ্ছিলেন স্পিন কোচ। এ সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান মুশতাক, ‘আমি রোজ ২ ঘণ্টা এক জায়গায় বল করে যেতাম।’ এরপর মুশতাক নিজেই ইনডোর নেটে বোলিং করেন।
ক্যাম্প শেষে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কোচ আরেক পাকিস্তানি লেগ স্পিনার শাহেদ মাহমুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মুশতাকের অধীনে ক্যাম্প নিয়ে কথা বলেন। তার ভাষায়, ‘বেশিরভাগ কাজই হয়েছে কৌশলগত। আমাদের স্পিনারদের দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন।’ লেগ স্পিনারদের পরিণত হতে সময় লাগে। লম্বা সময় তাদের পরিচর্যার মধ্যে রাখতে হয়। মুশতাক আহমেদ সেই জানা কথাটাই আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন। শাহেদ মাহমুদ বলেন, ‘একটা ব্যাপারে তিনি বারবার জোর দিয়েছেন, এই স্পিনাররা এক-দুই মাসে পরিণত হবে না। ওদের যদি লম্বা সময় পরিচর্যার মধ্যে রাখা যায়, তাহলে ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব। আর ওদের গড়ে তোলার এটাই আদর্শ বয়স। তিনি এ কথাও বলেছেন, তিনি সব সময় এই লেগ স্পিনারদের সঙ্গে কাজ করতে চান। যেকোনো সাহায্যের জন্য তার সঙ্গে যেকোনো সময় যোগাযোগ করতে বলেছেন।’
লেগ স্পিনারদের এই ক্যাম্পে ২৫ জন ক্রিকেটারকে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল উপস্থিত ছিলেন ১৬ জন। এর আগে শাহেদ মাহমুদ গত তিন মাসে দেশের ১১টি জেলা থেকে ৮০ জন রিস্ট স্পিনার খুঁজে বের করেছেন। গত ২ ও ৩ মে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ট্রায়ালের মাধ্যমে সেখান থেকে ২০ জন লেগ স্পিনারকে বাছাই করা হয়। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বয়সভিত্তিক দলের আরও পাঁচজনকে। এই লেগ স্পিনারদের নিয়ে বিসিবি দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে।
বিসিবির লক্ষ্য, বছরের বিভিন্ন সময় লেগ স্পিনারদের নিয়ে আলাদাভাবে ১০ সপ্তাহের ক্যাম্প করা। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার আবু ইনাম মোহাম্মদ কায়সার এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমরা ওনাকে আজ (গতকাল) পেয়েছি, তিনি কিছু টিপস দিয়েছেন ছেলেদের। জাতীয় দলের আজ কোনো ডিউটি ছিল না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। যারা কাছাকাছি ছিল, তাদের এনে ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ যারা ছিল, তারা আমাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে আছে। তাদের একসঙ্গে করে আমরা শিগগিরই ক্যাম্প শুরু করব। শাহেদ মাহমুদের অধীনেই এই ক্যাম্প চলবে। যখন কোনো সুযোগ হবে, তখন উনি (মুশতাক) এসে টিপস দেবেন।’