প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ২২:৪২ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
লেভারকুসেনের ফুটবলারদের ফাইনালে উঠার উল্লাস
শেষ সময়ের গোল যেন নিত্যসঙ্গী। বায়ার লেভারকুসেনের ম্যাচের নিয়তি। ড্র করুক কিংবা ছিনিয়ে নিক জয়। শেষ মুহূর্তের গোল ছাড়া যেন লড়াই জমেই না! চলতি মৌসুমজুড়ে চমক দেখিয়ে যাওয়ার মূল অস্ত্র যেন এই কৌশল। এটাই এখন কোচ জাবি আলোনসোর ট্রেডমার্ক ট্যাকটিকস।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার আগে আগে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ক্লান্তিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করাই যেন এখন লেভারকুসেনের মূল হাতিয়ার। এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয় মোটেই। ফের সত্যতা মিললও এর।
ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে এএস রোমার বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল লেভারকুসেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৮ মিনিট আগে একটি গোল শোধ করে স্বাগতিকরা। তবে সেটা জিয়ানলুকা মানচিনির আত্মঘাতী গোলে। পরে ইনজুরি টাইমের সপ্তম মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখা পায় লেভারকুসেন। নিজেদের মাঠে ৯৭ মিনিটে গোলটি উপহার দেন জোসিপ স্তানিসিক। তার ঝলকে ম্যাচ শেষ হয় ২-২ গোলে।
এ নিয়ে চলতি মৌসুমে তারা শেষ সময়ে গোল পেল ১৭টি। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠে হোঁচট খেলেও অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ঠিকই অটুট রাখল লেভারকুসেন। এ নিয়ে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে টানা ৪৯ ম্যাচে অজেয় থাকার কীর্তি গড়ল 'নেভারলুসেন'। এখন জার্মান চ্যাম্পিয়নদের সামনে ট্রেবল জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। বুন্দেসলিগা নিশ্চিতের আগেই জার্মান কাপের ফাইনালের টিকিট কেটেছে তারা। এবার উঠল ইউরোপা লিগের ফাইনালে।
ইতিহাস গড়ে লেভারকুসেন পেছনে ফেলেছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাকে। ভেঙ্গে দিয়েছে তাদের ৪৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার ৫৯ বছরের পুরোনো রেকর্ড। দারুণ এক দিনে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে ফাইনালেও উঠেছে লেভারকুসেন।
তবে দুর্ভাগ্যটা প্রায় পিছু নিয়েই ফেলেছিল লেভারকুসেনের। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জোড়া পেনাল্টি গোলে শঙ্কা জেগেছিল হারের। প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকায় অ্যাগ্রিগেট ছিল ২-২ গোলের। পরে দুরন্ত পারফরম্যান্সে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লেখে লেভারকুসেন। জিয়ানলুকা মানচিনির আত্মহননের গোলে লড়াইয়ে ফেরে ম্যাচের আয়োজকরা।
দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৩-২ গোলে এগিয়ে লেভারকুসেন ফাইনালে এক পা দিয়ে ফেলে। তবে ম্যাচ শেষের স্কোর এটা হলে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডটা ভেঙ্গে যেত লেভারকুসেনের। তবে জোসিপ স্তানিসিকের গোলের কল্যাণে রেকর্ডটা থেকে যায় নিখুঁত।