রুবেল রেহান
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ২০:৩৩ পিএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৪ ২০:৪৭ পিএম
হ্যারি কেইন। ছবি : সংগৃহীত
ম্যাচের তখন ৮৫তম মিনিট। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ। ততক্ষণ পর্যন্ত মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জানপ্রাণ দিয়ে লড়ছেন হ্যারি কেইন। ওই মিনিটেই বায়ার্নের কোচ টমাস টুখেল বদলি হিসেবে তুলে নেন ইংলিশ ফরোয়ার্ডকে। কেইন যখন মাঠ ছাড়ছেন হয়তো ওয়েম্বলির ফাইনালে খেলার স্বপ্নটা চোখেমুখে ছিল তার। থাকাটাই যে খুব স্বাভাবিক। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট এবং যোগ করা সময়ে বিপদ এড়াতে পারলেই যে অল জার্মান ফাইনালের হাতছানি।
কিন্তু নাটক তখনও বাকি। প্রথমে ম্যানুয়েল নয়ারের ভুল। এরপর রিয়ালের আধিপত্য এবং মাঠে লুটিয়ে পড়া বায়ার্নের প্রতিরোধ, সব মিলিয়ে কোণঠাসা বাভারিয়ানদের জালে তিন মিনিটের মাথায় হোসেলুর জোড়া গোল। তাতেই দৃশ্যপট গেল বদলে। একটু আগে ফাইনালের স্বপ্ন দেখা দলটি যেন হারিয়ে গেল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রায় লাখো সমর্থকের করতালির মধ্যে। বায়ার্নের হারের পর তার বদলির ঘটনাটিকেই টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনেকে।
২০২৩-২৪ মৌসুমটা বায়ার্নের জন্য কেমন ছিল সেটা দেখা যাক। তারা প্রায় সব হারিয়েছে, যেখানে কেইন কিছুই পাননি। বায়ার্নে নিজের অভিষেক মৌসুম শেষ করেছেন শূন্য হাতে। চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাজয়ী রিও ফার্ডিনান্ড ম্যাচ শেষে টিঅ্যান্ডটি স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘সে (কেইন) নিজের কাজটা করেছে। সে গোল করেছে। তারা (বায়ার্ন) তাকে দলে ভিড়িয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতার জন্য। কিন্তু দলের বাকিদের দেখে মনে হয়েছে কেইন যতটা ভালো খেলেছে বাকিরা ততটাই খারাপ খেলেছে। আমার মনে হয় আজ (মঙ্গলবার) রাতে কেইনের হৃদয় ভেঙেছে।’

এই মৌসুমে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের সপ্তম মুকুটের আশা করেছিল বায়ার্ন। আর নিজের প্রথম কোনো মেজর ট্রফির আশায় ছিলেন কেইন। ব্যক্তিগতভাবে মৌসুমটা এর চেয়ে দারুণভাগে হয়তো রাঙানো যেত না কেইনের দিক থেকে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের জার্সি গায়ে করেছেন ৪৪ গোল, বলা ভালো এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা মৌসুম। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জন ঢাকা পড়ে যাচ্ছে কেইনের। কেননা তার দল মৌসুমে কোনো মেজর ট্রফি জিততে পারেনি। এমনটা এর আগে ঘটেছে ২০১১-১২ মৌসুমে। কেইনকে নিয়ে তাই দুঃখ প্রকাশ করেছেন বায়ার্নের সাবেক মিডফিল্ডার ওয়েন হারগ্রিভস, ‘আমার সত্যি তার জন্য খারাপ লাগছে। সে একজন সুপারস্টার। বেচারা… এই মৌসুমে সে অসাধারণ খেলেছে। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটের পরিকল্পনায় সে ছিল না।’
বায়ার্ন মিউনিখে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ খেলায় ৪৪ গোল করেছেন কেইন। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে যখন খালি হাতে মৌসুম শেষ করেছিল বায়ার্ন, সেবার টটেনহাম থেকে মিলওয়ালে এক বছরের জন্য ধারে খেলতে যান কেইন। লিগ ওয়ানের ২২টি খেলায় সাত গোল করেছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তখন প্রিমিয়ার লিগ অভিষেক থেকে এক বছরের দূরে ছিলেন এই তারকা। চলতি মৌসুমে প্রায় একাই বায়ার্নকে ট্রফি এনে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কেইন। বায়ার্নের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল স্কোরার (১২ গোল) জামাল মুসিয়ালাকে রিয়ালের বিপক্ষে ফাইনালে বদলি হিসেবে তুলে নেন টুখেল। যাই হোক, বাজে সিদ্ধান্ত আর বাজে পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ শেষের আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়।

বায়ার্ন ১১ বছরের টানা শিরোপা এবার হারায় বায়ার লেভারকুসেনের কাছে। জার্মান কাপে তৃতীয় বাছাই সারব্রুকেনের কাছে হেরে জার্মান কাপ থেকেও ছিটকে যায় বাভারিয়ানরা। তারপর চ্যাম্পিয়নস লিগে অল জার্মান ফাইনালে তাদের দেখছিলেন অনেকেই। কিন্তু কেইনকে ঘিরে বায়ার্ন আবার ছন্দপতন ঘটায়। দলের নিষ্ক্রিয়তায় আধিপত্য বিস্তার করে লসব্ল্যাঙ্কোসরা। প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের নয়্যারের বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ খেলায় সমতা রেখেছিল।
আলফনসো দাভিসের ডান পায়ের জোরালো শটে এরপর খেলায় লিড নেয় বায়ার্ন। ৬৮ মিনিটের ওই গোলের পর লিড দ্বিগুণ করার সুযোগও এসেছিল বায়ার্নের সামনে। আবার পিছিয়ে পড়ার দুই মিনিটে মাথায় লুকা মডরিচের কর্নার থেকে দ্রুতই সমতায় ফেরে রিয়াল। তার আগে বক্সে জশুয়া কিমিখের মুখে ধাক্কা দিয়ে ফাউল করায় অবশ্য গোলবঞ্চিত হয় কার্লো আনচেলত্তির দল। এরপর ম্যাচের সেই টার্নিং মুহূর্ত। হ্যারি কেইনের বদলি হিসেবে এরিক ম্যাক্সিম চুপো মোটিংকে মাঠে নামান টুখেল। জার্মান ফুটবল বিশেষজ্ঞ আর্চি রিন্ড টাট বিবিসি রেডিও ফাইভকে বলেছেন, বায়ার্নের হারের জন্য এই সিদ্ধান্তটি দায়ী, ‘মাদ্রিদের দ্বিতীয় গোলটি হওয়ার পর তার (টুখেল) মুখের অভিব্যক্তি দেখেছেন। তাকে কাঁপতে দেখা গেছে। আমার কাছে সেটি দেখে মনে হয়েছে ততক্ষণে তিনি জেনে গেছেন কী ভুলটাই না তিনি করে ফেলেছেন।’