প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ০৩:২৫ এএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৪ ১১:০৩ এএম
রিয়ালের বিপক্ষে
বদলি হিসেবে নেমে রূপকথার নায়ক বনে যান হোসেলু। তিন মিনিটে উপহার দেন জোড়া গোল। তার সেই ঝলকেই শেষ চারের ফিরতি লেগ ২-১ ব্যবধানে জিতে ইউরোপ-সেরার আসরের ফাইনালের টিকিট কাটলেন কোচ আনচেলত্তির শিষ্যরা।
রিয়ালের আক্রমণ সামাল দিতেই বেগ পেতে হচ্ছিল অতিথি বায়ার্নকে। গোল পেতে পারতেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছিলেন জুড বেলিংহামও। কিন্তু প্রায় পুরো ম্যাচে সবটা সামলে নিয়েছিল বায়ার্নের রক্ষণ। সফরকারীদের গোলবারের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে মানুয়াল নয়ার রুখে যাচ্ছিলেন রিয়ালের একের পর এক গোল প্রচেষ্টা।
অবচেতন মনে যত চিত্রনাট্য রিয়ালের জয়ের নায়ক হোসেলু লিখেছেন. তার কোনোটি এত সুন্দর ছিল না। ম্যাচ শেষে সে কথাই ঝরল তার কণ্ঠ থেকে, ‘প্রথম গোলটি ছিল স্রেফ চটপটে থাকার ব্যাপার। এ রকম একটি মুহূর্তের জন্য তৈরি ছিলাম, কারণ বুঝতে পারছিলাম ওরা ক্লান্ত। তারপর দ্বিতীয় গোলও এলো। এ ধরনের পারফরম্যান্সের স্বপ্ন সবাই দেখে। কিন্তু আজকে যা হলো, আমার সুন্দরতম স্বপ্নে কখনও এটা ভাবতে পারিনি।’
অবিশ্বাস্য এক মৌসুম উপহার দেওয়ার জন্য দলের খেলোয়াড়দের কৃতজ্ঞতা জানান কোচ কার্লো আনচেলত্তি, ‘কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। আমরা প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছি, নিয়ন্ত্রণ ছিল আমাদেরই, কিন্তু পিছিয়ে পড়েছি। এরপর আমাদের মানসিক শক্তি ছিল নিজেদের হারিয়ে না ফেলার। সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, ক্লাবের প্রতিও। সবকিছুর ওপরে, খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এমন একটি মৌসুম তারা ক্লাবকে এনে দিয়েছে, যেটির প্রত্যাশা কারও ছিল না।’
শেষ সময়ে গোল করে ম্যাচ জেতা কিংবা হার এড়ানোর নজির এ মৌসুমেও কম নেই। স্বয়ং কোচ আনচেলত্তি এর কোনো সঠিক বিশ্লেষণ করতে পারছেন না, ‘আবারও এটা ঘটল… এতবার এ রকম হয়েছে, এতবার… এখন আসলে এটা ব্যাখ্যাতীত ব্যাপার। সমর্থকরা একটি বড় কারণ। তারা যেভাবে দলকে প্রেরণা জোগায়, এ স্টেডিয়াম, এখানকার আবহ, সবকিছুই এটা সম্ভব করেছে। আর ছিল এক দল ফুটবলার, যারা কখনোই বিশ্বাস হারায়নি। তবে এটা স্রেফ জাদুকরী, এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাখ্যা আর নেই। এ টুর্নামেন্ট, এ স্টেডিয়াম আর এখানকার আবহ এ জাদু বের করে আনে।’
স্প্যানিশ লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে আগেই। এবার আরও একটি শিরোপা জয়ের হাতছানি লা লিগার চ্যাম্পিয়নদের সামনে। মৌসুমের দ্বিতীয় শিরোপাটা আসতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো মর্যাদাকর আসর থেকে। এ নিয়ে যারপরনাই খুশি ইতালিয়ান ফুটবল গুরু আনচেলত্তি, ‘এই দল এত ভালো করে ফেলবে, এটা আসলে আমিও ভাবতে পারিনি। ফাইনালে উঠতে পারাই বিশাল সাফল্যের। এরপর যা হওয়ার, হবে।’