প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৪ ২৩:১৮ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৪ ২৩:১৯ পিএম
রেফারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান কোচ টমাস টুখেল
নিজেদের মাঠ বার্নাব্যুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু শেষ দিকে ঝলক দেখিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ত্রাতা বনে যান হোসেলু। তিন মিনিটের মধ্যে তার জোড়া গোলেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে নাম লেখে কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। কিন্তু বায়ার্ন স্কোরটা মানতে নারাজ।
জার্মান জায়ান্টদের দাবি, সেমিফাইনালের স্কোরটা হতে পারত ২-২। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে ডি লিখট স্বাগতিকদের জালে বল জড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু অফসাইডের খড়গে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। তাতে মাঠের লড়াইয়ে বায়ার্নের ঘুরে দাঁড়ানোর সব প্রচেষ্টা মাটি হয়ে যায়। তাই তো বিতর্কিত অফসাইডের সিদ্ধান্তটা মানতে না পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাভারিয়ান শিবির।
ডি লিখটের শট নেওয়ার আগেই লাইনসম্যান পতাকা তুলে দেন। রেফারিও বাজান বাঁশি। রিয়ালের ফুটবলাররা খেলা থামিয়ে দেন। তাই জাল কাঁপাতে কোনো বেগ পেতে হয়নি ডি লিখটকে। কিন্তু পায়নি গোলের মর্যাদা। এ নিয়ে বায়ার্নের ফুটবলাররা মাঠেই জানিয়ে ছিলেন প্রতিবাদ।
কিন্তু রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্তে অটল থেকে যান। রিপ্লে দেখে ধারাভাষ্যকাররাও রেফারির সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে অভিহিত করেন। কিন্তু এটা কিছুতেই মানছেন না ডি লিখট। ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা তারকা এ ডিফেন্ডার বলেন, একই রকম ঘটনায় রিয়াল ছাড় পেলেও বায়ার্ন হয়েছে বঞ্চিত।
বিতর্কিত অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার ভাষ্য, ‘নিয়মটা আমরা সবাই জানি এবং এটা পরিষ্কার যে, নিশ্চিত অফসাইড না হলে খেলা চলতে থাকবে। এটাই নিয়ম! জঘন্য একটা সিদ্ধান্ত ছিল। হোসেলু যে গোল করল, সেটাও তো প্রায় অফসাইড ছিল, কিন্তু তারা খেলা চালিয়ে যেতে দিয়েছে। তাহলে আমাদের কেন দেয়নি?’
ম্যাচ শেষে নিজের ভুল স্বীকার করে নাকি ক্ষমা চেয়েছেন লাইনসম্যান। এমনটাই দাবি করেছেন ডি লিখট। তবে তাতে ক্ষান্ত হচ্ছেন না টমাস টুখেল। রেফারি-লাইনসম্যানকে কাঠগড়ায় তুলে তবেই ছেড়েছেন বায়ার্ন কোচ, ‘এটা বেশ পরিষ্কার এবং এখানে কোনো সংশয়ই নেই যে, এই সিদ্ধান্ত আধুনিক ফুটবলের বিরুদ্ধে। খুবই বাজে, একদমই বিপর্যস্ত সিদ্ধান্ত। রিয়ালের দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে, তারা (রেফারিরা) খেলা চালিয়ে যেতে দিয়েছে। নিয়মে পরিষ্কার আছে, খেলা চলতে থাকবে। প্রথম ভুলটা করেছে লাইনসম্যান, দ্বিতীয় ভুল রেফারির।’
ম্যাচের ফলটা মেনে নিয়েছেন টুখেল। তবে রেফারিদের ভুল কিছুতেই মানতে পারছেন না এ জার্মান কোচ, ‘খুবই কঠিন (মেনে নেওয়া)… খেলাধুলার মানুষ হিসেবে অবশ্যই এসব আমাদের মেনে নিতেই হয়। তবে এটা সেমিফাইনাল, এখানে এরকম দুটি ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ম্যাচে সবাইকে নিজের চূড়ায় থাকতে হয়, রেফারিরাও এর বাইরে নয়। এরকম কিছুই আমরা প্রত্যাশা করি। ক্ষমা চেয়ে তাই লাভ নেই।’