প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৪ ২১:৫৯ পিএম
শান্তরা কথা শোনার ভয়ে আত্মরক্ষা করে চলেন— বিসিবি
ব্যাটিং ঝালাই না করে টস জিতে কেন বোলিং— উত্তরে রিশাদ হোসেন বল ঠেলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক ও কোচের কোর্টে। স্ট্রাইক রেট নিয়ে আলোচনার ‘সমালোচনা’ করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের সহকারী কোচ নিক পোথাসও ছিলেন সোজাসাপ্টা, ‘জয় সবার আগে।’ সেই কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঝরেছে তাসকিন আহমেদের কণ্ঠেও, ‘হারলে কিন্তু সবাই বলবে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হেরে গেছি।’ মূলত সমালোচনা এড়াতেই নাজমুল হোসেন শান্তদের এমন ‘আত্মরক্ষার’ কৌশল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতির কথা বলা হলেও সিরিজ জয়ের দিকেই নজর টাইগারদের। অপেক্ষাকৃত দুর্বল সিকান্দার রাজাদের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে দেখার সুযোগও থেকেছিল আড়ালে। চট্টগ্রাম পর্বের তিন ম্যাচেই পাঁচ ম্যাচের সিরিজের ফয়সালা হয়ে গেছে। ঢাকা পর্বের দুই ম্যাচে এবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান শান্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সামনে রেখে তাসকিন শুনিয়েছেন বাস্তবতার কথা।
তার কথায়, ‘উন্নতির ধারা ধরে রেখে সবাই খেলছি। বিশ্বকাপে ভালো করার লক্ষ্যই সবার।’ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় থাকতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের মতো দল, যারা কিনা ২০ দলের আসরে জায়গা করতেও ব্যর্থ, তাদের বিপক্ষে কেন এত আত্মরক্ষার চিন্তা? টস জিতে বোলিং কেন, টপ অর্ডার তথা ব্যাটিং ঝালিয়ে নেওয়া, স্ট্রাইক রেট বাড়ানো এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কতটা হচ্ছে সিরিজে—
নিক পোথাসের কণ্ঠে সুর মিলিয়েছেন তাসকিনও, ‘আসলে কথা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে নিয়ে। যদি একটা ম্যাচ হেরে যাই তখন কিন্তু অন্য রকম কথা হবে। ছোট দলের সঙ্গে খেলে জিতলে কৃতিত্বটা কম পাই। হারলে কিন্তু সবাই বলবে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হেরে গেছে। দুর্ভাগ্যবশত অনেক কথাই শুনতে হয়। যখন খেলতে নামি, যে প্রতিপক্ষই হোক সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করি। কখনও ভালো বা কখনও খারাপ হয়। কিন্তু এই উন্নতির ধারাটা রেখে সবাই খেলার চেষ্টা করি। সবার মধ্যে এটাই লক্ষ্য— বিশ্বকাপে কীভাবে ভালো করা যায়, এই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি, অনুশীলন করছি।’
লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং বাকি সবার স্ট্রাইক রেট যখন আলোচনায়, দলের সহকারী কোচ পোথাসও তখন উল্টো দায় চাপিয়েছিলেন, ‘আমার মনে হয় এটা আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি।’ সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আশা তাসকিনেরও। চট্টগ্রামের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে পরে ব্যাট করে সহজ জয়। তৃতীয় ম্যাচে হারতে হারতে জিতে যাওয়া। সব মিলিয়ে শান্তদের দিনে দিনে সিরিজ হারানোর ভয় অন্তত কেটেছে। এবার বিশ্বকাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চোখ। সেই লক্ষ্যে আজ হয়তো তিনটি পরিবর্তন আসতে পারে দলে। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মিশনে সাকিব-সৌম্য-মুস্তাফিজ দলে আসতে পারেন। তার আগে তাসকিন শুনিয়েছেন জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস মোটেও ফেক বা নকল নয়!

রাজাদের বিপক্ষে জিততে ভালো ক্রিকেট খেলতে হচ্ছে জানিয়ে তাসকিন বলেছেন, ‘আইপিএলের কন্ডিশন আর এখানের কন্ডিশন একটু ভিন্ন। প্রতিপক্ষও ভিন্ন। এটা আন্তর্জাতিক সিরিজ—যারাই খেলছি, সবাই শতভাগ দিয়ে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করছি। আসলে ফেক কনফিডেন্স নয়। ভালো করলে যেকোনো জায়গায়ই আত্মবিশ্বাস বাড়ে। হয়তো আমরা জানি না যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশন কেমন হবে। মোস্টলি ড্রপ ইন উইকেটে খেলা হতে পারে। আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়েরই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার অভিজ্ঞতা কম। ওইভাবে মানিয়ে নিতে হবে। এখন বাংলাদেশে খেলছি, খেলতেও হবে। কন্ডিশন তো বদলাতে পারব না। যদি আরেকটু স্পোর্টিং কন্ডিশন হতো, তাহলে হয়তো ভালো হতো। তবু আমাদের কিন্তু অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হচ্ছে। আরেকটা জিনিস, যখন যুক্তরাষ্ট্রে যাব, তখন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। একটা ভালো দিক হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ৩টা ম্যাচ আছে।’
তাওহীদ থেকে নিক পোথাস হয়ে তাসকিন— সবার কথা থেকে আপাতত এটাই বোঝা যাচ্ছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারার ভয় ছিল টাইগারদের। তাই এত সাবধানতা! অথচ সিরিজ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপ প্রস্তুতির। তেমন কথাই চাউর হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সিরিজ জয়কেই মূল লক্ষ্য ধরেছিল টাইগার শিবির। টেকেনি। সবকিছু দূরে সরিয়ে তাসকিনদের সামনে সিরিজে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। মিরপুরে আজ জিতলে হোয়াইটওয়াশের চিন্তাও আনতে পারে ‘সাবধানী’ বাংলাদেশ।