× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ

টাইগার বোলারদের তাপে পুড়ল জিম্বাবুয়ে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৪ ২২:০৪ পিএম

আপডেট : ০৩ মে ২০২৪ ২২:০৬ পিএম

বল হাতে আগুনে রূপে ছিলেন মেহেদী, তাসকিন ও সাইফউদ্দিন— ছবি: আ. ই. আলীম

বল হাতে আগুনে রূপে ছিলেন মেহেদী, তাসকিন ও সাইফউদ্দিন— ছবি: আ. ই. আলীম

৫ বোলার, ৪টি করে মোট ২০ ওভার— স্কোরবোর্ডে সাকল্যে ১২৪ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির স্কোরবোর্ডই বলে দিচ্ছে, দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। একটু আলাদা করে বললে আসবে তিনটি নাম— তাসকিন আহমেদের আগুনে গোলা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের দুর্দান্ত লাইন-লেন্থ এবং শেখ মাহেদীর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং। মূলত এই তিনেই ধসে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। পাওয়ার প্লেতে পেস-স্পিন ত্রয়ীর ঝলকানি এবং শেষদিকে সাইফ-তাসকিনের গতির কাছেই পরাস্ত হয়েছে সিকান্দার রাজার দল। ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার দিনে সফরকারীরা পুঁজি পেয়েছে ১২৪ রান।

গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গুমট আবহাওয়ার দিনে আগুনে তাপ ছড়িয়েছিলেন তাসকিন। সাগরিকায় টস জয়, শুরুতে ফিল্ডিং এবং বোলিং-তাণ্ডব। সফরকারী জিম্বাবুয়ে প্রথম উইকেট হারায় দ্বিতীয় ওভারে, তখন তাদের দলীয় স্কোর ৮। পরেরটি ৩৬ রানে। বোর্ডে আরও ৬ রান যোগ করতেই সবচেয়ে বড় মাশুল গুনতে হয় জিম্বাবুয়েকে। ফেরার তালিকায় যোগ হয় সাতটি নাম। পাওয়ার প্লেতে পাওয়ার শোয়ে বাংলাদেশের বোলাররা খরচ করেন ৩৬ রান। ততক্ষণে সাজঘরে প্রতিপক্ষের দুই ওপেনার, টপ অর্ডারের ব্রেইন বেনেট ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।

ইনিংসের শুরুর ৬ ওভারের ধ্স সামলাতে আসা রায়ান বার্লও ব্যর্থ। রান পাননি লুক জঙ্গি। আগের যারা ছিলেন তাদের তিনজন ফিরেছেন শূন্য রানে (ক্রেইগ আরভিন, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা), বাকি দুজন পেয়েছিলেন দুই অঙ্কের ছোঁয়া। ওপেনার জয়লর্ড ১৭ রান করে ফেরেন সাইফউদ্দিনের বলে। বেনেটের উইলো থেকে আসে ১৬ রান। সাত উইকেট পড়ার পর অর্থাৎ অষ্টম উইকেট জুটির পর গল্পে বড় মোড় নেয়।

টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের দলীয় সর্বনিম্ন রানের লজ্জার শঙ্কায় থাকা জিম্বাবুয়ে চাপ বাড়ায়। ক্লাইব মান্দে খেলেন কার্যকরী ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের ভোগাও সেই সময়ে। তাসকিন-সাইফদের দুর্দান্ত দিনেও তাতে কিছুটা আক্ষেপ থাকছে। যদি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্লাইবের ক্যাচটি না ছাড়তেন কিংবা শুরুর তাণ্ডব বোলাররা যদি শেষ পর্যন্ত চালাতে পারতেন, তাহলে ম্যাচটা আরও সহজ হয়ে উঠত স্বাগতিকদের জন্য। 

তারপরও ইনিংসটি টাইগার বোলারদেরই। জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেওয়ার পর তাদের আটকে রাখার কৃতিত্ব অফস্পিনার শেখ মাহেদীর। ৪ ওভারে টাইগার অফস্পিনার খরচ করেছেন মোটে ১৬ রান। প্রতিপক্ষের দুই টপ অর্ডারকে ফেরানোর দিনে পান মারকাটারি ক্রিকেটে বহু মূল্যবান মেডেন ওভারও। কিপ্টে বোলিং করেছেন বোলিংয়ে গতির দাপট দেখানো তাসকিনও। ৪ ওভারে টাইগার পেসারের থেকে একটি মাত্র বাউন্ডারি আদায় করে নিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। ১৫টি ডট দেওয়ার দিনে তাসকিন নিয়েছেন ৩টি উইকেট। খরচ করেছেন ৩.৫০ ইকোনমিতে ১৪ রান।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও ছিলেন যথেষ্ট মিতব্যয়ী। ৩.৭৫ ইকোনমিতে ৩টি উইকেট নিয়েছেন দলে ফেরা পেস অলরাউন্ডার। সাইফউদ্দিন খরচ করেছেন ১৫ রান। বাকি দুই বোলারের ওপরই ছড়ি ঘোরাতে পেরেছিল জিম্বাবুয়ে। ৪ ওভারে ৩৭ রান খরচ করে উইকেটশূন্য স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং পেসার শরিফুল ইসলাম। এই দুজনকে বাদ রাখলে পেস ইউনিটের দাপটের কথা বলাই যায়। 

টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর ছিল ৮২। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলম্বোয় ভানিদু হাসারাঙ্গার ভেল্কিতে ১৪.১ ওভারে গুটিয়ে গিয়েছিল সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের আগের সর্বনিম্ন ১০ বছর আগে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪ রানে থেমেছিল তাদের ইনিংস। মাস পাঁচেক পর গতকালও তেমন কিছুর শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, সিকান্দার রাজার দলকে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা থেকে বাঁচান ক্লাইভ ও মাসাকাদজা। অষ্টম উইকেট জুটিতে ৭৫ রান আনেন দুজন। শতরান পার করানোর পর জমা করেন ১২৪ রান। পাওয়ার প্লেতে খেই হারানো জিম্বাবুয়েকে ফেরানো ক্লাইভ থামেন ফিফটির আফসোস নিয়ে। তাসকিনের বলে ১৯তম ওভারে ফেরার আগে ৩৯ বলে করেন ৪৩ রান।

মাসাকাদজাকে নিয়ে দলের সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। টেল এন্ডার মাসাকাদজা দেখিয়েছেন নৈপুণ্য। ইনিংসের শেষ অবধি অপরাজিত থাকেন ৩৮ বলে ৩৪ রান জমা করে। ইনিংস সাজান দুটি করে চার-ছক্কায়। জিম্বাবুয়ে ইনিংসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান করেছেন ওপেনার জয়লর্ড। পরের সর্বোচ্চ ১৬ রান তিনে নামা ব্রেইন বেনেটের। বাকিদের আসা-যাওয়ার কাজটি করেন তিন টাইগার বোলার— তাসকিন, সাইফউদ্দিন ও মেহেদী। ত্রয়ীর পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে বলাই চলে বৃষ্টি হতে পারে কিংবা হবে— এমন আবহাওয়া বেশ তাপ ছড়িয়েছিল বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা