প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ১৬:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ২০:৪৪ পিএম
পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ ছবি-ইনস্টাগ্রাম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডপিসিবি খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিসমাহ পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলুড়ে নারী ক্রিকেটার।
দীর্ঘ ১৭ বছর পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন বিসমাহ। ৩২ বর্ষী এই নন্দিনী দেশটির ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৩৬ ওয়ানডেতে তার রান ৩৩৬৯। এভারেজ ২৯.৫৫। আছে ২১টি অর্ধশতক। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৯৯ রান। খেলেছেন ১৪০টি টি-টোয়েন্টি। রান ২৮৯৩। এভারেজ ২৭.৫৫। অর্ধশতক ১২টি। হাত ঘুরিয়ে ওয়ানডেতে তুলেছেন ৪৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ৩৬টি।
পাকিস্তানের হয়ে ৯৬ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন বিসমাহ। ৬২টি টি-টোয়েন্টি। ৩৪টি পঞ্চাশ ওভারের। তার নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টিতে জয় এসেছে ২৭টি। ওয়ানডেতে ১৬টি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণায় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক জানিয়েছেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াব। এটি রোমাঞ্চকর যাত্রা এবং চ্যালেঞ্জিং। জয় এবং সে সঙ্গে না ভোলার মতো স্মৃতি।’ পিসিবির বিবৃতিতে বিসমাহ আরও যুক্ত করেন, ‘এ সময়টুকু আমি আমার পরিবারকে দিতে চাই। তারা আমাকে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে এবং ক্রিকেট চালিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।’
সমর্থক ও সতীর্থদের প্রতি বিবৃতিতে বিসমাহ বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারজুড়ে যেকোনো জায়গায়, যেকোনোভাবে আমাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাওয়ার ভক্তদের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আর সবার শেষে আমি ধন্যবাদ জানাই সতীর্থদের। তারা আমার কাছে পরিবারের মতো। মাঠ ও মাঠের বাইরে যে সম্পর্ক আমরা তৈরি করেছি, সেটা সব সময়ই মনে থাকবে।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করেছেন বিসমাহ, ‘আমাকে সুযোগ,সমর্থন এবং বিশ্বাস করার জন্য পিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা। পিসিবির কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, সেটি অমূল্য, বিশেষ করে তারা আমার জন্য প্রথমবারের মতো মাতা–পিতাসংক্রান্ত পলিসি গ্রহণ করেছেন। তাতে মায়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি।’

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হয় বিসমাহর। তখন তার বয়স মাত্র ১৫। ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। প্রতিবেশীদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রতিভার সাক্ষ্য রেখেছিলেন। জয়পুরে সে ম্যাচ থেকে আসে ৪৩ রান। দলে নিয়মিত হলেও অর্ধশতকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে চার বছর। ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত অর্ধশতক ধরা দেয়। তার সর্বোচ্চ ৯৯ রানের ঝলমলে ইনিংসটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০১৫ সালে।
ব্যক্তিজীবনে পাকিস্তানকে দুহাত ভরে দিয়েছেন বিসমাহ। নিজ ঝুড়িতেও এসেছে সাফল্য। এশিয়ান গেমসে দুইবার—২০১০ ও ২০১৪ সালে গোল্ড মেডেল জিতেন তিনি। তিনি পাকিস্তানের হয়ে ২০০৯, ২০১৩,২০১৭ এবং ২০২২ সালে–চারবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ দলের নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত— আটটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গর্বিত সদস্য তিনি। তার মধ্যে ২০২০ এবং ২০২৩ সালে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেয় তার অধীনে। দেশটির হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা নারী তিনি।