প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ২২:৫১ পিএম
ডিপিএল শাসনে পেসাররা; কোলাজ ছবি
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পিনারদের দাপট অনেক দিনের। সেই তুলনায় পেসাররা বরাবরই থেকেছেন আড়ালে। টুর্নামেন্ট শেষে সেরার তালিকায় কদাচিৎ দেখা মিলত পেসারদের। তবে এবারের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) দাপট দেখাচ্ছেন গতি তারকারা।
ডিপিএলে এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় সেরা দশে আছেন সাতজন পেসার। যার মধ্যে আবার শীর্ষে থাকা তিনজন পেসারই বাঁহাতি। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ৪.৪৮ ইকোনমি ও ১৫.৫৭ গড়ে ২১ উইকেট নিয়ে তালিকার এক নম্বরে রয়েছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের রুয়েল মিয়াঁ। সমান ম্যাচে ৪.৩৬ ইকোনমি ও ১৫.৯ গড়ে ২০ উইকেট নিয়ে দুইয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আবু হায়দার রনি। তৃতীয় স্থানে আছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ পেসার মারুফ মৃধা। ৮ ম্যাচে ৫.১৩ ইকোনমি ও ১৬.৪৭ গড়ে ১৯ উইকেট শিকার করেছেন গাজী টায়ার্সের এই পেসার। ৫.২২ ইকোনমি রেটে বল করা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের পেসার রিপন মণ্ডল ৯ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে আছেন তালিকার ষষ্ঠ স্থানে। আর সমান ম্যাচে সমান উইকেট নিয়েও ইকোনমি রেটের মারপ্যাঁচে সিটি ক্লাবের পেসার মোহাম্মদ ইরফান হোসেন আছেন ঠিক পরের অবস্থানে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের পেসার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী ৮ ম্যাচে ৫.৪২ ইকোনমিতে ১৬ নিয়ে আছেন আট নম্বরে। আর ৬ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে দশে আছেন সিটি ক্লাবের পেসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।
সেরা দশে জায়গা না পেলেও আলো ছড়িয়েছেন অন্য পেসাররাও। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পেসার আব্দুল হালিম ৬ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে পকেটে পুরেছেন ১৪ উইকেট। জাতীয় দলের বাইরে চলে যাওয়া পেসার আল-আমিন হোসেন ৯ ম্যাচ খেলে হাতিয়ে নিয়েছেন ১২ উইকেট। ওভারপ্রতি গড়ে ৪.২৪ করে রান দেওয়া আবাহনীর পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বাগিয়ে নিয়েছেন ৮ ম্যাচে ১২ উইকেট। সেরা দশের চতুর্থ স্থানটি প্রাইম ব্যাংকের স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর দখলে। ৯ ম্যাচে ৪.১৫ ইকোনমি ও ২০.৭৬ গড়ে এই বাঁহাতি স্পিনারের শিকার ১৭ উইকেট। যথাক্রমে ১৬ ও ১৫ উইকেট নিয়ে সেরা দশ বোলারের তালিকার পঞ্চম ও নবম স্থান দখল করেছেন শাইনপুকুর স্পোর্টিং ক্লাবের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও আবাহনীর বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম।
এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ চলাকালেই মাঠে গড়িয়েছিল ডিপিএল। যে কারণে জাতীয় দলের ব্যস্ততায় ডিপিএলে বেশকিছু ম্যাচে খেলতে পারেননি টাইগার পেসাররা। তবে যখনই সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই নিজেদের মেলে ধরেছেন তারা। প্রাইম ব্যাংকের পেসার হাসান মাহমুদ ৭ ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ১১ উইকেট। আবাহনীর পেসার তানজিম হাসান সাকিব ৪ ম্যাচে ১০ ও তাসকিন আহমেদ ৫ ম্যাচে মাঠে নেমে শিকার করেন ৯ উইকেট। এ ছাড়া সৈয়দ খালেদ আহমেদ, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বিরাও পান ৭টি করে উইকেট। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট পান। আর দেশের সর্বোচ্চ গতির পেসার নাহিদ রানা এক ম্যাচে সুযোগ পেয়েই শিকার করেছেন ৪ উইকেট। তাই বলাই যায়, সুপার লিগের আগে ডিপিএলে অভিজ্ঞ কিংবা তরুণÑ দাপট দেখাচ্ছেন পেসাররাই।