ডিপিএল ২০২৪
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৪ ১৭:৫৫ পিএম
৫ উইকেট শিকার করে ব্রাদার্সের ইনিংস ধসিয়েছেন ইরফান তুলেছেন; ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) রোমাঞ্চকর ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২০ রানে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। দারুণ রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচটা শেষ দিকে বেশ নাটকীয়তার জন্ম দেয়। ইরফান হোসাইনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচ শেষে জয়ের হাসি হাসে সিটি ক্লাব।
শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে সিটি ক্লাবকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড। ব্যাট করতে নামা সিটি ক্লাবের ওপেনার সাদিকুর রহমানকে প্রথম বলেই বোল্ড করে দেন ব্রাদার্সের পেসার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি।
এরপর তিনে নামা শাহরিয়ার কমলকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসান। দলীয় ২৪ রানের মাথায় ২০ বলে ১৫ রান করে আউট হন কমল। চারে নেমে ৫ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন কফিল উদ্দিন। এরপর ক্রিজে জুটি হাসান এবং সাজ্জাদ্দুল হক রিপন।
সময়ের সাথে সাথে দারুণভাবে ক্রিজে জমে যান হাসান এবং সাজ্জাদুল। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে বাড়াচ্ছিলেন দলের রানও। ফিফটির খুব কাছে চলে গেলেও শেষমেশ ফিফটির আগেই বিদায় নিয়েছেন হাসান। দলের ১১৩ রানের মাথায় আউট হওয়ার আগে ৬৭ বলে ৪১ রানের দারুণ লড়াকু এক ইনিংস খেলেন হাসান।
এরপর সাজ্জাদুলের সাথে যোগ দেন মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম সোহেল। হাসান ফিফটি মিস করলেও সাজ্জাদুল সেই ভুল করেননি। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে ফিফটি হাঁকিয়ে ছুটতে থাকেন সাজ্জাদুল। মইনুলের সাথে তার জুটিটাও জমে যায় বেশ ভালোভাবে। শেষমেশ দলের ১৭২ রানের মাথায় থেমেছেন সাজ্জাদুল। আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৮৪ বলে ৭০ রানের ইনিংস।
মইনুলও পরে তুলে নেন ফিফটি। ৭৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বাকিদের মধ্যে বলার মত রানের দেখা পেয়েছেন আরেক মইনুল ইসলাম। ২১ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান তোলা সিটি ক্লাব।
জবাব দিতে নেমে ব্রাদার্সকে ভালো শুরু এনে দেন রহমতউল্লাহ আলী এবং ইমতিয়াজ হোসাইন। দুজনের উদ্বোধনী জুটি থেকে রান এসেছে ৫৯। ৩৫ বলে ২৫ রান করে ইমতিয়াজ আউট হলে তিনে নামা মাহমুদুল হাসানকে সাথে নিয়ে এগোতে থাকেন রহমতউল্লাহ। তবে মাহমুদুলও বেশিক্ষণ টেকেননি। ২৮ বলে ১৫ রান করে দলের ১০৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।
মাহমুদুলের বিদায়ের পর বিদায় নেন রহমতউল্লাহও। ফিফটি হাঁকিয়ে ৬৯ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। এরপর দলের হাল ধরেন আসিফ আহমেদ রাতুল। এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে চলে গিয়েছিলেন ফিফটির খুব কাছেও। তবে শেষমেশ ফিফটির আগেই বিদায় নিয়েছেন আসিফ। ৪৮ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন আসিফ।
এরপর রাহাতুল ফেরদৌস খেলেন ৩৩ বলে ৩০ রানের ইনিংস। ২২১ রানের মাথায় রাহাতুলের বিদায়ের পর শেষ দিকে বেশ চাপে পড়ে যায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। মনির হোসাইন একা হাতে বহু চেষ্টা চালালেও শেষমেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি দলকে। ৩৬ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন মনির। অন্যদিকে জুবাইর হোসাইন ১ বলে ১ রান করে ক্রিজে টিকে ছিলেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান তুলে থামে ব্রাদার্স। সিটি ক্লাব পায় ২০ রানের জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিটি ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৫১/৯ ( সাজ্জাদুল হক রিপন ৭০, মইনুল ইসলাম সোহেল ৫৩; আবু জায়েদ রাহি ৪/২৪, মাহমুদুল হাসান ২/৪২)।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৫০ ওভারে ২৩১/৮ (রহমতউল্লাহ আলী ৬০, আসিফ আহমেদ রাতুল ৪৪; ইরফান হোসেন ৫/৪৭, মইনুল ইসলাম ১/৩৬)।
ফল: সিটি ক্লাব ২০ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ইরফান হোসেন।