চট্টগ্রাম টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৪ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪ ২১:৫০ পিএম
ক্যাচ মিস না হলে স্কোরবোর্ডের চেহারা হতে পারত ভিন্ন— গেটি ইমেজস
সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের প্রতিনিধি শুনেছিলেন অভিন্ন প্রশ্ন, ‘সন্তুষ্ট কতটা?’ শ্রীলঙ্কার ব্যাটার দিমুথ করুনারত্নে রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ‘প্রথম দিনের বিবেচনায় তিনশর বেশি যেকোনো রানই যথেষ্ট।’ চট্টগ্রামে প্রথম দিনে ৩১৪ রান জমা করা লঙ্কানরা খুশি থাকলেও যথেষ্ট আক্ষেপ বাংলাদেশের। টাইগারদের পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামস মলিন মুখে জানিয়েছেন, ‘কিছুটা সন্তুষ্ট।’ এরপর শুনিয়েছেন ক্যাচ মিসের শঙ্কার কথা, ‘যদি ক্যাচ ছাড়তে থাকি, এটা আমাদের ভোগাবে।’
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল শনিবারের দিনটি হতাশাতেই কেটেছে টাইগারদের। ক্যাচ হাতছাড়া, রান আউটের সম্ভাবনা মিস আর রিভিউতে হতশ্রী হওয়াই ছিল আলোচনায়। একটি দুটি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রানপাহাড়ও গড়েছে শ্রীলঙ্কা। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের ফিফটি প্রথম দিন চালকের আসনে বসিয়েছে সফরকারীদের। দিনের শুরুতে ক্যাচ মিস আর শেষের সাফল্যেও তাই থাকছে ক্যাচ মিসের বিস্তর আক্ষেপ। সবশেষ ৩০ টেস্টে ৮০টি ক্যাচ মিস করেছেন টাইগাররা। গতকাল এক দিনেই সাকিব-জয়দের হাত গলে বেরিয়েছে চারটি ক্যাচ।
ক্যাচ মিসের মহড়ায় প্রথম নাম লেখান মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর তালিকায় যোগ হয় সাকিব আল হাসানের নাম। মিস করেন শাহাদাত হোসেন দিপুও। ৯ রানে ব্যাট করার সময় লঙ্কান ওপেনার নিশান মাদুশঙ্কা পান জীবন। দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো জয় হাতে জমিয়েও ক্যাচ নিতে না পারলে সেই মাদুশঙ্কা থামেন ৫৭ রানে। ১৩ রানেই ভাঙতে পারত যে ওপেনিং জুটি, তা থেমেছে ৯৬ রানে। এরপর করুনারত্নের ক্যাচ বাউন্ডারি লাইনে ছেড়েছেন সাকিব। সীমানায় কিছুটা এগিয়ে থাকায় ক্যাচ তো নিতেই পারেননি, বাঁচাতে পারেননি ছক্কাও। তখন করুনারত্নে ব্যাটিং করছিলেন ২২ রানে। এরপর যোগ করেছেন আরও ৬৪ রান। দুটি ক্যাচ মিস আর একটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়ার পর প্রথম সেশনে দাপট দেখিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় সেশনে দুটি উইকেট তুলে ফেরার পথ তৈরি রাখলেও তৃতীয় সেশনে ব্যর্থতা বাড়ান দিপু। ম্যাথুসের ক্যাচ ১০ রানে ফেলে দেন, এরপর ম্যাথুস থামলেও যোগ করেছেন আরও ১৩ রান। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে দিনের ফলও ভিন্ন হতে পারত- আর আফসোসে পুড়তে হতো না টাইগারদেরও।
প্রথম দিন শেষে কতটা সন্তুষ্ট বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নে অ্যাডামস তাই বলেছেন, ‘কিছুটা।’ টাইগারদের বোলিং কোচ এরপর দিয়েছেন ব্যাখ্যাও, ‘আমরা সকালে সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। প্রথম টেস্টেও একই ব্যাপার হয়েছে যখন আমরা প্রথম সেশনে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলাম। আমার মনে হয় হাসান দুর্দান্ত বল করেছে। আমরা যদি ক্যাচ ছাড়তে থাকি, এটা আমাদের ভোগাবে।’
ক্যাচ ধরা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাডামস। তবে মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ক্যাচ মিসের মহড়ার দিনে রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বাগতিক দলের অদক্ষতা চোখে পড়ার মতো। ক্রিকেটের এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনও পরিপক্বতার ছাপ রাখতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সেটিই গতকাল আরেকবার প্রমাণ করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কুসল মেন্ডিসের ব্যাটের মাঝখানে বল লাগলেও স্লিপে দাঁড়ানো অধিনায়ক শান্ত নেন রিভিউ। বিষয়টি নিয়েই সমালোচনা হচ্ছে, অ্যাডামসের মতে, রিভিউ নেওয়ার পদ্ধতি বদলাতে হবে।
টাইগার বোলিং কোচের ভাষ্য, ‘এটা এমন একটা ব্যাপার, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আমরা রিভিউতে খুব বেশি ভালো না, এটা একদম পরিষ্কার। এখন পর্যন্ত আমরা রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কাঁচা। আমাদের আরও অনেক ভালো একটা মেথড তৈরি করতে হবে। এই মুহূর্তে মনে হয় ফ্যাক্টের চেয়ে আবেগটাই প্রাধান্য পাচ্ছে। বলটা ব্যাটের মাঝখানে লেগেছে, এটা ভালো রিভিউ না (শান্তর নেওয়া)। একই সঙ্গে আমি এটাও চাই না রিভিউ নিতে ওরা ভয় পাক। আমাদের কেবল ভালো একটা পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে।’
টেস্টের এই পর্যায়ে শিষ্যদের কী করা উচিত সেটিও বলে দিয়েছেন অ্যাডামস, ‘যদি আমরা কাল সকালে ভালো বোলিং করতে না পারি, তাহলে আবার তারা চড়াও হবে। টেস্ট ক্রিকেটে আসলে ব্যাটিং ভালো করতে হবে। যদি আপনি রান না করতে পারেন, তাহলে জিততে পারবেন না ভালো বোলিং করলেও। সিলেটের চেয়ে এখানে ভালো ব্যাটিং করতে হবে।’