আইপিএল টিম প্রিভিউ
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৪ ১৮:০৪ পিএম
আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪ ১৮:১০ পিএম
প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ঘাটতি মেটানোই হায়দরাবাদের চ্যালেঞ্জ। ছবি : সংগৃহীত
দরজায় কড়া নাড়ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আরেকটি আসর। আগামী ২২ মার্চ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট। ৯৪ ম্যাচের বিরাট এই মহাযজ্ঞে থাকছে ১০টি ফ্রাঞ্চাইজি। সবগুলো দলের হালচাল, শক্তিমত্তা, দুর্বলতা এবং নানা বিষয় নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের ধারাবাহিক দল পর্যালোচনায় এই পর্বে থাকছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ডেকান চার্জার্স। ভারতের হায়দরাবাদ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে ফ্রাঞ্চাইজিটি। তবে ২০০৮ থেকে ২০১২ মৌসুমের পর ফ্রাঞ্চাইজিটি এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। নতুন দল আসে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর এখন অবদি নিয়মিত তেলেঙ্গেনা অঙ্গরাজ্যের দলটি। প্রথম তিন মৌসুম স্ট্রাগলের পর চতুর্থ মৌসুমে গিয়ে সাফল্য পায় তারা। সেবারকার সাফল্যে অবদান রাখেন বাংলাদেশি মোস্তাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে আইপিএল আলাদা মাহাত্ম্য পায় সেবারই। কাটার মাস্টারকে ‘দ্য ফিজ’ উপাধি দেয় ২০১৬ মৌসুম। ডেভিড ওয়ার্নারের অধিনায়কত্বে কী দারুণ বোলিংই না করলেন বাঁহাতি এই পেসার। বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে আইপিএলের খেলা মানে দ্য ফিজের চার ওভার। যদিও সেই মৌসুমে ছিলেন সাকিব আল হাসানও। তবে সব নজর তো কেড়েছেন তখনকার ওই তরুণ পেসারই।

সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হায়দরাবাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা কখনই একমুখী ছিল না। এতবেশি ওঠানামা করেছে দলটির সাফল্য-ব্যর্থতা সেটি আলাদা করে বলতেই হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পরের মৌসুমে প্লে অফ, তারপর ২০১৮ সালে রানারআপ। পরের দুই মৌসুমে ফের প্লে অফে ওঠে হায়দরাবাদ। সবশেষ তিন মৌসুমে তো লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি।
সাফল্য-ব্যর্থতার গ্রাফের মতো তাদের দল গঠনেও ছিল সেই ধারা। বারবার কোচ এবং খেলোয়াড় পরিবর্তন করেছে হায়দরাবাদ। ২০২১ মৌসুমে ট্রেভর বেইলিশ কোচের দায়িত্ব পান। পরের তিন মৌসুমে টম মুডি, ব্রায়ান লারাকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয় দলটি। এবার হায়দরাবাদের মিউজিক্যাল চেয়ারে ড্যানিয়েল ভেট্টরি। সবশেষ চার মৌসুমে অধিনায়কও ছিলেন চারজন। ২০২১ মৌসুমে ডেভিড ওয়ার্নারের পর একে একে এই দায়িত্ব পান কেন উেইলিয়ামসন, এইডেন মার্করাম। আর এবার হায়দরাবাদের দায়িত্বভার সামলাবেন প্যাট কামিন্স।
আইপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটে যাকে নিয়ে কাড়াকাড়িই লেগে যায় কয়েকটি ফ্রাঞ্চাইজির মধ্যে। শেষ পর্যন্ত অজি অধিনায়ককে সাড়ে ২০ কোটি রুপিতে পায় হায়দরাবাদ। আইপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি খেলোয়াড় তিনি। কামিন্সের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সবশেষ কয়েক মাসে অস্ট্রেলিয়াকে তিনি বেশ কয়েকটি ট্রফি জিতিয়েছেন। ভারতের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা যার সবশেষ উদাহরণ। তবে সবশেষ কিছু বছরে এত বেশি ক্রিকেট খেলেছেন এই অজি অধিনায়ক, তাই তার থেকে পুরোপুরি এফোর্ট দল পাবে কি না সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।
এ ছাড়া এই দলে দারুণ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার আছেন। ট্রাভিড হেড, হেনরিখ ক্লাসেন, মার্করাম, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মার্কো জ্যানসেন, কামিন্স ফজলহক ফারুকিদের মধ্যে কাকে রেখে কাকে দলে খেলানো হবে সেটি নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে পারে হায়দরাবাদ। গেলবারের অধিনায়ক মার্করামের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় তিনি দলে থাকতে পারেন। অধিনায়ক হিসেবে কামিন্সের জায়গা পাকা। বাকি দুজনকে ঠিক করা কঠিনই হবে হায়দরাবাদের জন্য।

এই দলে এত বেশি তারকা ক্রিকেটার, যে কাকে রেখে কাকে উল্লেখ করা হবে সেটিই এখন সমস্যার নাম। সাড়ে ২০ কোটি রুপির কামিন্সর চেয়েও বোধকরি এই বিভাগে এগিয়ে রাখা যায় ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হেডকে। এ ছাড়া লঙ্কান লেগস্পিনার হাসারাঙ্গাও বড় তারকা। অন্তত শর্টার ফরম্যাটের দাবি মানলে।
দলে দারুণ কয়েকজন ব্যাটার রয়েছেন। নামধারী অলরাউন্ডারও রয়েছেন কয়েকজন। বোলিংয়ে টি নটরাজন, উমরান মালিকরা কার্যকরী হতে পারেন।
বেশ কিছু আসরে দারুণ দল গড়েও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায়নি বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নামধারী ক্রিকেটার নিয়েই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে ব্যাপারটি তেমনও নয়। গেল মৌসুমেই অন্তত শেষ চারে ওঠার মতো দল গড়ে হায়দরাবাদ। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে দলটি বিদায় নেয় লিগ পর্ব থেকে। এবার তাদের ভোগাতে পারে তাদের ব্যাটিং বিভাগ। শুনে চমক লাগলেও সেটিই সত্যি হতে পারে। বিদেশি ব্যাটার খেলাতে গেলে বোলারদের সঙ্কটে পড়বে তারা। দেশিদের মধ্যে তেমন কোনো ব্যাটার দলে ভেড়াতে পারেনি হায়দরাবাদ। বিদেশিদের ওপরই বেশি ভরসা করতে হবে হায়দরাবাদকে।
২০১৩ প্লে অফ
২০১৬ চ্যাম্পিয়ন
২০১৭ প্লে অফ
২০১৮ রানারআপ
২০১৯ প্লে অফ
২০২০ প্লে অফ

পাঞ্জাব কিংস দল
ব্যাটার: আব্দুল সামাদ, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, আনমলপ্রীত সিং, ট্রাভিস হেড, হেনরিখ ক্লাসেন, এইডেন মার্করাম, রাহুল ত্রিপাঠি, উপন্দ্রে যাদব।
অলরাউন্ডার: অভিষেক শর্মা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মার্কো জ্যানসেন, নিতিশ কুমার রেড্ডি, গ্লেন ফিলিপস, সানভির সিং, শাহবাজ আহমেদ, ওয়াশিংটন সুন্দর।
বোলার: প্যাট কামিন্স, আকাশ সিং, ফজলহক ফারুকি, ভুবনেশ্বর কুমার, মায়াঙ্ক মারকান্ডে, টি নটরাজন, সুবরামানিয়ান, উমরান মালিক, জয়দেব উনাদকাট।