আইপিএল টিম প্রিভিউ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৪ ১৭:২০ পিএম
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪ ১৭:১৫ পিএম
শিরোপার আক্ষেপ তৃতীয় বারেই ঘোচাতে চায় রাহুলদের লখনউ— সংগৃহীত ছবি
দরজায় কড়া নাড়ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আরেকটি আসর। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট। ৯৪ ম্যাচের বিরাট এই মহাযজ্ঞে থাকছে ১০টি ফ্রাঞ্চাইজি। সবগুলো দলের হালচাল, শক্তিমত্তা, দুর্বলতা এবং নানা বিষয় নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের ধারাবাহিক দল পর্যালোচনায় এই পর্বে থাকছে লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি)—
হাজার দিন পেরিয়ে অল্প হাঁটা হয়েছে, ২০২২ সালে আসা লখনউয়ের দলটি তাতেই রেখেছে বড় ছাপ। মারকাটারি আসরে অল্পতেই এগিয়েছে অনেকটা দূর। গত দুই বছরে দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দেওয়া লখনউ সুপার জায়ান্টস দুবারই নিশ্চিত করেছিল প্লে-অফ। কিন্তু একেবারে শেষের দিকে দলটি পায়নি সাফল্য। শিরোপায় চোখ রেখে ফ্রাঞ্চাইজিটি এবার অবশ্য বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে। দলের মেন্টর গৌতম গম্ভীরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সহঅধিনায়কের পদ হারিয়েছেন ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। দলে অধিনায়ক হয়ে ফিরেছেন কেএল রাহুল এবং কোচ হিসেবে থাকছেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার। ভারতের সেরাদের একজন আর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক মহাতারকার জুটিতেই স্বপ্ন দেখছে এলএসজি।
নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রাহুল-ল্যাঙ্গার জুটি লখনউ সুপার জায়ান্টস ফেসবুকআগে দুবার আইপিএলে খেলতে এসে দুবারই শেষ চার নিশ্চিত করেছিল লখনউ। দুবারই তারা ছিটকে গেছে এলিমেনটর ম্যাচ। হৃদয়ভাঙার সেই দুঃখ এবার ঘোচাতে চান রাহুল-ল্যাঙ্গার জুটি। নিলামে মোট ছয়জন খেলোয়াড়কে কিনেছিল দলটি— শিবম মাভি, আরশিন কুলকার্নি, মনিমরণ সিদ্ধার্থ, অ্যাশটন টার্নার, ডেভিড উইলি এবং মোহাম্মদ আরশাদ খান। এদের মধ্যে সবথেকে বেশি দাম পেয়েছেন শিবম। তাকে ৬.৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে সই করিয়েছে এলএসজি। সিদ্ধার্থ ২.৪০ কোটি টাকা পেয়েছেন। ডেভিড উইলিকে তারা ২ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছে।
দলের শক্তি
লখনউ সুপার জায়ান্টস দলের মূল শক্তি ব্যাটিং লাইন আপ। কুইন্টন ডি কক, কাইল মেয়ার্স, নিকোলাস পুরান এবং মার্কাস স্টোইনিসের মতো প্রভাবশালী বিদেশী খেলোয়াড়রা রয়েছেন। কেএল রাহুল সহ এই ব্যাটাররা এলএসজির ব্যাটিং লাইনআপকে অনেকটা শক্তিশালী করে তুলেছে। আইপিএলের ১৬তম সংস্করণে মেয়ার্স এবং পুরান খুব ভালো পারফরম্যান্সের প্রদর্শন করেছিলেন। আসন্ন মৌসুমে তারা জ্বলে উঠলে শিরোপার স্বপ্ন আরও ত্বরানিত্ব হবে লখনউয়ের।
দল হয়ে খেলতে হবে লখনউকে। সম্ভাবনার সবটা নিংড়ে দিতে হবে বাইশ গজে সংগৃহীত ছবিদুর্বলতা বা ঘাটতি
এলএসজি দলের বোলিং আক্রমণ খুব একটা শক্তিশালী নয়। রবি বিষ্ণোই স্পিন আক্রমণকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। কিন্তু পেস বোলিং বিভাগে এমন বলার মতো তেমন কেউ নেই। মার্ক উড তাদের দলের একজন অভিজ্ঞ পেসার। তবে তার ফিটনেসের কারণে দল সমস্যার মধ্যে পড়তে পারে। আইপিএল ২০২৩-এ তিনি ৪টি ম্যাচ খেলে ১১টি উইকেট শিকার করেছিলেন। তারপর ফিটনেসের সমস্যার কারণে ছিটকে গিয়েছিলেন। সেটি হলে আরও কঠিন হবে রাহুলদের শিরোপার পথ।
শঙ্কার কারণ
লখনউ সুপার জায়ান্টসের টপ অর্ডার বিদেশী খেলোয়াড়দের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। টুর্নামেন্টের মাঝে কোনোভাবে যদি তারা ছিটকে যান তাহলে দল সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবে দল। অন্যদিকে, মার্ক উড ভালো পারফরম্যান্সের প্রদর্শন করতে না পারলে এলএসজির বোলিং বিভাগ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। মোদ্দাকথা দেশিদের বেশি পারফর্ম করতে হবে। দলকে টানতে দেশি বিদেশি খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চটা দিতে হবে।
দশ দলের লড়াইয়ে রাহুলদের আছে বেশ পরিবর্তন, বদলায়নি শুধু শিরোপার স্বপ্ন— আইপিএলআইপিএলে লখনউয়ের সাফল্য
লখনউয়ের তীরে এসে তরি ডুবেছে দুবার। গৌতম গম্ভীরের মেন্টরশিপে কেএল রাহুল কিংবা ক্রুনাল পান্ডিয়া— কেউই সাফল্য এনে দিতে পারেননি। প্লে অফে প্রবেশ করলেও ফাইনাল খেলা হয়নি ফ্রাঞ্চাইজিটির। তবে নিজেদের দাপট জানান দিয়েছেন আসরে। শেষ দুই মৌসুমে প্লেঅফে জায়গা করে নিলেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়েছে লখনউ। এবার সেই খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ।
সম্ভাবনা
গত দুই মৌসুমে ফাইনালে উঠতে না পারলেও লখনউ সুপার জায়ান্টসের পারফরম্যান্স বেশ ভালোই ছিল। দেবদূত পাডিকাল গত মৌসুমে খুব একটা ভালো ছন্দের মধ্যে ছিলেন না। এবার তিনি নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, আরশিন কুলকার্নি এবং শিবম মাভির মতো আনক্যাপড খেলোয়াড়দের কাছে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে। বাজিমাত করার সুযোগ থাকবে কেএল রাহুলেরও। বড় পরীক্ষা কিংবা সুযোগ জাস্টিন ল্যাঙ্গারেরও।
লখনউ সুপার জায়ান্টস দল
ব্যাটার: কেএল রাহুল (অধিনায়ক), দেবদূত পাডিকাল, কুইন্টন ডি কক, নিকোলাস পুরান ও অ্যাশটন টার্নার
অলরাউন্ডার: আইয়ুস বাধোনি, দিপক হুদা, ক্রিষ্ণাপ্পা গৌতম, মার্কাস স্টয়নিস, মোহাম্মদ আরশাদ খান, প্রিরাক মানকাড, যুদ্ভির সিং, আর্সিন কুলকার্নি, কাইল মায়ার্স, ডেভিড উইলি ও কুর্নাল পাণ্ডিয়া
বোলার: শিভাব মাভি, শামার জোসেফ, অমিত মিশ্রা, ইয়াস ঠাকুর, মায়াঙ্ক যাদব, মহসিন খান, নাভিন উল হক, এম সিদ্ধার্ধ ও রবি বিষ্ণুই