আইপিএল টিম প্রিভিউ
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৪ ১৭:১৫ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম
শাহরুখেই আটকে আছে প্রীতির পাঞ্জাবের গল্প। ছবি : সংগৃহীত
দরজায় কড়া নাড়ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আরেকটি আসর। আগামীকাল ২২ মার্চ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট। ৯৪ ম্যাচের বিরাট এই মহাযজ্ঞে থাকছে ১০টি ফ্রাঞ্চাইজি। সবগুলো দলের হালচাল, শক্তিমত্তা, দুর্বলতা এবং নানা বিষয় নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের ধারাবাহিক দল পর্যালোচনায় এই পর্বে থাকছে পাঞ্জাব কিংস।

আইপিএলে পাঞ্জাবের গল্পটা থেমে আছে ২০১৪ মৌসুমে। সেবারই প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে প্রীতি জিনতার মালিকানাধীন পাঞ্জাব। যেই ফাইনালের আগে দল ছাপিয়ে শিরোনাম হয়েছিলেন বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খান ও প্রীতি জিনতা। শিরোপা কার নায়কের না কি নাইকার। কিন্তু ১ জুনের ফাইনালে বীর-জারার বীরেরই জয় হয়। হাতছোয়া দূরত্বে থামেন গ্ল্যামারগার্লখ্যাত প্রীতি। গৌতম গাম্ভীর, মানিশ পান্ডে, সাকিব আল হাসানদের নিয়ে গড়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ে পেরে ওঠেননি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বীরেন্দর শেবাগ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা।

তিন উইকেটের ওই হারের পর আর কখনও ফাইনালে উঠতে পারেনি প্রীতির দল। এমনকি প্লে-অফেই ওঠা হয়নি পাঞ্জাবের। আইপিএল ইতিহাস ঘাটলে দলটির যাত্রা থেমেছে ওই গ্রুপ স্টেজেই। প্রথম মৌসুম অর্থাৎ ২০০৮ সালে সেমিফাইনাল খেলা দলটি প্রতিবারই বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্বের বৈতরণি পার হওয়ার আগে। ঘুরেফিরে তাই পাঞ্জাবের গল্পটা আটকে আছে সেই ২০১৪ সালের ফাইনালে। এবার কী প্রীতির দলের গল্পে কোনো নতুনত্ব আসবে?
টুর্নামেন্ট শুরুর পরের দিন, ২৩ মার্চ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের আইপিএল অভিযান শুরু করছে পাঞ্জাব। গতবার ভালো ফলাফল করতে পারেনি তারা। অষ্টম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করে উত্তর-পশ্চিম ভারতের দলটি। তবে এবারের মেগা নিলাম থেকে বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে তারা। অনেকের মতে ভারসাম্যপূর্ণ দলই গড়েছে পাঞ্জাব।

শিখর ধাওয়ান, জনি বেয়ারস্টোর মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছেন পাঞ্জাবে। এ ছাড়া লিয়াম লিভিংস্টোন, সিকান্দর রাজা এবং স্যাম কারেনের মতো অস্ত্র রয়েছে এই দলে। যে কোনো সময় যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে আলাদা করে বললে ধাওয়ান ও বেয়ারস্টো দলের সবচেয়ে বড় তারকা।
এমন দুর্দান্ত বোলিং বিভাগ থাকার পর এটা বলা যেতে পারে তাদের শক্তির জায়গা হবেন বোলাররা। সেটি উঠে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়ার একটি ব্যাখ্যাতেও। সম্প্রতি তিনি পাঞ্জাবের শক্তির দিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আপনি কাগিসো রাবাদা, নাথান এলিস এবং স্যাম কারেনের মতো আরও তিনজন বোলার পেয়েছেন এবং আপনাদের কাছে ক্রিস ওকসও রয়েছে। আপনাদের কাছে ফাস্ট বোলিং বিকল্পের আধিক্য রয়েছে। তাই এই দলের ফাস্ট বোলিং ভালো এবং আমরা এটিকে তাদের শক্তির মধ্যে রাখব।’
ভারতীয় কন্ডিশন বিবেচনায় স্পিনাররা ম্যাচের ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন। সেটি আগেও দেখা গেছে। পাঞ্জাবে স্পিনারের অভাব রয়েছে। হরপ্রীত ব্রার ও রাহুল চাহার স্পিনার ঠিকই। কিন্তু তারা কী প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটারদের ঘুম কেড়ে নিতে পারবেন? ২০২৩ সালের মেগা ইভেন্টে তারা দুজনে সম্মিলিতভাবে কেবল ১৭টি উইকেট নিয়েছেন।

এই টুর্নামেন্টের একটি শিরোপাও এখনও জিততে পারেনি পাঞ্জাব। শুরুর আসর থেকে খেলা দলটির সর্বোচ্চ সাফল্যা একবার ফাইনাল খেলা। ২০১৪ সালের ফাইনালে তারা হেরে গিয়েছিল কলকাতার বিপক্ষে।
ব্যাটার: শিখর ধাওয়ান, জনি বেয়ারস্টো, হারপ্রীত সিং, প্রবসিমরান সিং, রাইলি রুশো, জিতেশ শর্মা।
অলরাউন্ডার: স্যাম কারেন, রিষি ধাওয়ান, লিয়াম লিভিংস্টোন, শশাঙ্ক সিং, শিভম সিং, সিকান্দার রাজা, অথরভা টেইড, ক্রিস ওকস।
বোলার: আর্শদ্বীপ সিং, রাহুল চাহার, নাথান এলিস, হারপ্রীত ব্রার, ভিদোয়াথ কাভিরাপা, হার্শাল প্যাটেল, কাগিসো রাবাদা।