প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৪ ১৯:৩০ পিএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৪ ১৯:৩০ পিএম
লুইস সুয়ারেজ
লিওনেল মেসিকে মাঠের বাইরে রেখে সাতটি ম্যাচ খেলেছিল ইন্টার মিয়ামি। কিন্তু দুর্ভাগ্য! প্রাণভোমরাকে বেঞ্চে রেখে জয়ের দেখা পায়নি ডেভিড বেকহ্যামের দল। ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাই খেলতে নামার আগে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর কপালে। কারণটা তো সবারই জানা। হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর হয়ে আছেন দর্শক। তাই হারের তেতো স্বাদ হজমের অজানা আশঙ্কাই পেয়ে বসেছিল ফ্লোরিডার ক্লাবটির অনুরাগীদের।
মাঠে মেসি ছিলেন না। তবে তার বন্ধু লুইস সুয়ারেজ মেসির অভাবটা পূরণ করে দিয়েছেন ঠিকই। বদলি হিসেবে নেমে ঝলক দেখিয়েছেন। করেছেন জোড়া গোল। সঙ্গে দলকে উপহার দিয়েছেন ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয়। এ নিয়ে মিয়ামির জার্সি গায়ে ৭ ম্যাচ খেলে সুয়ারেজের গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ৬-এ।
তবে লড়াইয়ের শুরুতে মেসির অভাবটা ঠিকই টের পেয়েছে মিয়ামি। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় ডিসি ইউনাইটেডকে লিড এনে দেন জারেড স্টুরোড। কিন্তু তাদের এগিয়ে থাকার সুখটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০ মিনিট বাদেই মিয়ামির হয়ে স্কোর লেভেল করেন লিওনার্দো কাম্পানা।
বিরতির পর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে মিয়ামি। কিন্তু কেউ জালের দেখা পাচ্ছিল না। শেষে ম্যাচের বয়স এক ঘণ্টা পেরিয়ে দুই মিনিট হতেই রবার্ট টেলরের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সুয়ারেজ। তাতেই বদলে যেতে থাকে চিত্রনাট্য। মাঠে নিজের অবস্থান জানান দিতে দশ মিনিটও লাগেনি তার। দলীয় আক্রমণের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে এবার এগিয়ে দেন উরুগুয়ের এ তারকা।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার তখনও ৫ মিনিট বাকি। ফের জ্বলে ওঠেন সুয়ারেজ। বক্সের ভেতর তিন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ক্ষিপ্রগতির শট নেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ। গোলবার ঘেঁষে বল আশ্রয় নেয় জালে। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বল রোখার চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি। তার হাতে বল লাগলেও শেষরক্ষা হয়নি। সুয়ারেজের বুট ছোঁয়া বল ঠিকই জাল কাঁপিয়ে দেয়।
মেসিকে ছাড়া ম্যাচ জিতে যারপরনাই উল্লসিত কোচ মার্টিনো বলেন, ‘যেভাবে প্রথম ১৫ মিনিটের ধাক্কা সামলেছে ফুটবলাররা, আমার ভালো লেগেছে। প্রথম ১৫-২০ মিনিটের পর ম্যাচটা আমরা ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল।’
চোটে থাকা মেসিকে ফেরাতে তাড়াহুড়ো করবে না মিয়ামি। নিতে চায় না কোনো ঝুঁকি। এ নিয়ে মার্টিনোর ভাষ্য, ‘এটা স্পষ্ট যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তাকে (মেসিকে) কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলানো। আমরা তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেব না।’
ইন্টার মিয়ামি কনকাকাফের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে ৩ এপ্রিল। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মন্টেরি। তার আগে লিগে দুটি ম্যাচ খেলবে মেসির দল। তার মানে নিউইয়র্ক রেড বুলস ও নিউইয়র্ক সিটির বিপক্ষেও দর্শক হয়ে থাকবেন সুপারস্টার মেসি। এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে এখন মিয়ামি। পাঁচ ম্যাচ খেলে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট।