প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
সতীর্থদের কাছে সিলেটে যে মানসিকতা চট্টগ্রামেও সেটি দেখতে চান শান্ত— সংগৃহীত ছবি
পূর্ণকালীন দায়িত্ব পেয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, ‘দল হিসেবে খেলতে চাই।’ ঢাকা থেকে সিলেট ঘুরে চট্টগ্রামেও টাইগার অধিনায়কের কণ্ঠে একই সুর। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা সিলেটে থেমেছে। ঘরের মাটিতে প্রায় দেড় বছর পর সিরিজ হারা বাংলাদেশ স্বস্তিতে নেই পছন্দের ওয়ানডে ফরম্যাটেও। তবুও আত্মবিশ্বাসী শান্ত। দল হিসেবে পারফর্ম করে কাটিয়ে উঠতে চান খারাপ সময়।
আনুষ্ঠানিকভাবে সবে শুরু নাজমুল হোসেন শান্তর যাত্রা। আপদকালীন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আগেও দিয়েছেন, জিতিয়েছেন তিন ফরম্যাটেই। নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে পাশ না করলেও সক্ষমতা দেখিয়েছেন শান্ত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামার আগে মঙ্গলবার টাইগার কাপ্তান শুনিয়েছেন একতার কথা। শান্তর মনে হয়েছে, সিলেট সিরিজে দলের সবাই এক হয়ে যেকোন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জিততে চেয়েছে। সতীর্থদের কাছে একই মানসিকতা চট্টগ্রামেও চান।
দল হিসেবে খেলার কথাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলেছেন শান্ত, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে দল হিসেবে খেলছি কিনা। আমার মনে হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে দল হিসেবে খেলেতে চেয়েছি। প্রত্যেকটা ম্যাচ যেকোন পরিস্থিতিতে জিততে চেয়েছি। পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত এটাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে। দল হিসেবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলছি, একে অপরকে কত সাহায্য করছি। পরবর্তী সাড়ে তিন-চার বছরে আমরা কতটা একসঙ্গে আছি এটা গুরুত্বপূর্ণ।’
মাসদুয়েক পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এটা বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে কিনা? শান্ত মতে, ‘খুব একটা প্রভাব ফেলে না। কারণ এই জিনিসটা সবাই মানিয়ে নিয়েছি। গত চার-পাঁচ বছর ক্রিকেট এভাবেই এগোচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সিরিজ থাকে বা প্রস্তুতির সুযোগ থাকে, সময়ও থাকে। মানসিকভাবে সবাই ফিট হতে পারে। সবাই এভাবেই খেলছে।’
ভারতের মাটিতে বসা ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবিই হয়েছিল বাংলাদেশের। তাছাড়া ২০২৩ সালের পর থেকে ৩২ ম্যাচ খেলে জিতেছে কেবল ১১টিতে। অথচ ওয়ানডে সংস্করণ ধরা হয় বাংলাদেশ দলের শক্তির জায়গা। সেই ওয়ানডেতেও বর্তমান পরিসংখ্যানের গ্রাফ নিচের দিকে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল অবধি ৪৮ ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ জিতেছিল ২৮ ম্যাচে। তবে একটা বছর খারাপ যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন নন শান্ত, ‘২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কাজেই একটা বছর খারাপ যেতেই পারে। কিন্তু দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই বছরটা ভালোভাবে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত।’
গত দুই বছরে টি-টোয়েন্টিতে ১৩টি ওপেনিং জুটি খেলেছে বাংলাদেশের। সিলেটে সর্বশেষ দলের উদ্বোধন করেছেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় ম্যাচ ছাড়া সফল ছিলেন না এই দুজন। বিশেষ করে নিচের দিকে ব্যাটিং করা সৌম্য ছিলেন ব্যর্থ। তবুও তার উপরই বিশ্বাস রাখার কথা বলেছেন কোচ চন্ডিকা হাতরুসিংহে। সিলেটের পর চট্টগ্রামেও কি ওপেনে থাকবেন সৌম্য? এমন প্রশ্ন কৌশলেই এড়িয়ে গেছেন শান্ত। তবে ১৫ জনের ওয়ানডে দলে লঙ্কানদের বিপক্ষে থাকা ৪ ওপেনারের (লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম ও এনামুল হক বিজয়) সবারই একাদশে থাকার সুযোগ দেখছেন।
যদি লঙ্কানদের বিপক্ষে আগামীকাল বুধবার সৌম্য একাদশে থাকেন, তবে তার থেকে অলরাউন্ডিং পারফর্মেই আশা করছেন টাইগার ক্যাপ্টেন, ‘ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— সবকিছুতে ওর কাছে শতভাগ চাই। শেষ সিরিজে সে অনেকদিন পর ফিরে আসলো, তিনটা ম্যাচে। তিনটা ম্যাচই খেলেছে। এর মধ্যে একটা বড় ইনিংসও ছিল। অবশ্যই ধারাবাহিকতার প্রয়োজন আছে। সব ব্যাটারেরই আছে। আলাদাভাবে সৌম্যের একার প্রয়োজন আছে সেটা বলব না। প্রত্যেক ব্যাটারের এই জায়গায় উন্নতির দরকার আছে।’ তবে কি প্রথম ওয়ানডেতে সৌম্য দলে থাকছেন এবং টি-টোয়েন্টির মত ওয়ানডেও ওপেন করবেন? অধিনায়ক শান্ত রাখলেন ধোঁয়াশা, ‘এখন এটা বলতে চাইছি না। দলের জন্য যেটা ভালো মনে হবে, সেটাই করা হবে।’
গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বারবার ব্যাটিং অর্ডার বদলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কে ওপেনার, কার দায়িত্ব মিডলে বা কে ফিনিশার— তা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। তবে শান্তর দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন টি-টোয়েন্টিতে একই একাদশ খেলিয়েছে। চট্টগ্রামে ওয়ানডে সিরিজেও কি এমন কিছুই হবে? শান্ত জানিয়েছেন, সাকিব আল হাসানের দেখানো পথে তিনি হাঁটবেন না, ‘গত সিরিজে খুব একটা অদলবদল হয়নি। এখন সাকিব ভাই নেই। দলের কম্বিনেশনে একটু এদিক–সেদিক করতে হয়। উনি থাকলে দল করাটা সহজ। এসব মাথায় রেখেই ব্যাটিং অর্ডার সাজাব। তবে আশা করব ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি নাড়াচাড়া হবে না।’