বিপিএল ফাইনাল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৪ ০০:২৬ এএম
সাইফউদ্দিনের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে ওঠেননি রাসেল— প্রবা ফটো
অপর পাশে জাকের আলী থাকলেও নিজের ওপরই আস্থা রাখলেন ক্যারিবীয় হার্ডহিটার আন্দ্রে রাসেল। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শেষ ওভার খেললেন একাই। ক্যারিবিয়ান সুপারস্টারের রুদ্রমূর্তির সামনে শুরুতে খেই হারিয়ে বসলেন ঘরের ছেলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিনটি ওয়াইড আর একটি নো বলে দিলেন চার রান। তবে শেষ ওভারের এই ডুয়েলে রাসেলকে আটকে রাখতে সমর্থ হলেন সাইফ।
এর আগে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ১৯তম ওভারে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন রাসেল। তবে সাইফের করা শেষ ওভারে ছক্কা তো দূরের ব্যাপার একটি বাউন্ডারিও মারতে পারেননি টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট খ্যাত রাসেল। আর এতে করে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে বেশিদূর যেতে পারেননি ভিক্টোরিয়ান্সরাও। ১৫৪ রানের পুঁজি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় চারবারের চ্যাম্পিয়নদের।
গতকাল শুক্রবার বিপিএলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দেয় কুমিল্লা। ক্যারিবীয় তারকা রাসেল নামার আগ পর্যন্ত ধুঁকছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। কাইল মায়ার্স, সাইফউদ্দিন আর তাইজুলদের বিপক্ষে যেন রান করতেই ভুলে গিয়েছিলেন লিটন-মঈন খানরা।
তাওহিদ হৃদয়ও পারেননি ভিক্টোরিয়ান্সদের হৃদয় জিততে। শেষ সময়ে ফরচুন বোলারদের ওপর চড়াও হন রাসেল। কিন্তু শেষ ওভারের লড়াইয়ে সাইফের সামনে সুবিধা করতে পারেননি এই ক্যারিবীয় তারকা। বারবার লম্বা শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। একটি বলও পারেননি মাঠছাড়া করতে।
মিরপুরে দশম আসরের ফাইনালের প্রথম ইনিংসে তিনটি বিষয় সামনে আসতে পারে। কুমিল্লার ব্যাটিং ব্যর্থতা, রাসেলের তাণ্ডব আর বরিশালের বোলারদের মিতব্যয়িতা, বিশেষত সাইফ টনিক। কুমিল্লাকে অল্পতে বেঁধে রাখতে আর রাসেল তাণ্ডব থামাতে সাইফ ছিলেন অনবদ্য। কুমিল্লার ব্যাটিং ইনিংসের ২০তম ওভারের শুরুর বলটি দুর্দান্ত ইয়র্কার ডেলিভারিতে রাসেলকে পরাস্ত করেন। কিন্তু নো বল। তার আগে দেন ওয়াইড। তবে ফ্রি হিট বলে ডট পান। পরের বলে আবারও ওয়াইড। মুশফিকুর রহিম পেছনে ঝাঁপিয়ে ঠেকান নিশ্চিত চার। এর পরের বলেও লাইন লেন্থ ঠিক রাখতে পারেননি। ওয়াইড।
ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে রান নেননি রাসেল। ডট। চতুর্থ বলে বড় শট খেলার ভূত মাথা থেকে নামিয়ে দেন রাসেল। সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক ছেড়ে দেন জাকের আলীকে। শেষ দুই বলে আসে দুটি সিঙ্গেল। ফুলারের করা আগের ওভারে ২১ রান তুলে নেয় কুমিল্লা। কিন্তু শেষ ওভারে আসে মোটে ৭ রান। এর ৩ রান ব্যাট থেকে। বাকি চার রান অতিরিক্ত।
এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সুনীল নারাইন। তবে মায়ার্সের করা পঞ্চম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন এই ক্যারিবীয় তারকা। বিদায়ের আগে ৫ বলে ৪ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এরপর পাওয়ার প্লেতে আরও দুই উইকেট হারায় কুমিল্লা। এক প্রান্ত আগলে রাখেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তবে এই ব্যাটারকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই।
স্কোরবোর্ডে ৭৯ রান তুলতে টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটারকে হারিয়ে রীতিমতে ধুঁকছিল কুমিল্লা। সেই সময়ে ত্রাণকর্তা হয়ে দলের হাল ধরেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জাকের আলী অনিক। ষষ্ঠ উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন। তবে ১৭তম ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে যান অঙ্কন। বিদায়ের আগে ডানহাতি এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৩৮ রান। অঙ্কন ফেরার পর শেষদিকে ঝড় তোলেন রাসেল।
বল হাতে বরিশালের হয়ে ৪ ওভারে ৪৪ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার করেন ফুলার। এছাড়া ম্যাকয়, সাইফউদ্দিন ও মায়ার্স পান ১টি করে উইকেট। ক্যারবিয়ান হার্ডহিটার রাসেল ১৪ বলে করেন অপরাজিত ২৭ রান। এর মধ্যে ১৯তম ওভারেই তুলেছেন ২১ রান। অপরাজিত ২০ রানের ইনিংসে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন জাকের আলী। কিন্তু শেষের লড়াইয়ে রাসেল পারেননি বড় স্কোর গড়তে। দারুণ বোলিংয়ে শিরোপার পথে দলকে অনেকটাই এগিয়ে রাখেন সাইফউদ্দিনও।