ক্লাব কাপ হকি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:১৭ পিএম
আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:১৯ পিএম
মোহামেডানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আবাহনী। ঊষার বিপক্ষে বড় জয়ে আরেক ফাইনালিস্ট মেরিনার্স। ছবি : আ. ই. আলীম
জয়ের সুভাসই পাচ্ছিল আবাহনী লিমিটেড। নির্ধারিত সময়ের কয়েক সেকেন্ড বাকি থাকতে ৩-২ ব্যবধানে লিড ছিল দলটির। কিন্তু শেষ বাশি বাজার আগে ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের ফাউল দাবী করাকে কেন্দ্র করে হট্রগোল বেধে যায় মাঠে। মুহুর্তের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। এরপর ফেডারেশনের কর্মকর্তারা এবং দুই দলের কর্মকর্তারা মাঠে ঢুকে মীমাংসায় আসেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পরাজয় মেনে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় মোহামেডানকে।
এর আগে দুবার ২০০২ এবং ২০০৫ সালের ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে মোহামেডানের বিপক্ষে হেরেছিল আবাহনী। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে সাদা-কালোদের বিদায় নিশ্চিত করে যেন সেটিরই প্রতিশোধ নিলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। অথচ প্রথম লিড নিয়েছিল মোহামেডানই। তবে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরে আসে আবাহনী। তৃতীয় কোয়ার্টারেই দলটি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ কোয়ার্টারের দুই দলই একটি গোল করে। তারপরও আবাহনীর লিড ছিল ৩-২। কিন্তু ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে থাকা দলটি হঠাৎই জড়িয়ে পড়ে হাতাহাতির ঘটনায়। জয়ী দলের পক্ষে রোমান সরকার জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি করেন অধিনায়ক পুস্কর খীসা মিমো। অপরদিকে মোহামেডানের হয়ে আমিরুল ইসলাম ও চার্ল উলরিচ সমান একটি করে গোল করেন।

দিনের প্রথম সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ঊষা ক্রীড়া চক্রকে ৮-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় মেরিনার্স ইয়াং ক্লাব। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে উঠল ডিফেনি্ডং চ্যাম্পিয়নরা। জয়ী দলের ডিফেন্ডার সোহানুর রহমান সবুজ হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করেন। এ ছাড়া মেরিনার্সের হয়ে মাঈনুল ইসলাম কৌশিক ২টি এবং মিথিলেষ ও অধিনায়ক ফজলে হোসেন রাব্বি সমান একটি করে গোল করেন। ঊষার পক্ষে দলটির পাকিস্তানের খেলোয়াড় মোহাম্মদ শারিক হ্যাটট্রিক করেও দলের বড় পরাজয় ঠেকাতে পারেননি। দলের হয়ে অপর গোলটি করেন আরশাদ হোসেন।
খেলার তৃতীয় মিনিটে সোহানুর রহমান সবুজের পেনাল্টি কর্নার থেকে পাওয়া গোলে লিড নেয় মেরিনার্স। নবম মিনিটে মিথিলেষের ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৭ মিনিটে আবারো পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় মেরিনার্স। গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন সবুজ।

বিরতি থেকে ফিরে খেলার ৩২ মিনিটে মাঈনুল ইসলাম কৌশিকের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৪-০-তে নিয়ে যায় মেরিনার্স। ৩৭ মিনিটে আবারও গোলের আনন্দ মেরিনার্সের; এবার ফিল্ড গোলে দলের ব্যবধান ৫-০ করেন দলটির অধিনায়ক রাব্বি। ৪৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক এবং দলকে ষষ্ঠ গোল এনে দেন সোহানুর রহমান সবুজ।
তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ মিনিটে অর্থাৎ খেলার ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার এবং পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৬-২ এ নামিয়ে আনেন ঊষার বিদেশি খেলোয়াড় মোহাম্মদ শারিক। খেলার চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারের ৫০ মিনিটে গিয়ে আবারো ঊষার গোল। ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৬-৩ করেন আরশাদ হোসেন। ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৭-৩ করেন মেরিনার্সের সবুজ। ৫৭ মিনিটে কৌশিকের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৮-৩ গোলের হয়। এরপর ৫৮ মিনিটে ঊষার হয়ে সবশেষ গোলটি করেন শারিক। এই গোলের মাধ্যমে হ্যাটট্রিকপূর্ণ হয় শারিকের এবং ব্যবধান ৮-৪ গোলে দাঁড়ায়। খেলার বাকি সময় আর কোনো গোল হয়নি।