আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৫৩ পিএম
আবেগে আপ্লুত সরফরাজ এভাবে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন।
তিনি হাসলেন, কাঁদলেন, কাঁদালেনও! অনেক কিছুই বলার ছিল,
বলেছেনও। তবে সরফরাজ আহমেদ যেটা বলতে পারেননি, ‘আমি এভাবেই জয় করি। আরাধ্য সাধন করি।
জয়কে পায়ে লুটাই।’
ভালোবাসা, পরিণয়—চার হাত এক হওয়া। ব্যক্তিজীবনেও ‘সাধক’ ছিলেন সরফরাজ। রঞ্জি ট্রফিতে রান ঘোড়া ছুটানো ছেলেটা পেয়েছিলেন ‘ধৈর্যশীল’ তকমা । মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পেয়েছেন ট্রিপল সেঞ্চুরিও। ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন অনেকটা বলে কয়েই। তারপরও মন গলাতে পারছিলেন না ভারত ক্রিকেট বোর্ডের। এ নিয়ে জাত-ধর্ম-বর্ণ কত কি সামনে এলো! ভারত বোর্ডের বিপক্ষে উঠল একচোখা অভিযোগ।
তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন সরফরাজ নিজেও। ছেলেকে প্রত্যাশামতো জায়গায় দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তার বাবা নওশাদ খানও। তবে ব্যক্তিজীবনেও তার ব্যাটিংয়ের মতোই ধৈর্যের প্রতিমূর্তি সরফরাজ। প্রতিপক্ষ বোলারদের সব তেজ বিষ শুষে নেন পরম ধৈর্যে। প্রতীক্ষার ফল সুমিষ্ট হয়, সেই প্রবাদটিকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সরফরাজ। প্রাণপ্রিয় স্ত্রী তথা পরিবারকে আনন্দে ভাসানোর জন্য ক্রিকেট মাঠে ফিরিয়ে আনলেন রবার্ট ব্রুসের ইচ্ছাশক্তিকেই। শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে তার হার না মানা ইচ্ছাশক্তির।
সরফরাজের অভিষিক্ত ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী রোমানা ও তার বাবা নওশাদমুম্বাইয়ের ছেলে কাশ্মিরের মেয়ে। ভূ-রাজনৈতিক কত বাধা-বিপত্তি। কিন্তু প্রেম কি আর এসব বাধ মানে । ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সরফরাজের অভিষেকে শুধু রাজকোটই নয়, যেন শান্তির বারতা কাশ্মির–ভারত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দিক হতে দিগন্তে। অভিষেকে করলেন দৃষ্টিনন্দন হাফসেঞ্চুরি। সরফরাজের অশ্রুসজল চোখ গ্যালারিতে খুঁজে ফিরেছে তার প্রিয়তমা স্ত্রী ও স্বজনদের। এমন মুহূর্তে হয়তো-বা চোখ মুছতে মুছতে ধৈর্যহারা সন্তানকে কোনো এক মা বলেছেন, ‘হাল ছেড় না বরং সরফরাজের মতো ধৈর্য ধরো।’
সাধনার মূল্য পেলেন সরফরাজ। এমন দিনে মাঠে ছিলেন তার
স্ত্রী রোমানা জাহুর ও বাবা নওশাদ। সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে অনিল কুম্বলের হাত থেকে
টেস্ট অভিষেকের টুপি। কিছুটা দূরে দাঁড়ানো বাবা ও স্ত্রীর দিকে নজর বুলিয়ে নিলেন।
আবেগ আটকে রাখতে পারলেন না। জল গড়িয়ে পড়ল ফোঁটায় ফোঁটায়। জামা দিয়ে চোখ ঢাকলেন। প্রথমেই
গেলেন বাবার কাছে। দেখালেন গর্বিত টেস্ট ক্যাপ। ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন বাবা। ছেলের টেস্ট
টুপিতেও চুমু খান। এরপর পরম আবেগে জড়িয়ে ধরলেন তার স্ত্রী রোমানাকে।
টেস্ট ক্যাপ পরার পর বাবাকে এভাবে জড়িয়ে ধরেন সরফরাজ।
এদিন ম্যাচ চলাকালে সম্প্রচারকারী সংস্থার হিন্দি ভাষার ধারাভাষ্য বক্সে দেখা যায় নওশাদকে। সেখানে আকাশ চোপড়া জিজ্ঞেস করেন, ‘সরফরাজ়ের অভিষেক হওয়ার জন্য কি একটু বেশি দিন অপেক্ষা করতে হলো?’ উত্তরে নওশাদ বলেন, ‘রাত কো ওয়াকত চাহিয়ে গুজারনে কে লিয়ে, লেকিন সূরজ মেরি মর্জি সে নেহি নিকালনে ওয়ালা।’ বাংলা যার অর্থ, রাতের অন্ধকার কাটতে সময় লাগে, কিন্তু সূর্য আমার ইচ্ছা অনুযায়ী উঠবে না।
তবে কি নওশাদের কথাতেও অভিমানের সুর। নাকি অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন ? তবে অভিষেকে প্রাণবন্ত অর্ধশতক (৬২) করে তার ছেলে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি রেসের ঘোড়া।