বিপিএল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:৪২ পিএম
ব্যাট হাতে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়লেও সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে বড় সংগ্রহ পেয়েছিল ফরচুন বরিশাল। এরপর রান তাড়া করতে নেমে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন দুর্দান্ত ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। একমাত্র অ্যালেক্স রস কিছুটা লড়াই করেছেন। তার ফিফটি বাদে সেভাবে ঢাকাকে কেউ পথ দেখাতে পারেননি। ফলে বরিশালের কাছে ঢাকা হেরেছে ৪০ রানে। যা চলতি বিপিএলে তাদের টানা অষ্টম হার। আর এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে উঠে এলো বরিশাল।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল বরিশাল। জবাব দিতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ রান করতেই অলআউট হয়ে যায় ঢাকা। ফলে আট ম্যাচে চার জয়ে পরের রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখল তামিম ইকবালের দল।
এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফরচুন বরিশাল। তবে সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটাররা। দলীয় ১৯ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা।
৪ বলে ৪ রান করে তামিম আউট হন শরিফুল ইসলামের বলে। আর ৮ বলে ১০ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে সাজঘরে ফেরেন শেহজাদ। এই দুই ব্যাটারের মতো ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিকুর রহিমও। ৩ বলে মাত্র ১ রান করে তাসকিনের বলে বোল্ড হয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।
তবে রিয়াদ আর সৌম্যের রানে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে বরিশাল। চতুর্থ উইকেটে ৮৫ বল খেলে দুজনের জুটি থেকে আসে ১৩৯ রান। মাহমুদউল্লাহ ৪৭ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রান করে সাজঘরে ফিরলেও উইকেটে অপরাজিত ছিলেন সৌম্য।
শেষ দিকে শোয়েব মালিককে নিয়ে তিনি ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান। সৌম্য-শোয়েব জুটি থেকে আসে ১৮ বলে ৩১ রান। সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৭৫ রান করে এবং শোয়েব ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। এতে ১৮৯ রানের বড় সংগ্রহ পায় বরিশাল।
রান তাড়ায় একবারের জন্যও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ঢাকা। দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন সাব্বির (৫)। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের ম্যাচে ফিফটি করা মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবং সাইফ হাসানও।
বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ওবেড ম্যাকয়ের স্লোয়ারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনের তামিমের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম (১০)। সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের প্রথম বলে শর্ট লেংথ ডেলিভারি পুল করার চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন সাইফ (১২)।
চতুর্থ উইকেট এসএম মেহেরব হাসান ও অ্যালেক্স রস দেখেশুনে ব্যাট করতে থাকেন। তাদের ৩৯ রানের জুটিতেও দলের গতি বাড়াতে পারেননি। ২৮ রান করতে ২৯ বল খেলেন মেহেরব। ৩ চারের সঙ্গে মারেন ১টি ছক্কাও।
এরপর চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা (৪), গাজী তাহজিবুল ইসলাম (৭), লাহিরু সামারাকুন (০) দ্রুত ফিরলে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বরিশালের জয়। তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি করেন রস। তার ৩ ছক্কা ও ৫ চারে ৩০ বলে ৫২ রানের ইনিংস শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়।
আসরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করা ঢাকা এ নিয়ে হারল টানা ৮ ম্যাচ। যা বিপিএল ইতিহাসে টানা হারের লজ্জার রেকর্ডও বটে। এত দিন এই বিব্রতকর কীর্তি ছিল সিলেট রয়্যালসের। ২০১২ সালে প্রথম আসরে শুরুর সাত ম্যাচ হেরেছিল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ফরচুন বরিশাল: ২০ ওভারে ১৮৯/৪ (শেহজাদ ১০, তামিম ৪, সৌম্য ৭৫*, মুশফিক ১, মাহমুদউল্লাহ ৭৩, মালিক ১৯*; মেহেরব ১-০-৭-০, শরিফুল ৪-০-৩৬-২, তাসকিন ৪-০-৩৫-২, সামারাকুন ৪-০-৪৪-০, চাতুরাঙ্গা ৪-০-২৮-০, আরাফাত ১-০-১৪-০, সাব্বির ২-০-২৩-০)।
দুর্দান্ত ঢাকা: ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ (সাব্বির ৫, নাঈম ১০, সাইফ ১২, রস ৫২, মেহেরব ২৮, চাতুরাঙ্গা ৪, তাহজিবুল ৭, সামারাকুন ০, তাসকিন ১২, শরিফুল ৭, আরাফাত ১*; মিরাজ ২.৪-০-১৭-২, আকিফ ৪-০-৪৭-১, ম্যাকয় ৪-০-১৯-২, তাইজুল ২-০-২২-০, সাইফউদ্দিন ৪-০-২১-৩, সৌম্য ৩-১-২১-০)।
ফল: ফরচুন বরিশাল ৪০ রানে জয়ী।