× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাগরিকার দুঃখ, সাগরিকার সুখ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৩:৫৭ এএম

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:১৬ এএম

ম্যাচ শেষে বাব-মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোসাম্মৎ সাগরিকা। প্রবা ফটো

ম্যাচ শেষে বাব-মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোসাম্মৎ সাগরিকা। প্রবা ফটো

নিশ্চিত পরাজয়ের দিকেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে তখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। যোগ করা সময়ের খেলায়ও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিক বাংলাদেশ। অবশেষে (৯০+৩) মোসাম্মৎ সাগরিকার অসাধারণ নৈপুণ্যে ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে সাইফুল বারী টিটুর দল। টাইব্রেকার আর বিতর্কিত অধ্যায়ের পর যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ ও ভারত। যদিও সাগরিকা চেয়েছিলেন দেশকে এককভাবে শিরোপা জেতাতে। তা না হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ আছে তার।

অথচ সাগরিকার ওই গোল না হলে ম্যাচ এতদূরই যায় না। তবে গোলটা সাগরিকার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শুরুর ৪ মিনিটের মাথায়ই বলে প্রথম স্পর্শ পান এ স্ট্রাইকার। গোলে দারুণ শটও নেন। এরপর প্রায় পুরো ম্যাচেই নিষ্প্রভ থেকেছেন সাগরিকা। অথচ তার দিকেই তাকিয়ে ছিল পুরো বাংলাদেশ। কোচেরও বড় আস্থার জায়গায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। এটা ছিল তার টুর্নামেন্টের চতুর্থ গোল। আগের তিন ম্যাচের দুটিতে খেলেছেন আর দুটিরই নায়ক ছিলেন সাগরিকা। বৃহস্পতিবার আরও একবার বাংলাদেশ দলের কান্ডারি হলেন রাণীশংকৈল থেকে উঠে আসা এ ফুটবলার।

ম্যাচ শেষে স্বাভাবিভাবে সাংবাদিকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন সাগরিকা। মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের আলোয় সাংবাদিকদের আগ্রহে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দাঁড়িয়েছিলেন সাগরিকা। একটু আগে তার গোলে যে বাংলাদেশ নিশ্চিত পরাজয় থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং দল যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার জন্য প্রিয় বাবা, মাকেই কাছে পেলেন তিনি। যদিও তাদের মাঠে আসার কথা আগে থেকে জানতেন না সাগরিকা। মা-বাবাকে পেয়ে উচ্ছ্বাসটা প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আমি প্রথমে জানি নাই আমার বাবা-মা আসবে। তো হঠাৎ করে আমি ওপরে আসি... তখন একজন আমাকে বলছিল তোমার বাবা আসছে তুমি কি জানো। তখন আমি তো পুরাই অবাক যে আমার বাবা-মা আসতেছে... তখন পরে আমার বাবা-মার কাছে দৌড়ে গেছি, দেখছি সত্যিই আমার বাবা-মা আসছে, অনেক খুশি হইছি যে আমার বাবা-মা আসছে।’

অথচ সাগরিকার ফুটবল খেলাটাতে প্রথমে তার বাবা সমর্থন করেননি। তার ইচ্ছা ছিল না মেয়ে ফুটবল খেলুক। পরে খালা এবং মায়ের সমর্থনে ফুটবল চালিয়ে যান সাগরিকা। সেটি মনে করিয়ে দেওয়ায় সাগরিকা বলেন, ‘আমার বাবা প্রথমে খেলতে দিতে চায়নি। পরে আমার বাবার সাপোর্ট ছিল। আমার বাবাকে বলছিলাম আমি একদিন বড় খেলোয়াড় হব। তো ইনশা আল্লাহ আজ (বৃহস্পতিবার) ভালো খেলছি। আমার বাবা-মাকে দেখাই দিছি আমি পারি...।’

যোগ করা সময়ে গোল করার পর আপনার অনুভূতি কেমন ছিলজানতে চাইলে সাগরিকা বলেন, ‘প্রথমে গোল করতে পারি নাই, খুব খারাপ লাগছিল যে ওরা তো খেলেতেছে আমরাও খেলতেছি, ওরা গোল করছে, তাহলে আমরা কেন গোল করতে পারব না। এরপর বল পাইছি আর গোল করছি। ইনশা আল্লাহ গোল করছি... ভালো লাগছে।’

তার পরও সাগরিকার দুঃখ আছে। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে একক শিরোপার মালিক করতে, ‘অবশ্যই দুঃখ আছে। এইটা (ট্রফি) আমাদের একার হওয়ার কথা ছিল। তার পরও আমরা অনেক খুশি যে চ্যাম্পিয়ন হইছি।’ টুর্নামেন্টে ফাইনালসহ তিন ম্যাচ নেমেছিলেন সাগরিকা। তিন ম্যাচে ৪ গোল করেছেন। যৌথভাবে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলরক্ষক। ম্যাচের বিতর্কিত অধ্যায়ের পর টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়নি। সেটি নিয়ে সাগরিকার অবশ্য আক্ষেপ নেই বলেই জানালেন। তিনি বরং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেই খুশি বলে জানিয়েছেন।

এদিন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন কারণে চোখ ভিজিয়েছেন সাগরিকা। প্রথমে দলকে সমতায় জিতিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে কেঁদেছেন। দ্বিতীয়বার কেঁদেছেন ভারতের উল্লাসে; যখন টসের মাধ্যমে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় যুগ্মভাবে ভারতের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এরপর ফের আনন্দে কেঁদেছেন সাগরিকা। হয়তো আনন্দে কাঁদিয়েছেন সমর্থকদের।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা