রুবেল রেহান
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:৫০ এএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৪৯ এএম
১-১, ৫-৫, ৬-৬, কয়েন টস, অত:পর ঝুলে থাকল সবকিছু !
নাটক ছাড়িয়ে যাওয়া নাটকীয় ম্যাচটা রোমাঞ্চকর এক লড়াই শেষে শিরোপা নির্ধারণ হয় টস নিয়মে। শিরোপা উল্লাসে মাতোয়ারা ভারতীয় শিবির তখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অপেক্ষায়। এটি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ দল। ফাইনাল মোড় নেয় অন্য দিকে। শেষ হয়েও হলো না শেষ। নতুন ঘোষণা আসে শ্রীলঙ্কান ম্যাচ কমিশনার ডি সিলভা জয়াসুরিয়া ডিলানের থেকে। টুর্নামেন্টের বাইলজে নাকি টাইব্রেকারের উল্লেখই নেই। নেই টসের বিষয়টিও। অর্থাৎ পেনাল্টি শূট চলবে। সেটি নেয়ার জন্য দুই দলের খেলোয়াড়দের সময় বেঁধে দেওয়া হয় আধা ঘন্টা। সেই সময়ের মধ্যে কোনো দলের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ না করলে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে অন্য দলকে। ম্যাচ কমিশনারের এই নতুন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি ভারতীয় দল। এরপর আবারো অপেক্ষা। শেষপর্যন্ত যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হল বাংলাদেশ ও ভারতকে।
বিতর্কিত অধ্যায়টুকু বাদ দিলে এই ম্যাচটি হতে পারত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহিাসে অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ। ম্যাচে প্রথমেই লিড নেয় ভারত। শুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে অতিথি দলটি। কিন্তু বিরতির পর দোর্দন্ড প্রতাপে ফেরে স্বাগতিক দল। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। তারপরও দাতে দাত চেপে ম্যাচে লিড ধরে রাখে ভারত। ম্যাচে ভারতের জয় যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই খেলায় সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। প্রথম প্রথম দুই ম্যাচের ত্রাতা মোসাম্মৎ সাগরিকা এবারও রক্ষা করলেন বাংলাদেশকে। যোগ করা সময়ের তার অসাধারণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ১-১ সমতা করে সাইফুল বারী টিটুর দল।

এই ম্যাচের বাইলজে অতিরিক্ত সময় না থাকায় সরাসরি পেনাল্টি শূটআউটে যায় দুই দল। যেখানে প্রথম শট নিতে আসা আফিদা খন্দকার বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। প্রথম শট নিতে আসা ভারতের নেহা আফিদাকে অনুসরণ করেন। সেটি চলতি থাকে আটটি শট পর্যন্ত। অবশেষে নবম শটে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পর ফের উত্তেজনা। এবার হেনার নেওয়া শটটি ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। আনন্দে আত্মহারা দর্শক উল্লাসে ফাটে শিরোপা জয়ের আনন্দে। সেই আনন্দে বাধ সাধেন রেফারি। জানান নেহা শট নেওয়ার আগে টাচলাইন থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক স্বর্ণা। দ্বিতীয়বার শট নিতে এসে আর ভুল করেননি নেহা।
বৃহস্পতিবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে সাফের ফাইনালে ম্যাচের আট মিনিটেই লিড নেয় ভারত। স্বাগতিকদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও গোলরক্ষকের ভুলটা কাজে লাগান শিবানী দেবী৷ ভারতীয় মিডফিল্ডার নিতু লিন্ডার থ্রোতে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বুদ্ধিদীপ্তভাবে প্লেসিংয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। এই লিড ম্যাচের অন্তিম মুহুর্ত পর্যন্ত ধরে রাখে ভারতীয় মেয়েরা।

কিন্তু ম্যাচের শেষ বাশিঁ বাজার আগে ভারতের উৎসব ভেস্তে দেন সাগরিকা। তার অসাধারণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ১-১। এরপর দুই দলের এগারো খেলোয়াড়ের ২২টি শট দেখে কমলাপুরের স্টেডিয়াম। সব খেলোয়াড়ের নেওয়া শট শেষ হয়ে তো গেল। এবার তবে কি? প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছিল প্রেসবক্সে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যেও। বাইলজে সবকিছু ক্লিয়ার না থাকায় দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় দুই দলের অধিনায়ককে নিয়ে টস করতে আসেন রেফারি। জানা গেল টসে নির্ধারিত হবে শিরোপা ভাগ্য। টস ভাগ্য গেল ভারতের পক্ষে। উৎসবও শুরু করে দেয় ভারতীয় শিবির। এবার আপত্তি জাানয় বাংলাদেশ।
স্বাগতিকদের আপত্তিতে ম্যাচ কমিশনার ডি সিলভা জয়াসুরিয়া ডিলান দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরত আনেন। কিছুক্ষণ পরই মাঠ ছেড়ে যায় ভারত। ম্যাচ অফিসিয়াল ও বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা অবস্থান করেন মাঠে । আধা ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন ম্যাচ কমিশনার। এই সময়ের মধ্যে ভারতের নারীরা মাঠে না নামলে স্বাগতিকদের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। এই অবস্থান থেকেও সরে আসেন ম্যাচ কমিশনার। দুদলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষনা করে সামাল দেন পরিস্থিতি।
রোমাঞ্চকর আর মহাকাব্যিক ফাইনাল শেষ হয় চরম নাটকীয়তা আর বিতর্কের মধ্য দিয়ে।