প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৩২ পিএম
প্রিমিয়ার লিগে ফোডেনের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক এটি। প্রথমটি করেছিলেন ২০২২ সালের অক্টোবরে। ছবি : এক্স
ইনজুরি থেকে কদিন আগেই সেরে উঠেছেন কেভিন ডি ব্রুইন। ম্যানচেস্টার সিটির বেলজিয়াম তারকা মাঠে ফিরতেই ছিটকে যান আর্লিং হাল্যান্ড। মাঝে মধ্যে পুরোপুরি ফিট ছিলেন না মিডফিল্ডার বার্নার্ন্দো সিলভা। যদিও এদের মধ্যে দুয়েকজনকে ছাড়া একাদশ সাজাতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলাকে। দলের বেঞ্চ এতটাই শক্তিশালী যে ডি ব্রুইনের মতো তারকা ফুটবলার ছাড়াও টানা ম্যাচ জিতেছে সিটিজেনরা। তবে সব তারকাদের একসঙ্গে দেখতে না আক্ষেপটা ছিল। সেটি অবশেষে মিটেছে সোমবার রাতে।

প্রিমিয়ার লিগের খেলায় ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে এদিন আতিথেয়তা নেয় ম্যানসিটি। যেদিন শুরুর একাদশে ফলস নাম্বার নাইনে খেলেছেন হাল্যান্ড। রাইট উইংয়ে বার্নার্দো সিলভা, লেফট উইংয়ে, ফিল ফোডেন। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে ছিলেন ডি ব্রুইন, জুলিয়ান আলভারেজরা। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে রদ্রি। কী ছিল না এই দলে? ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে এতটাই শক্তিশালী দল গার্দিওলা নামিয়েছিলেন তাতে যে কারোই মনে হওয়া স্বাভাবিক, ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে ম্যানসিটি।
কিন্তু এমন তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়েও শুরুতে পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। এই দলটির বিপক্ষে গত মৌসুমে তাদের হোম ম্যাচে হেরে বাড়ি ফিরেছিল ম্যানসিটি। এরপর অ্যাওয়ে ম্যাচেও ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে হেরেছিল গার্দিওলার দল। ব্রেন্টফোর্ড একমাত্র দল যারা গত মৌসুমে সিটিকে দুবার হারিয়েছে। এবারও কী তেমন কিছু হবে কি না শঙ্কায় থাকা সমর্থকদের জন্য যেন একাই প্রস্তুত ছিলেন ফোডেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দলকে সমতায় ফেরান, এরপর দ্বিতীয়ার্ধে করেন আরও দুই গোল। ইংলিশ তারকার হ্যাটট্রিকের সুবাদে ৩-১ গোলে ব্রেন্টফোর্ডকে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।

ফোডেন ম্যাচের নায়ক হলেও প্রথমার্ধের সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল ফ্লেকেন। শুধু প্রথমার্ধেই ৯টি অসাধারণ সেভ করেন ব্রেন্টফোর্ডের এই ডাচ গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কয়েকটি সেভ করেন তিনি।
এক দিন আগে সিটিকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে ওঠা আর্সেনালকে ফের তিনে নামিয়ে দিল পেপ গার্দিওলার দল। এই জয়ে ২২ খেলায় ৪৯ পয়েণ্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে ম্যানসিটি। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে আর্সেনাল। যদিও মিকেল আর্তেতার দল এক ম্যাচ বেশি খেলেছে। ২৩ খেলায় ৫১ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল।
খেলায় দশম মিনিটে লক্ষ্যে ম্যাচের প্রথম শট নেয় ম্যানসিটি। বক্সের বাইরে জায়গা বানিয়ে আলভারেসের নেওয়া শট নিজের বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ব্যর্থ করে দেন ফ্লেকেন। চতুর্দশ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের আরেকটি শট একই দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান তিনি। পরের মিনিটে আবার সিটির সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ফ্লেকেন। এবার বক্সের বাইরে থেকে কাইল ওয়াকারের জোরাল শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান ৩০ বছর বয়সি ডাচ গোলরক্ষক।
২১তম মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের এগিয়ে যাওয়াতেও ফ্লেকেন রাখেন বড় অবদান। সিটির রক্ষণের দায়ও কম ছিল না অবশ্য। ফ্লেকেন গোল কিক নেন উঁচু করে, মাঝমাঠ থেকে বল ধরে এগিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন নিয়াল মুপে। তাকে আটকানোর মতো কেউ ছিল না। চলতি মৌসুমে প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে অ্যাসিস্ট করলেন ফ্লেকেন।
দুই মিনিট পরই সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ আসে হাল্যান্ডের সামনে, আবারও ব্রেন্টফোর্ডের ত্রাতা ফ্লেকেন। এগিয়ে এসে ওয়ান-অন-ওয়ানে হাল্যান্ডের শট পা দিয়ে আটকে দেন তিনি। ২৬তম মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত সেভ করেন ফ্লেকেন। এবার বক্সের বাইরে থেকে ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ইয়োশকো ভার্দিওলের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান তিনি। প্রথমার্ধের তিন মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আর জাল অক্ষত রাখতে পারেননি ফ্লেকেন। লক্ষ্যে নিজেদের দশম শটে এসে অবশেষে গোলের দেখা পায় ম্যানসিটি। তাদের প্রথম ৯টি শটই ঠেকান ফ্লেকেন।

ডি ব্রুইনের ক্রস বক্সে হেডে ক্লিয়ার করতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ডের ডিফেন্ডার। বল বুক দিয়ে নামিয়ে কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান ফোডেন। তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না ফ্লেকেনের। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে ফের ব্রেন্টফোর্ডের জালে বল, ম্যানসিটির লিড। ডি ব্রুইনের ক্রসে বক্সে কোনাকুনি দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফোডেন। ৭০তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ম্যানসিটিকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন ২৩ বছর বয়সি ইংলিশ মিডফিল্ডার। হাল্যান্ডের পাশ ধরে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। বাকি সময়ে সফরকারীরা কয়েকটি সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়েনি।
প্রিমিয়ার লিগে ফোডেনের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক এটি। প্রথমটি করেছিলেন ২০২২ সালের অক্টোবরে। সেবার ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে সিটির ৬-৩ গোলের জয়ে ফোডেনের পাশাপাশি হ্যাটট্রিক করেছিলেন হাল্যান্ডও।