প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৪০ পিএম
বর্ষণরা শেষ অবধি পারেননি, সুপার সিক্সে থেমেই ফিরছেন রাব্বিরা— বিসিবি
কালক্ষেপন করেননি ইয়ান বিশপ। বেনোনিতে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংস শেষ হতে না হতেই টুইট, ‘এই তরুণরা অসম্ভব শক্তিশালী এবং দক্ষ— ওরা কাউকে ভয় পায় না।’ ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গতকাল শনিবার টুইটারে মেতেছিলেন টাইগার পেসারদের প্রশংসায়। বিশপের কণ্ঠে এমনিতেও বাংলাদেশের স্তুতি ঝরে। কিন্তু চলতি অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে জুনিয়র টাইগারদের পারফরম্যান্সকে যদি দাড়িপাল্লায় আনেন তবে বিশপের কথাটাই বহুলাংশে সঠিক। প্রায় প্রতি ম্যাচে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়ানো মাহফুজুর রহমান রাব্বির তুরুপের তাস হয়েছেন এই পেসাররা। নির্ভীক পেস আক্রমণে ভর করেই তো প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে সুপার সিক্সে এতদূর!
দক্ষিণ আফ্রিকার উইলমোর পার্কেও তেমনটি করেছিলেন রহনত দৌলা বর্ষণ-মারুফ মৃধারা। পেস বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে কাঁপন ধরিয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেখিয়েছেন দাপট এবং অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচটিতেও স্রেফ ধসিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচ থেকেই পেসারদের দাপট। হিসেবের নিরিখে ব্যাটিংয়ে খুব একটা ভালো না কাটানো বিশ্বকাপে তাণ্ডব চালিয়েছেন পেসাররা। বলা চলে, আসরে বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছেন বর্ষণ-মারুফদের গতি আর আগ্রাসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় বিশ্বকাপে দাড়ি দ্রুতই পড়েছে।
খেরোখাতার হিসেবও বলছে পেসারদের পক্ষে। যুব বিশ্বকাপে প্রাথমিক পর্ব ও সুপার সিক্সের দুটি ম্যাচ মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ৪৫টি উইকেট নিয়েছেন রাব্বির দল। এরমাঝে ২০টি উইকেট পুরেছেন চার পেসার। ভারতের বিপক্ষে নেওয়া সাত উইকেটের ৬টিই পেসারদের। টুর্নামেন্টে নিজেদের উদ্বোধনী দিনে মারুফ মৃধা পেয়েছিলেন ফাইফারের দেখা। সুপার সিক্সের দুটি ম্যাচে কঠিন সমীকরণের মুখে চারটি করে মোট আট উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন পেসার বর্ষণ। তাইতো বিশপের কণ্ঠে নতুন দিনের পেসারদের স্তুতি।
গতকাল স্পিনার শেখ পারভেজ জীবনের হতে যাওয়া দিনটি নিজের করে নিয়েছেন বর্ষণ। ৮ ওভারে ১ মেডেন দিয়ে চার উইকেট, খরচা মোটে ২৪ রান। উইকেট না পেলেও মারুফ মৃধা ও ইকবাল হোসেন ইমন বাড়িয়েছিলেন চাপ। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের পেস অ্যাটাক মুগ্ধ করেছে প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার বিশপকে। পাকিস্তানকে ১৫৫ রানে আটকে দেওয়ায় টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখছি। তাদের পেস বোলাররা যেমনভাবে উন্নতি করেছে তাতে মুগ্ধ না হয়ে পারছি না। মাঠে কি অসম্ভব শক্তিশালী এবং দক্ষ ওরা! আর ওরা কাউকে ভয়ও পায় না।’
অবশ্য এবারই প্রথমবার নয়, পোর্ট অব স্পেনের কিংবদন্তি বাংলাদেশকে বহুবার প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। যুব বিশ্বকাপের ২০২০ সালের ফাইনালে আকবর আলীদের স্তুতি গেয়েছিলেন, সেবার ভারতীয়দের রোষের মুখেও পরেছিলেন বিশপ। লাল-সবুজের দেশে প্রথম কোনো বিশ্বকাপ আসার দিনে শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব আর মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রশংসায় মেতেছিলেন। আকবরদের ট্রফি উল্লাসের ভিডিও টুইটারে দেওয়ার আগে দুবার ভাবেননি। মন কেড়ে নেওয়া সেই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে লিখেছিলেন, ‘এই তরুণদের জন্য খুব খুশি লাগছে। আশা করি এদের মাঝ থেকে অনেক ভবিষ্যৎ তারকা বের হবে।’
বিশপের কণ্ঠে এবার নির্ভীক পেসারদের জয়ধ্বনি। উইলমোর পার্কে টস হেরে পাকিস্তানও পরেছিল টাইগারদের বোলিং তোপে। সুপার সিক্সে নেপালের বিপক্ষে তাণ্ডব চালানো বর্ষণ এদিনও দেখান আগ্রাসন। শেখ পারভেজ জীবনের ঘূর্ণিকে সঙ্গী করে পাকিস্তানের ব্যাটারদের বেশ নাকানিচুবানি খাওয়ান। তাতেই দেড়শ ছাড়িয়ে বেশিদূর যেতে পারেনি পাকিস্তান। শক্তিসামর্থ্য, পরিসংখ্যান কিংবা আসরে অবস্থান সববিভাগে এগিয়ে থাকা পাকিস্তানের ব্যাটিংধসের শুরুটাও আসে বর্ষণের হাতে। দলীয় ৩৭ রানের মাথায় পাকিস্তানের ওপেনার শামিল হোসেনকে স্রেফ বোকা বানান বর্ষণ। স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে যাওয়া বলটি ছেড়ে দিয়েছিলেন শামিল। কিন্তু বিধিবাম! গতির সঙ্গে বাঁক নিয়ে জুনিয়র টাইগারের বল ভেঙে দিল স্ট্যাম্প। শামিলকে ফেরানোর পর আরও তিন ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন বর্ষণ। ঝুলিতে পরেছেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার এবং টেলএন্ডারে হুমকি হয়ে ওঠা মোহাম্মদ জিসানের উইকেট। ইনিংস শেষে রহনদ দৌলা বর্ষণের বোলিং স্ট্যাটস এমন— ৮-১-২৪-৪।
সুপার সিক্সে সেমির স্বপ্ন তথা বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিয়ে রাখার ম্যাচে বর্ষণ ছিলেন দাপুটে। ম্যাচের শুরুর দিকে শিবলী ক্যাচ মিস না করলে হয়ত ফাইফারও বনে যেতেন বর্ষণ। বাংলাদেশকে এত সব জটিল সমীকরণের বাধা পার করিয়ে সেমিতে ওঠানোর সবশেষ চেষ্টা ব্যাট হাতেও করেছিলেন বর্ষণ। কিন্তু তাকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে।