প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:২১ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গত আসরে চমক দেখিয়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে ফাইনাল খেলেছিল তারা। ফলে স্বভাবতই মাশরাফির দলের কাছে এবার ভক্তদের চাওয়া ছিল শিরোপার। কিন্তু এবার যেন ঠিক ‘মুদ্রার উল্টো পিঠ’ দেখছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখেছে গত আসরের রানার্সআপ দলটি।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এবারের বিপিএলের ১৭তম ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ মিঠুনের দায়িত্বশীল ফিফটিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪২ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় সিলেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১২৭ রানে থামে দুর্দান্ত ঢাকার ইনিংস। এতে ১৫ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এদিকে রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে বিপিএলের মাঝপথেই বিরতিতে গেছেন মাশরাফি। তাই সিলেটের অধিনায়কের দায়িত্ব পান সহ-অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। যিনি পারফরম্যান্সের কারণে সবশেষ ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে একাদশেই ছিলেন না। তবে ষষ্ঠ ম্যাচে অধিনায়কসুলভ পারফরম্যান্স করে দলকে প্রথম জয় এনে দেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিঠুনের কাছে জানতে চাওয়া হয়—টানা পাঁচ ম্যাচে হার, এরপর আপনার নেতৃত্বে জয়, ব্যাট হাতে আপনি সেরা পারফরমার, অধিনায়কের পারফরম্যান্স কি সিলেটের জয়ের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে? এমন প্রশ্নে মিঠুন ‘না’ সূচক উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, মাশরাফি এখনও সিলেটের ক্যাপ্টেন।

মিঠুন বলেন, ‘মাশরাফি ভাই এখনও আমাদের ক্যাপ্টেন। উনার অনুপস্থিতিতে আমি এই দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের দল থেকে শুরু করে কীভাবে চলব, সব সময় সবকিছুর সাথে উনি যুক্ত আছেন। আজকে সকালেও কথা হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, উনার ব্যস্ততার কারণে বিপিএলে অংশ নিতে পারছেন না।’
মাশরাফির অবদানকে সম্মান জানানোর আহ্বান তার, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন অনেকে আছে, যাদের অবদান শুধু একটা ম্যাচ বা একটা টুর্নামেন্ট দিয়ে বিচার করতে পারবেন না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে উনাদের (মাশরাফি) অনেক অবদান। আমাদের সবার উচিত, যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতি সম্মান রাখা।’
নিজের ৫৯ রানের ইনিংস নিয়ে মিঠুনের ভাষ্য, ‘আসলে আমার ইনিংসটা কিছু নয়। দলের দরকার ছিল সেটা। এটা আমি না করে অন্য কেউ করলেও একই হতো। কেউ একজন দরকার ছিল যে শেষ পর্যন্ত যাবে। পাওয়ার প্লেতে না রান হয়েছে, আবার উইকেটও পড়ে গেছে। ডিফেন্ড করার মতো স্কোর গড়তে ওখান থেকে একটা পার্টনারশিপ দরকার ছিল। আমার আর সামিতের সেটা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি না হয়ে অন্য কেউও হতে পারত।’
জয়ে খুশির সঙ্গে আফসোসও হচ্ছে মিঠুনের, ‘প্রথমে রিলিফ, এরপর আফসোস! দুটাই বলতে পারেন। আমাদের প্রথম তিনটা ম্যাচেই জেতার সুযোগ ছিল। দুর্ভাগ্যবশত হয়নি। আমরা একটা জয় দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছিলাম। আজ সেই দিন। আলহামদুলিল্লাহ আজ জিততে পেরেছি।’