প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:০৪ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:৩৭ পিএম
ভরত-অশ্বিন জুটি খেলা ভারতের পক্ষে আভাস দিচ্ছিল, পরে তা উবে গেছে মুহূর্তেই— ছবি : সংগৃহীত
কেএস ভরতের সঙ্গে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শেষ সেশনের জুটি বলছিল ভিন্ন কথা। হায়দরাবাদ টেস্টের ফল হোক বা না হোক— ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের লাল বলের লড়াই যে পঞ্চম দিনে গড়াচ্ছে, তা বলতে তখন জ্যোতিষ শাস্ত্র জানার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। চতুর্থ দিনে নির্ধারিত ওভার শেষে আসে আরও আধা ঘণ্টা খেলা চালানোর সিদ্ধান্ত। সেখানেই পঞ্চম দিনের রোমাঞ্চ মাটি হয়ে যায় ভারতের। আগ বাড়িয়ে বললে, স্বাগতিকদের হার নিশ্চিত ছিল আরও আগেই।
হায়দ্রবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে লড়াই জমিয়ে দেন ভরত-অশ্বিন জুটি। হার্টলির নির্দয় তোপের পর দুজনের জুটিতে আসে পঞ্চাশোর্ধে রান। তাতেই পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে টেস্টের ভাগ্য। দিনের শেষদিকে ভরতের পর দ্রুত অশ্বিন ফিরলে হারের শঙ্কা জোরাল হয় রোহিত শর্মাদের। ঘূর্ণি নিয়ে তখন আরেকবার চেপে বসেন হার্টলি। স্পিনের বিপক্ষে স্পিনেই কার্যসিদ্ধি হাসিল করেন। অভিষেক টেস্টে বল হাতে নায়ক বনা যদিও হয়নি হার্টলির। হায়দ্রবাদ টেস্টে খাতা-কলমে সেরা হয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান ওলি পোপ।
স্পিনের নাকি বাজবল— এমন সমীকরণের টেস্টে শুরু থেকেই পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। চারদিনের খেলাটিকে কয়েক শব্দে লিখতে গেলে অনেকটা এমন হবে— টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া পোপ-বেয়ারস্টোদের স্পিনে নাকানিচুবানি। ভারতের রান পাহাড় গড়া এবং আরেকবার অশ্বিনদের স্পিন তোপে পড়া। এখানে যদিও দৃশ্যপটে ভিন্ন চরিত্র ধারণ করেছেন কাঁধের চোটে কদিন আগেও ব্রাত্য হয়ে থাকা পোপ। আগের ইনিংসে তড়িঘড়ি করে আউট হওয়া ব্যাটারের ব্যাটে ১৯৬ রানের ইনিংস। তাতেই ১৯০ রানের লিড নিয়েও ভারতের সামনে ২৩১ রানের লক্ষ্য।
বাজবল নয় এবার স্পিনেই ভেলকি। নায়ক সেখানে অভিষেক হওয়া হার্টলি। সবশেষ ভারতের হার। ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি লিড নিয়ে এবারই প্রথমবার হেরেছে ভারত। তাইতো ম্যাচ হারের বিষয়টি এখনও মেলাতে পারছেন না রোহিত শর্মা, ‘টেস্টে আমাদের ভুল কোথায় ছিল খোঁজা মুশকিল। ১৯০ রানের লিড নিয়ে আমরা এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু পোপের অনবদ্য ইনিংস, আমার মতে ভারতের কন্ডিশনে সেরা ইনিংস। ভেবেছিলাম ২৩০ রান সহজ মনে হয়েছিল, কিন্তু অমন হয়নি।’
এতবেশি রান পিছিয়ে থেকেও ভারতবধকে নিজের অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারের সেরা জয় বলে উল্লেখ করেছেন বেন স্টোকস, ‘অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর যেখানে খেলেছি বা যত জায়গায় খেলেছি সব বিবেচনায় এটাই ১০০% সেরা জয়। সত্যিকারের থ্রিল ছিল এখানে। হার্টলির নয় উইকেট, পোপের কাঁধের ইনজুরি কাটিয়ে প্রথমবার ফেরা। কত দুর্দান্ত। আমরা পরাজিত হওয়ার ভয় পাই না। নিজেকে খোঁজো বৃত্তের বাইরে আসো, সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’
ম্যাচের সেরা অলি পোপের কণ্ঠেও ছিল অমন কিছু। ৭ মাসে স্বীকৃত পর্যায়ের কোনো ক্রিকেটে খেলতে পারেননি। সুযোগ পেয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে খেলে দাপুটে জয় তুলতে পেরে তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন পোপ। আরেকজনের এটি অভিষেক টেস্ট। পোপ এবং হার্টলির তাণ্ডবময় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৪৬ রান পর্যন্ত যেতে পারে ইংলিশরা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালান ভারতের প্রায় সব ব্যাটার। তিন ফিফটিতে জমা হয় ৪৩৬ রান। ১৯০ রান পেছনে থাকা ইংল্যান্ড পোপর ১৯৬ রানে ভর করে পায় ২৩১ রানের পুঁজি। যা পেরোতে নিজেদের পাতা স্পিন ফাঁদেই পরে ভারত।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ২৪৬
ভারত প্রথম ইনিংস: ৪৩৬
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ১০২.১ ওভারে ৪২০ (আগের দিন ৩১৬/৬) (পোপ ১৯৬, রেহান ২৮, হার্টলি ৩৪; বুমরাহ ৪১-৪, অশ্বিন ১২৬-৩)
ভারত দ্বিতীয় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৩১) ৬৯.২ ওভারে ২০২ (রোহিত ৩৯, ভারত ২৮, অশ্বিন ২৮; রুট ৪১-১, উড ৮-১-১৫-০, হার্টলি ৬২-৭)
ফল: ইংল্যান্ড ২৮ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: অলি পোপ (১, ১৯৬)
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ইংল্যান্ড