প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:৫৮ পিএম
ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলতে গতকাল বুধবার কলকাতায় পৌঁছেছেন
সানজিদা আক্তার। শেখ মোহাম্মদ আসলাম, রিজভী করিম রুমি, গোলাম গাউস ও প্রয়াত ফুটবলার
মোনেম মুন্নারা খেলেছেন ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিতে। তিন দশক পর সেই ক্লাবটির হয়ে খেলবেন
জাতীয় নারী দলের এই ফুটবলার। পূর্বসূরিদের তৈরি করা পথের পথিক হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত
ময়মনসিংহের ফুটবলকন্যা। স্বপ্নযাত্রার আগে দিয়ে গেলেন প্রতিশ্রুতি, জানিয়ে গেলেন ইচ্ছার
কথা।
৯০ দশকে লাল-হলুদের ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন
আসলাম ও মোনেম মুন্নারা। সানজিদাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ধরে রাখতে চান সেই ধরা, ‘আসলাম ভাইয়েরা
সাফল্য এনেছেন। এখনও সবাই ওনাদের নাম বলে। ওনারা ইতিহাস গড়েছেন। ক্লাবটিতে বাংলাদেশের
নারী দলের হয়ে আমিই প্রথম ডাক পেয়েছি। আমার অভিষেক হচ্ছে। সেরাটা দিয়ে সফলতা আনার চেষ্টা
করব।’
ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তিন মাসের চুক্তি হয়েছে সানজিদার।
আগামী ৩০ জানুয়ারি ওড়িশার বিপক্ষে অভিষেক হবে তার। উইঙ্গার সানজিদাকে প্রায় প্রতিটি
ম্যাচে দেখা যেতে পারে। তাই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আগামী ৯০ দিন। বলেছেন, ‘ভারতে
একটাই কাজ যাব এবং খেলব। প্রত্যেকটা ম্যাচই খেলতে হবে। ঢাকায় যেমনটা খেলেছি। তার চেয়েও
ভালো খেলার চেষ্টা করব। ১২০ ভাগ বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করব। দেশের সুনাম রাখতে হবে।
ইস্টবেঙ্গল অনেক বড় ক্লাব, ফ্যান ফলোয়ারও অনেক।’
ভারতের নারী ফুটবল লিগে খেলছেন সানজিদার আরেক সতীর্থ
সাবিনা খাতুন। তিনি কিকস্টার্ট এফসিতে ডাক পেয়েছেন। জাতীয় দলের অধিনায়কের ক্লাবের সঙ্গে
সানজিদার ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। দুজনই দীর্ঘদিনের সতীর্থ। দেশের বাইরের
লিগে প্রথমবার মুখোমুখি হবেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনা দুজনকে একে অন্যের
বিপক্ষে লড়াই করতে দেখা যাবে এদিন।
গত বছরের আগস্ট থেকে সানজিদা ও সাবিনাকে নেওয়ার তোড়জোড়
চালায় কলকাতা থেকে। অনুমতি মিলছিল না বাফুফের। শেষ পর্যন্ত মন গলে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রকারী
সংস্থার। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন আগেই কলকাতা পৌঁছান। আর গতকাল গেলেন সানজিদা।
দেশের নারী ফুটবলারদের মধ্যে প্রথম বিদেশের লিগে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল সাবিনার। ২০১৬ সালে মালদ্বীপের লিগে খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে ভারতে খেলতে যান। সঙ্গী ছিলেন জাতীয় দলের আরেক সতীর্থ কৃষ্ণা রানী সরকার। মালদ্বীপে এরপরও খেলছেন সাবিনা, সঙ্গে ছিলেন মাতসুশিমা সুমাইয়া। সানজিদা চতুর্থ বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে এবার প্রথম বিদেশের লিগে খেলতে গেলেন।