প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৮ পিএম
তামিমকে অধিনায়ক হিসেবে কোচ ঘোষণার একদিন পর উল্টো আভাস দিয়েছেন মিরাজ— পুরোনো ছবি
মেহেদী হাসান মিরাজ কথা বলতেই চাননি, সাংবাদিকদের অনুরোধ শেষ পর্যন্ত ফেলতেও পারেননি। তিন মিনিট সময় নিয়ে তারকা অলরাউন্ডার বলেছেন মিনিট পাঁচেকেরও বেশি। মিরপুরে তারকা অলরাউন্ডারের কথার পুরোটাজুড়ে ছিল বিপিএল প্রসঙ্গ। ফরচুন বরিশালের অধিনায়কত্ব নিয়ে চলা প্রশ্নের উত্তরও গতকাল মঙ্গলবার খানিকটা জটিল করে দিয়েছেন মিরাজ! ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কোচ মিজানুর রহমান বাবুল বলেছিলেন, ‘নেতৃত্ব উঠছে তামিমের কাঁধেই।’ একদিন না পেরোতেই মিরাজের কণ্ঠে ভিন্ন আওয়াজ!
বরিশালের অধিনায়কত্বে কে থাকবেন, প্লেয়ার ড্রাফটের পর থেকেই জোরালো হচ্ছিল সেই প্রশ্ন। জাতীয় দলের সাবেক তিন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তামিম ইকবাল তো আছেনই, সঙ্গে যোগ হয়েছিল হালের মিরাজের নাম। তরুণ তারকার ওপরই তবে আস্থা রাখতে চান অফিসিয়ালি অধিনায়ক হিসেবে থাকা তামিম। খোদ মিরাজই গতকাল এমনটি বলেছেন, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে এখনও কোনো কিছু জানি না। এটা সম্পূর্ণ দলের মালিকের সিদ্ধান্ত। তিনি কীভাবে চান। তামিম ভাই আমাকে বলেছিলেন, ‘তুই করলে ভালো হয়।’ তিনি চাইছেন যেন আমিই করি। তারপরও এটা দলের মালিকের সিদ্ধান্ত।’
সোমবার বরিশালের কোচ বাবুল জানিয়েছিলেন, ‘তামিমই আমাদের অধিনায়ক। ম্যাচ বাই ম্যাচ ক্যাপ্টেন্সি তো আসলে হয় না। তামিমই নেতৃত্বে থাকবে।’ কিন্তু মিরাজ যা বলেছেন ভিন্ন সূরে, ‘এটা (অধিনায়ক ঘোষণায় দেরি) সত্যি কথা বলতে, এটা দলের মালিকরাই বলতে পারবেন যে তাদের কীভাবে পরিকল্পনা। তারা কীভাবে চান। আবার হতে পারে, এটা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। তবে বাইরে পরে জানান। এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার, ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমি জানি না, বলতেও পারছি না।’
সাত দলের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে বরিশাল। জাতীয় দলের তারকাঠাসা দলটিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন আছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ডেভিড মিলারের মতো ক্রিকেটারের। মিরাজও আশাবাদী তারা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন, ‘তারা (ম্যাক্সওয়েল ও মিলার) কথা বলেছে। ফ্রি থাকলে, খেলার জন্য এভেইলেবল থাকলে, আমাদের দলে খেলার সুযোগ থাকলে খেলতে পারবে। কথা বলেছে। যেহেতু সব জায়গায় খেলা আছে। অনেক ক্রিকেটারকে এভেইলেবল পাওয়া যাবে না। আমাদের যে দলটা গড়া হয়েছিল, অনেক ক্রিকেটারকে অনেক সময় পাবও না। শুধু আমরা নই, প্রত্যেক দলই পাবে না। এটা যেমন একটা সুবিধা, তেমনি একটা অসুবিধাও দলের জন্য। তো দেখা যাক, কী হয়।’
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মিরাজ কর্তৃপক্ষকে আলাদা একটি প্রস্তাবও দিয়ে বসেছেন। তার মত ভিন্ন সময়ে বিপিএল আয়োজনের। নিজের কথার যুক্তিও টেনেছেন মিরাজ। ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিপিএলের দশম আসর। একই সময়ে কিছুটা আগে কিংবা পরে বিশ্বে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগও চলছে বা চলবে। ওই আসরগুলো বিপিএলে বড় তারকা পাওয়ার অন্তরায় মনে করছেন মিরাজ, ‘যারা বিপিএল করছে তারা যদি এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করে যে একটা টাইমে হয়তো বিশ্বে ছয়টা লিগ চলছে। যখন তিনটা লিগ থাকবে ওই সময়ে যদি আমাদের বিপিএল হয় তখন হয়তো অনেক প্লেয়ার পাওয়া যাবে। তারা (বিপিএল কর্তৃপক্ষ) যদি বসে আলোচনা করে, টুর্নামেন্ট কমিটি আছে তারা বসে আলোচনা করে তাহলে অবশ্যই ভালো হবে।’
মিরাজ নিজেও প্রতিবন্ধকতা দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততার কারণে মূলত বিপিএল এই সময়ে আয়োজন করা হচ্ছে, ‘বিশ্বে এখন এত বেশি টুর্নামেন্ট হচ্ছে, এত বেশি খেলা হচ্ছে আপনার হয়তো আন্তর্জাতিক খেলাটাও অনেক বেশি। আমাদের হয়তো আন্তর্জাতিক খেলার সঙ্গে সূচি মিলিয়ে এই বিপিএলটা সেট করা হয়। সে জন্য হয়তো এভাবে চিন্তাভাবনা করছে।’
তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামসহ আরও অনেকে মনে করেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিপিএল বড় সহায়ক হয়ে উঠবে। মিরাজের কণ্ঠেও ছিল তেমন সুর, ‘বিশ্বকাপের আগে বিপিএলটা হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভালো একটা সুযোগ থাকবে। ভালো প্রস্তুতিটা থাকবে। বিশ্বকাপের আগে আমরা যদি এরকম একটা টুর্নামেন্ট খেলি, আমাদের বিরাট সুবিধা থাকবে। এখানে পারফর্ম করলে বিশ্বকাপে গিয়ে খেলাটা সহজ হবে। গত বছর যেমন বিশ্বকাপ থেকে অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটার এসেছে, শান্ত পারফর্ম করেছে, তাওহিদ হৃদয় পারফর্ম করেছে। ওদের কিন্তু এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলাটা একটু সহজ হয়ে গেছে। শান্ত কিন্তু টানা দেড় বছরের তো আন্তর্জাতিকে অনেক রান করেছে। হৃদয় অনেক রান করেছে।’
মিরাজ যোগ করেছেন, ‘এটা কিন্তু একটা প্রভাব পড়ে যে, বিপিএলে ভালো খেললে আন্তর্জাতিকে আমরা সার্ভিস দিতে পারব। তো এখানে পারফর্ম করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে বিশ্বের অনেক ক্রিকেটার আসবে। ওদের সঙ্গে ভালো খেলা, ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করা, অনেক কিছু শেখা যায়। একটা পরিবেশের মধ্যে থাকা হয়। আশা করি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।’