প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ ০২:৪১ এএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ ০২:৫২ এএম
বদলি হিসেবে নামা অস্কার ববের গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয়ে নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। তাকে জড়িয়ে রদ্রির উল্লাস। ছবি: এক্স
ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বোধকরি ম্যানচেস্টার সিটিকেই বেছে নিয়েছিল প্রিমিয়ার লিগের বিস্ময় তকমা হারাতে বসা নিউক্যাসল ইউনাইটেড। কেননা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার পর চেনা ছন্দটাই হারাতে বসেছিল সেন্ট জেমস পার্কের দলটি। সবশেষ পাঁচ ম্যাচে জয় কেবল একটিতে, বাকি চারটিতে স্রেফ পরাজয় বরণ করেছে সৌদি মালিকানাধীন নিউক্যাসল। সেই দলটিই কি না শনিবার রাতে কঠিন পরীক্ষা নিলো ট্রেবলজয়ীদের। তবে এগিয়ে থেকেও জিততে পারেনি এডি হাওয়ির দল। রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
আগের ম্যাচে প্রত্যাবর্তন হয় ম্যানসিটির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কেভিড ডি ব্রুইনার। এফএ কাপের সেই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে নেমে একটি গোলে অ্যাসিস্ট করে দলে নিজের প্রয়োজনীয়তার জানান দেন এই বেলজিয়াম মিডফিল্ডার। তবে সেদিন ৫-০ গোলের সহজ জয়ের চেয়ে খুব সম্ভবত শনিবার রাতের ম্যাচে তার কাছে আবেদন বেশি ছিল সিটি সমর্থকদের। সেটি কতটা পূরণ করতে পেরেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি যখন ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছেন তখন তার দল ২-১ গোলে পিছিয়ে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় বাকি আধাঘণ্টারর মতো।
একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও গোলের দেখা পাচচ্ছিলেন না ফিল ফোডেন, জুলিয়ান আলভারেজরা। নিউক্যাসলের হাইলাইন ডিফেন্স, সঙ্গে গোলরক্ষকের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স। ম্যাচে মোট আটটি সেভ করেছেন মার্টিন দুবরভকা। সব মিলিয়ে কোনোভাবেই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি গার্দিলার শিষ্যরা। অবশেষ ত্রাণকর্তা হিসেবে যেন ডি ব্রইনার আবির্ভাব ঘটে খ্রেলায়। ৭৪ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে ডি ব্রুইনের দিকে বল বোড়িয়ে দেন রদ্রি। পায়ের কারিকুরি করে কয়েকজনকে কাটিয়ে ডি বক্সের সামনে থেকে মাটি কামড়ানো শটে গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন ৩২ বছর বয়সী তারকা। মাঠে নেমে এই গোলের আগে মাত্র পাঁচবার বলের ছোঁয়া পেয়েছেন তিনি। তার সমতায় ফেরানো গোলটি আরও একটি কারণে বিশেষ হয়ে আছে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যানসিটির ১০০তম গোল ছিল এটি।

স্কোরলাইন ২-২ হওয়ার পর ৮৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় সিটি। প্রায় একাই ডি বক্সে ঢুকে পড়েন রদ্রি। কিন্তু দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় শেষেও স্কোরলাইন ছিল সমান। ম্যাচে যোগ হয় মাত্র তিন মিনিট। সমর্থকদের অবশ্য তিন মিনিট অপেক্ষা করতে হয়নি। ৯১ মিনিটে ডি ব্রুইনের থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন বদলি হিসেবে নামা অস্কার বব। বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া ববকে দেখে গোলরক্ষক আগেই বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাকে ফাঁকি দিয়ে এগোলেও কয়েকজন ডিফেন্ডারের বাধার মুখে পড়েন ২০ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান। কিন্তু তাকে আটকে রাখা যায়নি। দারুণ ফ্লিকে বল জালে জড়ান বব। তাতে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ম্যানসিটির।
এর আগে ২৬ মিনিটে বার্নার্দো সিলভার গোলে ম্যাচে লিড নেয় সিটি। কিন্তু ৩৫ ও ৩৭ মিনিটে ইসাক এবং গর্ডনের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ম্যাগপিসরা। সিটির নিয়মিত গোলরক্ষক এডারসন ব্যাথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন ৮ মিনিটের মধ্যে। সেই সুযোগই কাজে লাগায় জেমস পার্কের দলটি। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি তাদের হতে দেননি এই ম্যাচের নায়ক ডি ব্রুইন। ম্যাচ শেষে তাই প্রশংসা পেয়েছেন তিনি প্রতিপক্ষ দলের কোচের থেকেও। টিএন্ডটি স্পোর্টসে এডি হাওয়ি বলেছেন, ‘আমাদের দারুণ সুযোগ ছিল। প্রথমে যদিও আমরা ধিরে এগিয়েছি। তবে আমাদের আরও গোল করা উচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত এটি সে (ডি ব্রুইন) কেড়ে নিয়েছে। শেষ দিকে এসে সে তার ক্লাস দেখিয়েছে। সত্যি ডি ব্রুইন বিশ্বমানের খেলোয়াড়।’
এই জয়ের ফলে শীর্ষে থাকা লিভারপুলের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান স্রেফ দুইয়ে নামিয়ে এনেছে ম্যানসিটি। ২০ ম্যাচ শেষে সিটিজেনদের সংগ্রহ ৪৩ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট বেশি পেয়ে টেবিলের চূড়ায় অবস্থান করছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। তিনে নেমে যাওয়া অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ৪২। রাতের অন্য ম্যাচে ফুলহামকে হারিয়ে দুইধাপ উপরে উঠেছে চেলসি। ১-০ গোলে জয়ের সুবাদে ব্লুজরা সংগ্রহ করেছে মোট ৩১ পয়েন্ট। টেবিলের আটে জায়গা পেয়েছে মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল।