প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:১২ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে টানা চতুর্থ মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাজমুল হাসান পাপন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি। বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রীসভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই কর্তা।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এসময় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। শপথ গ্রহণের ঘণ্টাখানেক পর জানা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রলয়ের দায়িত্ব বণ্টনের আগে এক প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, ‘আমি সবসময় প্রাইভেট সেক্টরে ছিলাম। এখন এটা পুরোপুরি ভিন্ন। পাবলিক সেক্টরে আমার ইন্টারঅ্যাকশন একদম মিনিমাম। সেজন্য দায়িত্বটা আগে বুঝতে হবে। কাজটা কী, কাজটা বোঝার চেষ্টা করব প্রথমে। কোনো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত হোমওয়ার্ক ছাড়া এখনই মন্তব্য করাটা কঠিন। তবে চেষ্টা করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন একটা দায়িত্ব দিয়েছেন, টেষ্টা করব সেরাটা দিতে।’
অবশ্য গতকাল নতুন সরকারের মন্ত্রীদের নাম ঘোষিত হয়েছিল। সেখানে পাপনের নাম পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরপরই ক্রীড়াঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন পাপন। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে শোনা গিয়েছিল, পাপন পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে নিতে পারেন। এরপর সকাল থেকে শোনা যাচ্ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সাধারণত প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাপন পূর্ণ মন্ত্রী এ নিয়ে খানিকটা দ্বিধা ছিল। তবে সকল জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে নাজমুল হাসান পাপন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। যা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো ঘটল। এতে বিস্মিত ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই।
ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকাদের মধ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রথম দায়িত্ব পান সাদেক হোসেন খোকা। তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ঢাকা মহানগরী ফুটবল কমিটির কর্মকর্তা ছিলেন। সাদেক হোসেন খোকার পর ক্রীড়াঙ্গন থেকে দ্বিতীয় মন্ত্রী ছিলেন আরিফ খান জয়। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হন। এরপর আহাদ আলী সরকার, বিরেণ শিকদার ও জাহিদ আহসান রাসেল প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়াই।
নাজমুল হাসান পাপন দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক, বিসিবির সভাপতির দায়িত্বে এক দশকের বেশি সময়। রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে তিনি গত এক দশকে ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম নীতি-নির্ধারক ছিলেন।