প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিপিএল আসে, বিপিএল যায়। রয়ে যায় তর্ক-বিতর্ক, আশা-সম্ভাবনা, অভিযোগ আর অনুযোগ। দশম বিপিএলের সপ্তাহখানেক বাকি। এখনও পর্যন্ত অধিনায়কের নাম ঘোষণা কিংবা জার্সি উন্মোচন করেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তবে এবার বেশ কিছু ইতিবাচক ঘটনা সাক্ষী হতে চলেছে। স্পোর্টিং উইকেট, ডিআরএস, সঙ্গে হক আই প্রযুক্তি থাকবে এবার। অনেক প্রথমের সঙ্গে এই সংস্করণে দলগুলো ভিন্ন ভেন্যুতে অনুশীল করবে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ সংস্করণেও মিরপুর একাডেমি মাঠে কয়েকটি দল একই সময়ে অনুশীলন করেছে। তাতে প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময়ও পেত না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। সেই চাপ এবার কিছুটা কমই নেবে একাডেমি মাঠ। ২০২৪ বিপিএলে ৫টি ফ্র্যাঞ্চাইজি অনুশীলনের জন্য আলাদা ভেন্যু ব্যবহার করবে। খুলনা টাইগার্স অনুশীলন করবে বিকেএসপিতে।
আয়োজক কমিটির এসব সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন খুলনা টাইগার্সের হেড কোচ তালহা জুবায়ের। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার প্রথমবারের মতো বিপিএলে প্রধান কোচ হয়েছেন। এ নিয়ে কিছুটা উচ্ছ্বসিত এবং খুলনার শিরোপা-খরা কাটাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধও।
বিপিএল কর্তৃপক্ষের ভিন্ন ভেন্যুতে অনুশীলনের সিদ্ধান্ত দলগুলোকে আলাদা অ্যাডভান্টেজ এনে দেবে বলে মনে করেন তালহা। তার মতে, ‘আলাদা গ্রাউন্ড হওয়াতে পুরো গ্রাউন্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস এবং ইনডোর সুবিধা থাকবে। এতে স্পেসিফিক কিছু অনুশীলন করতে পারব, যা আমার পরিকল্পনায় আছে।’
খেলুড়ে জীবনেও প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড নিয়ে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তালহাকে, ‘আমি যখন প্লেয়ার ছিলাম। তখন শুধু আবাহনী মাঠে অনুশীলন করতে পারতাম। এখন সেখানেও খেলা হয় না। ঢাকাতে মাঠ হওয়া জরুরি। পূর্বাচলে মাঠ হচ্ছে। আশ করি সমস্যার সমাধান হবে।’
দ্বিপাক্ষিক কিংবা বিপিএলÑ হোম অব ক্রিকেটে খেলা হলেই সবার আগে আঙুল তোলা হয় উইকেটের দিকে। লো স্কোরিং উইকেট নিয়ে কমবেশি সবাই বিরক্ত। তবে এবার আয়োজক কমিটি আশ্বস্ত করেছে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হবে এবার। তালহারও চাওয়া সেটি, ‘যেহেতু শীতের সিজনে খেলা হচ্ছে। পেস বোলাররা একটু হলেও সাহায্য পাবে। টি-টোয়েন্টি খেলা, কেউ চাইবে না দলীয় সংগ্রহ একশ রানের মধ্যে আটকা পড়ুক। সবাই স্পোর্টিং উইকেট আশা করে। যেখানে ব্যাটার-বোলার সবাই সমান সুবিধা পাবে। আসরে অনেক ইন্টারন্যাশনাল খেলোয়াড় থাকবে। আমাদের দেশের বোলারদের অনেক কিছু শেখার থাকবে। কোন পরিস্থিতিতে ব্যাটারকে আটকাতে হয়, রান চেক দিতে হয়, এটা তারা শিখবে।
বিপিএলে শিরোপা অধরা খুলনার। বরাবরই কুমিল্লা-রংপুরের সঙ্গে তাদের একটা পার্থক্য দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সেটি শক্তি এবং কম্বিনেশনের। তবে এবার শিরোপায় পাখির চোখ করেছে খুলনা। এ জন্য এভিন লুইস-শাই হোপের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের দলে ভিড়িয়েছে দলটি। তালহা বলছেন, টি-টোয়েন্টিতে সেরা দিনে আপনি জিতে যেতে পারেন। আশা করি খেলোয়াড়রা ফর্মে থাকলে এবার ভালো একটা ফল আসবে। টিমের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারলে যেকোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে ছোট-বড় দল নেই।
এ সময় অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নিয়েও কথা বলেছেন ৩৮ বর্ষী সাবেক এই পেসার, ‘ওদের সঙ্গে কাজ করেছি। ওরা ভালো মাইন্ডসেটআপে। দলে অনেক অলরাউন্ডার। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা থেকে কন্ডিশন দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়েছে, যা ভালো ফল এনে দিতে পারে। আমরা এর আগেও পেরেছি। এবারও পারব। এশিয়া কাপ জয়ের মোমেন্টাম ধরে রাখলেই ভালো কিছু হবে।’