স্প্যানিশ সুপার কাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ০৭:৫৪ এএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:৪১ এএম
লা লিগায় এল ক্লাসিকোর পরই সবচেয়ে বড় হাইভোল্টেজ ম্যাচ ‘মাদ্রিদ ডার্বি’। স্পেনের মাদ্রিদ শহরের অন্যতম সেরা দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের লড়াইকে এ নামে ডাকা হয়। এ দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকে ফুটবলভক্তরা।
বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে বহুলপ্রতীক্ষিত সেই মাদ্রিদ ডার্বিতে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে এ দুই দল। উত্তেজনায় ঠাসা রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
স্প্যানিশ সুপার কাপের হাইভোল্টেজ প্রথম সেমিফাইনালে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এ জয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। সঙ্গে লা লিগায় চলতি মৌসুমে আ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারের হিসাবও চোকাল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
এদিন জয়ের জন্য বেশ লড়তে হয়েছে রিয়ালকে। ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিটেই পিছিয়ে যায় তারা। অ্যান্তোনিও গ্রিজমানের কর্নার কিক থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে অ্যাটলেটিকোকে লিড এনে দেন এরমোসো।
পিছিয়ে পড়ে যেন জেগে ওঠে রিয়াল। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষ রক্ষণের পরীক্ষা নিতে থাকেন ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোরা। যার কারণে সমতায় ফিরতে সময়ও লাগেনি তাদের।
২০ মিনিটে লুকা মদ্রিচের কর্নার থেকে চমৎকার হেডে সমতা ফেরান রুডিগার। এরপর ৩০ মিনিটে কারভাহালের নিচু ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে আলতো কিন্তু কার্যকর এক টোকায় দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান ফারল্যান্ড মেন্ডি।
পিছিয়ে পড়ে অ্যাটলেটিকোও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৩৭ মিনিটে সমতা ফেরায় অ্যাটলেটিকো। পায়ের দারুণ কারিকুরি আর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন গ্রিজমান। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা হয়েছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। তবে ৭৮ মিনিটে নিজেদের ভুলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল। মোরাতার চ্যালেঞ্জের মুখে ঠিকমতো ক্রস বিপন্মুক্তি করতে পারেননি রিয়াল গোলকিপার। কেপার হাত ফসকে বল রুডিগারের গায়ে লেগে জড়ায় জালে।
ভেঙে পড়েনি রিয়াল। ৮৫ মিনিটে ফের সমতা টানে ইউরোপের জায়ান্ট দলটি। কারভাহালের বুলেট গতির শটের জবাব জানা ছিল না অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষকের। পরের কিছুক্ষণ যেন ঝড় বয়ে যায় ওবলাক-এরমোসোদের ওপর। প্রতিপক্ষকে ভীষণ চাপে রেখে একটির পর একটি শট নেন রেয়ালের খেলোয়াড়রা। কিন্তু কোনোটিই খুঁজে পায়নি ঠিকানা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ২৫ মিনিটে কোনো গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। যখনই মনে হচ্ছিল খেলা গড়াবে টাইব্রেকারে, তখনই ভাগ্যের জোরে এগিয়ে যায় রিয়াল। কারভাহালের ক্রসে হোসেলু ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। কিন্তু তার পাশেই থাকা অ্যাটলেটিকোর খেলোয়াড় সাভিচের পায়ে লেগে বল জড়ায় জালে।
শেষের দিকে অ্যাটলেটিকো গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে উল্টো গোল খেয়ে যায় তারা। প্রতি-আক্রমণে ছুটে গিয়ে ব্যবধান বাড়ান ব্রাহিম দিয়াজ।
চার দলের নতুন আঙ্গিকের এ সুপার কাপে টানা তৃতীয় ও সব মিলিয়ে চতুর্থবার ফাইনালে খেলবে রিয়াল। ২০১৯-২০ মৌসুমে প্রথম আসরে ফাইনালে খেলার পর থেকে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিচ্ছে অ্যাটলেটিকো। লড়াকু ফুটবল উপহার দেওয়া দলটি শূন্য হাতে ফিরল আরও একবার।
আগামী রবিবারের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের প্রতিপক্ষ জানার অপেক্ষায় আনচেলত্তির দল। বৃহস্পতিবার বার্সেলোনা ও ওসাসুনার লড়াইয়ে জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে তারা।