প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:২১ পিএম
বাংলাদেশের তারকা পেসার মারুফা আক্তার
নাম তার মারুফা আক্তার। বাংলাদেশের দুরন্ত এক পেসার। মাঠের লড়াইয়ে দ্যুতি ছড়িয়ে চলেছেন। পেস ঝড়ে নাস্তানাবুদ করে চলেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের। মাঠে তার সাফল্যে হাসছে ক্রিকেট অনুরাগীরা। আর তার দল উড়িয়ে চলেছে বিজয়ের কেতন। ২০২২ সালে অভিষেকেই নিজের জাত চেনান। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ছন্দটা ধরে রেখে হয়ে পড়েছেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গত বছরটা দারুণ কেটেছে মারুফার। শুধু মারুফার নয়। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের জন্য স্মরণীয় এক বছর কেটেছে। ২০২৩ সালেই নিজেদের দেশে ভারত ও পাকিস্তানকে হারানোর স্বর্গীয় সুখের স্বাদ নিয়েছেন টাইগ্রেসরা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও হারের বৃত্ত ভেঙেছেন দেশের মেয়েরা। গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
নিগার সুলতানা জ্যোতিদের সেই সাফল্যে মোড়ানোর সোনালি বছরের নেপথ্যে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন মারুফা। এবার ক্রিকেট ময়দানের চমৎকার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও পেলেন। মারুফা জায়গা করে নিলেন আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান নারী ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।
তারকা এ টাইগ্রেস পেসারের সঙ্গে সেরা হওয়ার দৌড়ে আছেন আরও তিনজন। মারুফার বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার জয়ের লড়াই হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ফোবে লিচফিল্ড, ইংল্যান্ডের পেসার লরেন বেল ও স্কটল্যান্ডের অলরাউন্ডার ডার্সি কার্টারের।
মারুফা নজরটা কাড়েন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ডাক পান জাতীয় দলে। আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় দলের জার্সি গাড়ে জড়ান। আর আইসিসির ফ্লাগশিপ টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নেন গত ফেব্রুয়ারিতে।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বল হাতে আলো ছড়ান মারুফা। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের মনে কাঁপন ধরিয়ে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেই উপহার দেন আগুন বোলিং। বিশ্বমঞ্চে শ্রীলঙ্কার মেয়েদের বিপক্ষে ২৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। যার মধ্যে দুটি উইকেট নেন পরপর দুই বলে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও দাপট দেখান মারুফা। ১৯ বছরের এ পেসার ৬.৩১ ইকোনমি রেটে বিশ্বকাপে নেন সব মিলিয়ে ৪ উইকেট।
গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফরে এসে মারুফার পেস তোপে নাকাল হয়েছেন ভারতীয় ব্যাটাররা। প্রথম এক দিনের ম্যাচে ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের উপহার দেন ঐতিহাসিক জয়। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হন স্মৃতি মান্দানা। তাই তো বাংলাদেশ সফরে এসে তার স্তুতি গেয়ে গেছেন ভারতীয় তারকা এ ব্যাটার।
আর মারুফার চোখধাঁধানো বোলিংয়ের তোড়েই সিরিজ জিততে পারেনি অতিথিরা। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২ উইকেট নিয়েই কাজের কাজ করে ফেলেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ৩ রান। কিন্তু কিপ্টেমি বোলিংয়ে মারুফা খরচ করেন মাত্র ২ রান। তৃতীয় বলে তুলে নেন সফরকারী ভারতের শেষ উইকেটটি। তার ভয় ধরানো বোলিংয়েই মূলত সিরিজ শেষ হয় সমতা নিয়ে।
শুধু ভারত সিরিজেই নয়। হাতের বল মারুফার কথা শুনেছে পাকিস্তান সিরিজেও। এমনকি বিদায়ি বছরের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও সাফল্যের মুখ দেখেছেন কৃষককন্যা মারুফা। সব মিলিয়ে গত বছর এক দিনের ক্রিকেটে ২৪.৭৭ গড়ে উইকেট পেয়েছেন ৯টি। আর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে পেয়েছেন ১০ উইকেট, গড় ২৩.৩০।
এ ছাড়া বর্ষসেরা উদীয়মান পুরুষ ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল, নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র, দক্ষিণ আফ্রিকার জেরাল্ড কোয়েটজি ও শ্রীলঙ্কার দিলশান মাদুশঙ্কা।