নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ০০:৫০ এএম
ব্ল্যাক ক্যাপসদের উড়িয়ে রোমাঞ্চিত শান্ত আরও আত্মবিশ্বাসী— এবার তাদের চোখ সিরিজেব্ল্যাক ক্যাপসদের উড়িয়ে রোমাঞ্চিত শান্ত আরও আত্মবিশ্বাসী— এবার তাদের চোখ সিরিজে
সামর্থ্যে বিশ্বাস রেখেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তরুণ দলনেতা তাসমান পাড়ে এসে দেখিয়েছিলেন স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন কুঁড়ি থেকে ফুল হয়েও ফুটছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১৯ বারের চেষ্টায় তার হাত ধরেই বাংলাদেশ জিতেছে পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচ। নবমবারের চেষ্টায় অবশেষে টাইগাররা সফল হয়েছে টি-টোয়ন্টিতেও। গতকাল বুধবার ব্ল্যাক ক্যাপসদের উড়িয়ে রোমাঞ্চিত শান্ত আরও আত্মবিশ্বাসী— এবার তার চোখ সিরিজে।
নেপিয়ারে দুই সংস্করণে পাওয়া জয়ের নেতৃত্বে থাকা শান্ত নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ঘরের মাঠে সিলেটে টেস্ট জয়, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও জয়। এক মাসের ব্যবধানে শান্ত জিতেছেন তিন সংস্করণে। কিউইদের ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অধিনায়ক আরেকটি প্রথমে চোখ রেখে বলেছেন, ‘নেপিয়ারের আত্মবিশ্বাস মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে কাজে দেবে।’
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ২৯ ডিসেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। কিউই মুলুকে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকা মাঠটিতে এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি। জিতলে ইতিহাস, হারলেও থাকবে আরেকটি সুযোগ। তবে টাইগারদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের চোখও জয়ে নিবিষ্ট, ‘নেপিয়ারের আত্মবিশ্বাস মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে কাজে দেবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা এখন খুবই আত্মবিশ্বাসী। তবে আমাদের এখন পরের ম্যাচের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে এবং আশা করব সবাই নিজেদের কাজটা করবে।’
লাল বলের ক্রিকেটে অধিনায়কত্বে দুর্দান্ত শুরু পেলেও শান্ত মুদ্রার অপর পিঠ দেখেছিলেন সাদা বলের ক্রিকেটে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৫টি ওয়ানডে খেলার পর পেয়েছে জয়, টি-টোয়েন্টিতেও এখন কিউই মুলুকে ষোলোকলা পূর্ণ। অধিনায়ক শান্তর প্রতিক্রিয়া কী? নিশ্চয় বাঁধনহারা! অমন হওয়ারই কথা।
শান্তর ভাষায়, ‘অবশ্যই অনেক খুশি। অনেক বেশি গর্বিত এই জয়ে। দারুণ অনুভূতি।’ নেপিয়ারে আরেকটি দাপুটে জয়ের কৃতিত্ব বোলারদের ওপর দিয়েছেন শান্ত, ‘বোলিং পারফরম্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়েছে, তারা দ্রুত শিখেছে। নতুন বলে শরিফুল, সাকিব (তানজিম) খুব ভালো বোলিং করেছে। শেখ মাহেদির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। এই কন্ডিশনে সে খুব ভালো বোলিং করেছে।’
শরিফুলের ৩ উইকেট আর মুস্তাফিজ-মাহেদির কৃপণ বোলিংয়ে ১৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি কিউইরা। নাগালের মাঝে থাকা লক্ষ্যেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা শঙ্কা জাগিয়েছিলেন। রান তাড়ায় ছোট-ছোট জুটিতে জয়ের দিকে এগোলেও মাঝের দিকে চাপে পড়ে। পরপর তাওহিদ হৃদয়-আফিফ হোসেনের আউটে চাপ বাড়ে।
সেই চাপ কিংবা শঙ্কায় কিউইদের কাছে ম্যাচ ছেড়ে দেননি লিটন ও মাহেদি। দুজনের ৪৫ রানের জুটিতে দাপুটে জয় তুলেই মাঠ ছাড়ে লাল সবুজের দল। শান্তর কাছে ওই চাপটাই ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দর দিক, ‘শেষদিকে কিছুটা চাপ ক্রিকেটের সৌন্দর্য। আমার মতে এই ধরনের দলের বিপক্ষে এমন কন্ডিশনে এটি সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। তবে তাদেরকে (১৩৪ রানে) আটকে ফেলার পর আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ছেলেরা তা করে দেখিয়েছে।’
নিউজিল্যান্ড তারকা জিমি নিশাম বাংলাদেশের পেসারদের নৈপুণ্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, দাপুটে জয়ে স্তুতিতে শান্তকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন সমর্থকরা। ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিমও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নেতা শান্তকে, ‘শান্ত ও তার দলকে দীর্ঘদিনের লালিত নেতিবাচক এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অভিনন্দন। এই মানসিকতা এতদিন কমবেশি সবাই লালন করে এসেছি। যে কারণে আমাদের যাত্রা দীর্ঘদিন ধরে একটা জায়গায় এসে থেমে আছে। যারা আজ কৃতিত্ব নিতে চাইছে তাদের অনেকেও এর বাইরে নয়। তা না হলে এই পরিবর্তন আমরা হয়তো আরও অনেক আগেই দেখতে পেতাম। কী করলে জয়ী হওয়া যাবে, দলের প্রত্যেকে শুধু এটাই ভেবেছে। ব্যক্তিগত মাইলফলক খুব একটা কাজে আসে না দল যখন হেরে যায়। অনেকগুলো টুকরো টুকরো পারফরম্যান্সের যোগফল এই জয়। এটি দলের সবার। ব্যাপারটা সহজ ছিল না বিশেষ করে নেপিয়ারের মতো জায়গায় এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে। কারণ দীর্ঘ সময় আমরা শুধু ঘরের চিরচেনা পরিবেশেই এমন জয়ে অভ্যস্ত ছিলাম।’
সফরের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর শান্ত আশার কথা শুনিয়ে বলেছিলেন, ‘ইতিবাচক দিক খুঁজুন। আমরা তাদের হারানোর সামর্থ্য রাখি।’ তারুণ্যনির্ভর দল সেটি করেও দেখিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরুটাও দাপুটে হলো শান্তদের। এবার লক্ষ্য সিরিজ।
শান্তর ভাষায় বললে, নেপিয়ারের আত্মবিশ্বাস মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে কাজে লাগাতে হবে। শান্ত ব্রিগেড সেটি করতে পারলে ব্ল্যাক ক্যাপসদের মাটিতে আরেকটি ‘প্রথম’ এনে দেবে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ।