প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:০৮ পিএম
সতীর্থদের সঙ্গে উইকেট উদযাপন করছেন সৌম্য সরকার
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে প্রথম জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। নেপিয়ারে ২০৯ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের জয় দিয়ে তাসমান সাগরপারের দেশে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও সৌম্য সরকারের বোলিং তোপে স্বাগতিকদের ৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে লেখা হয়েছে বেশ কিছু রেকর্ড। সেই কীর্তিতে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক একঝলক-
২
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে সব উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এর আগে ২০১৬ সালে নেলসনে ২৫১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল কিউইরা। তবে ৬৭ রানে জয়ের হাসি হেসেছিল নিউজিল্যান্ডই।
৩
সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে তৃতীয়বারের মতো ১০০-এর নিচে গুটিয়ে দিলেন শান্ত-লিটনরা। এর আগে জিম্বাবুয়ে ২০০৯ সালে এবং ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় শতরানের আগেই অলআউট হয়েছিল টাইগারদের কাছে। দুটো ম্যাচই হয়েছিল চট্টগ্রামে।
৬
শান্ত এ বছর ১ হাজার রান করতে পারেননি। তবে স্বাগতিক ক্রিকেটার উইল ইয়াং পেরেছেন। নিউজিল্যান্ডের ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে ১ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি। ছুঁয়েছেন রজার টুজ, মার্টিন গাপটিল, রস টেলর, কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেলের কীর্তি।
১০
ম্যাচের ১০ উইকেটই শিকার করেন বাংলাদেশের পেসাররা। গতকাল তানজিম, শরিফুল ও সৌম্য নেন সমান ৩টি করে উইকেট। বাকি একটি উইকেট পকেটে পুরেন মুস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডেতে এমনটা ঘটল। প্রথমবার পেসাররা ১০ উইকেট নিয়েছিলেন গত মার্চে, সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে ১০টি উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ (৫), তাসকিন আহমেদ (৩) ও ইবাদত হোসেন (২)।
১৭
ঘরের মাঠে টানা ১৭টি ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড নিয়ে নেপিয়ারে খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। তাদের সামনে ছিল অস্ট্রেলিয়ার গড়া টানা ১৮ জয়ের রেকর্ড ছোঁয়ার সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু দুর্ভাগ্য! মাইলফলকটি ছোঁয়া হলো না। ১৭ ম্যাচ পরই থেমে গেল কিউইদের জয়রথ। এর আগে নিজেদের দেশে টম লাথামরা সর্বশেষ হার মেনেছিলেন ভারতের কাছে। ওয়েলিংটনের সেই হারের ম্যাচ খেলেছিলেন তারা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি।
৫০
নতুন এক ক্লাবে নাম লিখেছেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের ১৪তম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন। এই কৃতিত্বে শরিফুল তৃতীয় দ্রুততম বোলার। এই মাইলফলকে পৌঁছতে খেললেন ৩৩ ম্যাচ। ২৭ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়ে রেকর্ডটি মুস্তাফিজুর রহমানের দখলে। দুইয়ে আছেন আবদুর রাজ্জাক, ৩২ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়ে।
৯৮
লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের সর্বনিম্ন স্কোর এটি। তার আগে টাইগারদের বিপক্ষে কিউইরা সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর ১৬২ করেছিল ২০১৩ সালে মিরপুরে। সব মিলিয়ে এক দিনের ক্রিকেটে এ নিয়ে নবমবারের মতো ১০০-এর নিচে সব উইকেট হারাল ব্ল্যাক ক্যাপস শিবির। তাদের দেশের মাটিতে এমনটা হলো চতুর্থবার। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম এত অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জায় পড়ল কিউইরা।
২০৯
এত বল বাকি রেখে কিউইদের ধসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এক দিনের ক্রিকেটে যেটি টাইগারদের তৃতীয় সর্বোচ্চ বল হাতে রেখে জয়ের রেকর্ড।
৯৯২
চলতি বছরে নিজেদের শেষ ওয়ানডেতে ৫১ রানে অজেয় থেকে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০২৩ সাল শেষ করলেন তিনি ৯৯২ রান করে। ৮ রানের জন্য শাহরিয়ার নাফীসের (২০০৬) পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে ১ হাজার রান করার রেকর্ড করতে পারলেন না। অবশ্য ব্যাটিং গড়ে নাফীসকে (৪১.৩২) ছাড়িয়েছেন শান্ত (৪১.৩৩)।