প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
শান্তরা ‘ঘরের মাঠের সুবিধা’ নিতে কার্পণ্য করতে চান না, অন্তত টেস্ট ক্রিকেটে— আ. ই. আলীম
ঢাকা টেস্ট শুরুর আগে সাদা পোশাকের লড়াইটিকে ‘ব্যাটল অব স্পিন’ বলেছিল নিউজিল্যান্ড। মিরপুরের স্লো, লো এবং টার্নিং উইকেটে এর প্রমানও মিলেছে। অনেক আলোচনা-সমালোচনার তবুও টেস্ট ক্রিকেটে ঘরের মাটিতে এমন উইকেটের পক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের অধিনায়কের যুক্তিতে সেই দুটি ইংরেজি শব্দ— ‘হোম’ এবং ‘অ্যাডভান্টেজ’।
মিরপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টি গড়ানোর আগে উইকেট কেমন হবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মরিয়া ছিল দুদল। সব ছেড়েছুড়ে কেন উইকেট নিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড, সেটির প্রমাণও দিয়েছে মিরপুর। প্রথম দিনেই নেই দুদলের ১৫ উইকেট। বৃষ্টি যদি ম্যাচের পরিধি না বাড়াত, তাহলে দুদিনের মাথায় ফল আসাটাও অস্বাভাবিক কিছু ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়কের কাছেও গিয়ে ছিল এমন প্রশ্ন। শান্ত কিছুটা ধীরস্থির হয়েই সব বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন এবং কোথায় হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়া উচিত। নিজের মতো জানিয়ে অধিনায়ক দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছেন জেতার কথা, ‘টেস্ট ক্রিকেটে তো ইমপ্রুভ করতে আসিনি। জিততে এসেছি। এখানে জেতার জন্য প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া উচিত, তা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের (উইকেটের) অ্যাডভান্টেজ অবশ্যই নেওয়া উচিত।’
নিজের মতামতের যুক্তিও দেখিয়েছেন শান্ত, ‘আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় যে, যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলি, সেখানে আমরা ভালো উইকেটে বা এমন কন্ডিশন বানিয়ে প্র্যাকটিস করতে পারি। যখন ঘরের মাটিতে খেলব আমরা এনসিএলে এমন উইকেটে খেললাম। আবার অ্যাওয়ের জন্য দুই-তিনটা উইকেট আমরা এভাবে বানালাম। কিন্তু আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্র্যাকটিসের জায়গা না। এখানে ইমপ্রুভ করারও কিছু নেই, ভালো উইকেটে খেলে আমরা ভালো ম্যাচ খেললাম। এখানে আমরা জেতার জন্য আসি।’
জয়ের চিন্তা মাথায় রেখেই ঢাকার উইকেট বানানো হয়েছিল, তা শান্তর আগেও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও প্রমাণ দিয়েছেন। গতকাল চার দিনে টেস্ট ম্যাচ হারার পর শান্তও আরেকবার জানিয়েছেন নিজেদের হারের কারণও, ‘সিলেটের উইকেটটায় বোলারদের জন্য খুব বেশি হেল্প যে ছিল, তা বলব না। বোলাররা বোলিং করেছে, ব্যাটাররাও কষ্ট করে রান করেছে। এই টেস্টের কথা যদি বলি, ব্যাটাররা খুব একটা ভালো ব্যাটিং করেনি। প্রথম ইনিংসে ২৩০-২৪০ রানের উইকেট ছিল। ওই জায়গায় রানটা কম করার কারণে মনে হয়েছে উইকেটটা অনেক খারাপ। অবশ্যই নতুন বলে চ্যালেঞ্জ ছিল, প্রত্যেকটা সিচুয়েশনই থাকে, যখন আমরা অ্যাওয়েতে খেলি, তখনও নতুন বলের চ্যালেঞ্জটা থাকে। আমরা ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করলে হয়তো এই হার আসত না।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোশাকের সিরিজ শেষে আজ রাতেই একদল ঢাকা ছাড়বে। কিউই মুলুকের উদ্দেশে আরেক দল যাবে ১১ তারিখের পর। বিশ্বকাপ এবং টানা সিরিজ খেলাকে চ্যালেঞ্জ দেখলেও মানিয়ে নিতে চাইছেন শান্ত। তবে অধিনায়ক হিসেবে এমন সিরিজ কাটিয়ে বেশ খুশি শান্ত।
মূলত খেলোয়াড়দের নিবেদনের প্রতি মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘এখানে যে খেলোয়াড়রা ছিল, অ্যাপ্রোচ খুবই ভালো, সবার শরীরী ভাষা খুব ভালো ছিল। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, সবাই জিততে চেয়েছে। তো এদিক থেকে ভাবলে খুবই খুশি যে ওরা সবাই মিলে একসঙ্গে দল হিসেবে আমরা খেলতে চেয়েছি, তো ভবিষ্যতে যদি আমরা এই দলটা নিয়ে এগোতে পারি তাহলে আশা করছি যে, টেস্ট দলটা আরও ভালো জায়গায় যাবে।’
নিজেও উপভোগ করছেন অধিনায়কত্ব, মাঠে এবং মাঠের বাইরের অধিনায়কত্বও খুব করে শিখছেন শান্ত। গতকাল সহজ স্বীকারোক্তিতে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে সাদা পোশাকের দলকে নেতৃত্ব দেওয়া শান্ত বলেছেন, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রথমত খুবই গর্বিত। প্রথম ম্যাচটা খুবই ভালো খেলেছি। দ্বিতীয় ম্যাচটায় সবার শরীরী ভাষা খুব ভালো ছিল। ১৩৭ টার্গেট দিয়েছিলাম, তারপর বোলাররা যেভাবে চেষ্টা করেছে, তাতে আমি বেশ খুশি।’
শান্ত বলেছেন, ‘উন্নতির জায়গা আছে, ব্যাটিংয়ে আরেকটু ভালো আমরা কীভাবে করতে পারি... এই জায়গাটায় একটু ঘাটতি আছে। আমি বলব না আমাদের ইমপ্রুভ হচ্ছে না, এখানে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা একদমই নতুন। কিন্তু দেখে কারও মনে হয়নি তারা নার্ভাস। আর মাঠের বাইরের অধিনায়কত্বে আস্তে আস্তে অভিজ্ঞতা হচ্ছে। তো অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। সামনে যদি সুযোগ আসে, তাহলে এ অভিজ্ঞতাগুলো আরও হবে।’