× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঢাকা টেস্টে হার

সিরিজ জয়ের আশাভঙ্গ

হেলাল নিরব

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:০৬ পিএম

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ০০:১৯ এএম

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজটি ফয়সালা হয়েছে ১-১ সমতায়— আ. ই. আলীম

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজটি ফয়সালা হয়েছে ১-১ সমতায়— আ. ই. আলীম

জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হাতছানি দিচ্ছিল আরেকটি ‘প্রথমের’। সিলেট টেস্টে জয়ের পর সিরিজ জেতার পথে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। শেষটায় আশাভঙ্গের বেদনা। শনিবার তীরে তরি ভেড়ানোর মিশনে পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কাছে টাইগাররা হেরেছে ৪ উইকেটে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজটি ফয়সালা হয়েছে ১-১ সমতায়।

মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা গড়ানোর আগে থেকেই ঘুরেফিরে আসছিল দুটি ইংরেজি শব্দ— স্পিন আর হোম অ্যাডভান্টেজ। খেলা শুরুর পর সেটি বদলে দাঁড়াল ‘ব্যাটল অব স্পিনে’। ১৫ উইকেট হারানো প্রথম দিনে সেই স্পিনযুদ্ধের আভাসটা দিয়ে রাখে দুদলই। তবে শেষ ভালোর যুদ্ধে ব্যাট হাতে গ্লেন ফিলিপস ও কিউই স্পিনাররা গড়ে দেন পার্থক্য। তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ হারে স্পিনের কাছেই।

কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বপ্নের শুরুটা দলের পক্ষেই ছিল। টস জিতে ব্যাটিংয়ে আসা নাজমুল হোসেন শান্তরা তবে পারেননি। কিউই ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসের পর কুপোকাত হন দ্বিতীয় ইনিংসেও। বাংলাদেশকে ১৭২ রানে থামাতে ব্ল্যাক ক্যাপস স্পিনাররা নিলেন ১০ উইকেটের ৯টি। বাংলাদেশের স্পিনাররাও কম গেলেন না। খেলার চতুর্থ ইনিংসে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন সম্ভবও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও কিউইদের ত্রাতা হলেন গ্লেন ফিলিপস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২৭ রান আর ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা ফিলিপসের কাছেই যেন হেরেছে বাংলাদেশ।

অবশ্য মিরপুরে প্রথম দিন শেষে অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে ছিল যে, খেলা দুদিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। সেখানে বাগড়া বৃষ্টির। পুরো দ্বিতীয় দিন গিলে খেল বেরসিক আবহাওয়া। তৃতীয় দিনেও খেলা হলো মোটে এক সেশন। ফিলিপসের তাণ্ডব বাদ দিলে ওইদিনও ছিল তাইজুলদের। কিন্তু চতুর্থ দিনের সকালেই ভেস্তে যায় সব আশা। অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় স্বাগতিকরা। যদিও ১৩৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে তাইজুলরা ৬৯ রানেই কিউইদের ছয় ব্যাটারকে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু ফিলিপস-স্যান্টনার জুটির কাছে সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের।

টেস্ট ক্রিকেটে ২৩ বছরের পথচলায় জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া আর কোনো দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি করে টেস্ট জিতলেও আরেকটি ম্যাচ হেরে যাওয়ায় সিরিজ ড্র হওয়াই ছিল প্রাপ্তি। নতুন কিছু অর্জনের এবারও হয়নি।

ম্যাচ শেষে যদিও সেই কারণে আক্ষেপ ঝড়েনি বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্তর কণ্ঠে। বরং ‘ব্যাটল অব স্পিনে’ তিনি পুরো চার দিন ধরে চলা ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ শব্দ দুটির পক্ষেই আবার ভোট দিলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ইমপ্রুভ করতে আসিনি— জিততে এসেছি। এখানে জেতার জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া উচিত, তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ধরনের অ্যাডভান্টেজ অবশ্যই নেওয়া উচিত।’

সিলেট টেস্টেও ছিল স্পিনরাজত্ব। ঢাকাতেও অনুমিত ছিল লড়াইটা হতে যাচ্ছে স্পিনে। কিউইদের হয়ে প্রায় প্রতিটা খেলোয়াড়ই বলছিলেন বাংলাদেশের ব্লুপ্রিন্ট পেয়ে যাওয়ার কথা। সিরিজে সমতা ফেরার পর কিউই অধিনায়ক টিম সাউদির কাছেও গিয়েছিল অমন প্রশ্ন, ‘বাংলাদেশ হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে চাইল তা ব্যাকফায়ার করল। কতটা স্বস্তিদায়ক?’

সাউদি অবশ্য সবকিছু স্বাভাবিক মেনে জয়ের কথাটাই বেশি বলেছেন, ‘আসলে দুনিয়ার এই প্রান্তে কন্ডিশন, উইকেট সবকিছুই আমাদের অচেনা হওয়া স্বাভাবিক। টসে হারাটাও ভালো দিক ছিল না। এত কিছুর পরও এমন কঠিন উইকেটে দিনশেষে জিততে পারাটা বেশ আনন্দের। প্রথম ম্যাচের পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোটা দারুণ ব্যাপার।’

আবহাওয়া বাদ সাধায় চার দিনে গড়ানো ঢাকা টেস্টের নায়ক মূলত ফিলিপস। চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্পিনে ১৩৬ রানে আটকে রাখে নিউজিল্যান্ড। প্যাটেলের হওয়া দিনটি শেষে নিজেদের করে নেন স্যান্টনার। ৪৮ বলে ৪০ রান করা ফিলিপসের সঙ্গে গড়েন ৭০ রানের জুটি। ৭৭ বলে ম্যাচজয়ী জুটিতে ৩৯ বলে স্যান্টনার করেন ৩৫ রান। স্বাগতিকদের হারটাকে অনিবার্য করে তোলেন এ দুজন। 

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ওপরের দিকে ওঠা কিংবা সাদা পোশাকের ক্রিকেটে আরেকটি সিরিজ জয়ের আক্ষেপ হয়ে থাকল এই ঢাকা টেস্ট।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা