ঢাকা টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:৪৮ পিএম
বোলারদের জন্যও টার্গেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন ফিলিপস— ছবি: বিসিবি ভিডিও
ঢাকা টেস্টের অবস্থা এখন অনেকটা সাদা বলের কোনো ক্রিকেট ম্যাচের মতো—দ্বিতীয় ইনিংসে যারা ভালো করবে, পাঁচ দিনের টেস্ট হবে তাদের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টেও হয়েছিল এমনটাই। সেবারও হাড্ডাহড্ডি লড়াইয়ের পর ৭ রানের লিড পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এবার লিড ৮ রানের।
তৃতীয় দিনে খেলা শুরুর আগে টাইগারদের বড় রানের লিডের আশায় পানি ঢেলে দেওয়া গ্লেন ফিলিপস জানিয়েছেন, তারা আর প্রথম টেস্টের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না। সিলেট টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৫০ রানে হেরেছিল নিউজিল্যান্ড। ঢাকায় সেই ভুল এড়াতে মরিয়া সফরকারী শিবির। বাংলাদেশকে দুশ রানের নিচে আটকে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন ফিলিপস।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মলনে এই কিউই প্রতিনিধি বলেন, ‘সত্যি বলতে প্রথম ইনিংসে আমাদের শুরুটা ছিল যাচ্ছেতাই। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা দুর্দান্ত কিছু ক্যাচও নিয়েছে, যা আমাদের কিছুটা ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে। তবে আমার মনে হয় উইকেট পরিবর্তন হবে না। এখানে ১৮০ বা ২০০ রানের কাছাকাছি একটা লক্ষ্য পেলে সেটার জবাব দেওয়া কঠিন হবে না। আমরা তাদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারলেই বেশি খুশি হব।’
নিউজিল্যান্ড ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর প্রশ্ন উঠেছিল খেলা কি দুদিনেই শেষ হতে যাচ্ছে! সেই শঙ্কা বাস্তব হতে দেয়নি বৃষ্টি। তৃতীয় দিনে ফিলিপসের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের পরিধি এখন বড় হয়েছে আরও।
অপরপাশে আসা-যাওয়ার মিছিলের মধ্যেও ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৭ রান আসে এই কিউই অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। এই ইনিংস খেলার সময় ফিলিপসের পরিকল্পনা ছিল বেশি বল খেলা, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল যত বেশি সম্ভব বল ব্যাটে খেলা। ব্যাট হাতে প্রভাব রেখে যাওয়া। বুঝতে পারছিলাম তারা ভালো বল করবে। আমি প্রতিআক্রমণে কী করতে পারি সেটাই করতে চাইছিলাম।’
ব্যাটিংয়ে নিজের উজ্জ্বল দিনেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ফিলিপস। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হওয়ার পর বেশ কয়েকবার সামনের দিকে আঙুল দিয়েও কিছু একটা দেখাচ্ছিলেন।
কী হয়েছিল, ম্যাচশেষে ফিলিপস খোলাসা করেছেন সেটিও, ‘একদম শেষ মুহূর্তে শরিফুল যখন বল ছাড়তে যাবে, তখন কেউ একজন সাইট স্ক্রিনের পাশ থেকে হেঁটে বের হয়ে আসে। আমার বল ছেড়ে সরে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু মাথায় তখন চলছিল যে হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি বলটা ঠিকমতো দেখিনি, আবার সরেও যাইনি। আমি কোনোটাই করিনি এবং শেষমেশ বলে খোঁচা দিয়ে ফেলি।’
কিউইদের খুঁটি হয়ে থাকা ফিলিপস ফেরার পর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি কিউইরা। বাংলাদেশকে কর্তৃত্ব করতে দেননি ফিলিপস। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে সফরকারীদের করণীয়টাও যেন দেখিয়ে দিলেন তিনি। বোলারদের জন্যও টার্গেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন ফিলিপস, ‘দুশ রানের নিচে স্বাগতিকদের আটকাতে হবে।’